
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন তৈরি হয়। যখন এই গ্রন্থি পর্যাপ্ত পরিমাণ হরমোন তৈরি করতে পারে না, তখন একে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে।
প্রাইমারি হাইপোথাইরয়েডিজম—থাইরয়েড গ্রন্থি নিজেই যখন আক্রান্ত হয়। এর প্রধান কারণ অটোইমিউন রোগ ও আয়োডিনের অভাব।
সেন্ট্রাল অথবা সেকেন্ডারি হাইপোথাইরয়েডিজম—পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোথ্যালামাসের সমস্যার কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি উদ্দীপ্ত হতে পারে না।
থাইরয়েড গ্রন্থির সম্পূর্ণ বা আংশিক অপসারণ কিংবা রেডিয়ো আয়োডিন থেরাপি।
জন্মগত বা জিনগত ত্রুটি, থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে এনজাইম ত্রুটি, থাইরয়েড গ্রন্থি জন্মগতভাবে অনুপস্থিত থাকা।
নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ—যেমন লিথিয়াম, অ্যামিও ডারন, ইন্টারফেরন ইত্যাদি।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে এই রোগ পুরোপুরি মোকাবিলা করা যায় না। তবে খাদ্যাভ্যাস উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভালো লাগা ও মানসিক শক্তি বাড়ায়।
থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে দরকার হয় আয়োডিন; ভিটামিন সি, ডি ও বি১২; জিংক, কপার, সেলেনিয়াম ইত্যাদি। আয়োডিন যুক্ত লবণ (পরিমিত পরিমাণে), সামুদ্রিক মাছ (স্যামন, টুনা, সারডিন), দুধ, ডিম, ইয়োগাট, স্পিরিলুনা, কডলিভার অয়েল উপকারী।
আমলকী, লেবু, পেয়ারা, কমলা, আঙুর, স্ট্রবেরি, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি এবং লাল আটার রুটি, ব্রাউন রাইস, ওটস, বাদাম, অ্যাভোকাডো, রসুন, পেঁয়াজ, মাশরুম ও মিষ্টি আলু উপকারী।
ক্রুসিফেরাস গোত্রের সবজি থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে কিছুটা বাধা দেয়। তবে রান্না করে পরিমিত পরিমাণ খেলে সমস্যা হয় না। যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, ব্রকলি ইত্যাদি।
সয়াজাতীয় খাবার যেমন সয়াবিন, সয়া মিল্ক, সয়া নাগেটস, টফু ইত্যাদি থাইরয়েড হরমোনের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। পরিমিত পরিমাণে খেতে পারবেন ওষুধ খাওয়ার অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পর।
ওজনাধিক্য থাইরয়েড রোগীদের একটি সমস্যা। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, ফাস্ট ফুড ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
থাইরক্সিন ট্যাবলেট সকালে নাশতার এক ঘণ্টা আগে খালি পেটে প্রতিদিন একই সময় এক গ্লাস পানির সঙ্গে খাবেন। কিছু ওষুধ যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম ও গ্যাসট্রিক-আলসারের ওষুধ থাইরক্সিন খাওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে না খাওয়া ভালো।
সকালে ট্যাবলেটটি খেতে ভুলে গেলে বিকেলে খেতে পারেন, তবে খালি পেটে মানে শেষ খাবারের অন্তত ৩ ঘণ্টা পর খাবেন। যদি কোনো দিন ভুলে যান, তবে পরের দিন সকালে দুটো একসঙ্গে খেতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা ডোজের পরিবর্তন করা যাবে না।
ডা. অনন্ত কুমার কুন্ডু, ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ; চেম্বার: আলোক হেলথ কেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা