থাইরয়েড ও পুষ্টি—এই দুটো বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। থাইরয়েড হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম এমনকি মস্তিষ্কের বিকাশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোনগুলো ঠিকভাবে তৈরি হতে গেলে দরকার সঠিক পুষ্টি। তাই থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েডের প্রধান জ্বালানি
থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য আয়োডিন অপরিহার্য। বাংলাদেশে আয়োডিনের ঘাটতি একসময় বড় সমস্যা ছিল। এখনো দেশের কিছু এলাকায় এই ঝুঁকি আছে। আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি ও সি-উইড (সমুদ্রের শৈবাল) আয়োডিনের অন্যতম উৎস।
অতিরিক্ত আয়োডিনও ক্ষতিকর—বিশেষ করে অটোইমিউন থাইরয়েড রোগে। থাইরয়েড হরমোন সক্রিয় করার জন্য সেলেনিয়াম খনিজের প্রয়োজন। সেলেনিয়াম টি-৪ থেকে টি-৩-তে রূপান্তর করার জন্য দরকার হয়। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে, থাইরয়েডকে প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। ডিম, মাছ, বাদাম (বিশেষ করে ব্রাজিল নাট), ডাল সেলেনিয়ামের উৎস।
হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে জিংক। জিংকের ঘাটতি হলে টিএসএইচ ও থাইরয়েড হরমোন কমে যেতে পারে। মাংস, ডিম, দুধ, ডাল ও বাদামে জিংক থাকে।
কিছু খাবার থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে বাধা দিতে পারে। যেমন গয়ট্রোজেনিক খাবার। গয়ট্রোজেনিক খাবারগুলো হলো বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, সয়াবিন ও শালগম।
ভিটামিন ডি ও থাইরয়েড
অটোইমিউন থাইরয়েড রোগে (হাশিমোটো, গ্রেভস) ভিটামিন ডি ঘাটতি বেশি দেখা যায়। রোদ, ডিম, মাছ ও দুধ ইত্যাদি ভিটামিন ডি-এর উৎস। আয়রনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড হরমোন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। আয়রনের উৎসগুলো হলো লাল মাংস, কলিজা, পালংশাক, ডাল ইত্যাদি।
হাইপোথাইরয়েডিজমে খাদ্যাভ্যাস
কম ক্যালরি, উচ্চ ফাইবার।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাবার।
পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।
আয়োডিনযুক্ত লবণ।
সেলেনিয়াম ও জিংকসমৃদ্ধ খাবার।
থাইরয়েড রোগীদের জন্য পরামর্শ
নিয়মিত থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করুন।
ওষুধ খাওয়ার সময়সূচি ঠিক রাখবেন।
ক্যালসিয়াম বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট ও থাইরয়েড ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করুন।