
আজ ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য—জীবনব্যাপী হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা। শৈশবে হাড় গঠন, যৌবনে তা ধরে রাখা এবং বার্ধক্যে হাড়ক্ষয় রোধ—জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই সচেতনতা প্রয়োজন।
অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয় একটি নীরব রোগ। এতে হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অনেক সময় হাড় ভাঙার আগে কোনো লক্ষণই বোঝা যায় না। মেনোপজের পর নারীদের এবং বয়স্ক পুরুষদের ঝুঁকি বেশি। সামান্য আঘাতেই কবজি, মেরুদণ্ড বা ঊরুর হাড় ভেঙে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা ও শয্যাশায়ী হওয়ার অন্যতম কারণ।
এ বছর আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশন অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে তিনটি মূল পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, শক্ত হাড় গঠন করুন। এ জন্য অল্প বয়স থেকেই যথেষ্ট ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান এবং নিয়মিত হাঁটাসহ ওজন বহনকারী ব্যায়াম করুন। দ্বিতীয়ত, হাড়কে সুরক্ষা দিন। নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন, প্রয়োজনে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা (ডেক্সা স্ক্যান) করান এবং পতন এড়িয়ে চলুন। তৃতীয়ত, অস্টিওপোরোসিস ধরা পড়লে বা হাড় ভাঙলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করুন।
করণীয়
দুধ, দই, কাঁটাসহ ছোট মাছ ও সবুজ শাকসবজি খান।
সকালের রোদে ১৫-২০ মিনিট থাকুন।
নিয়মিত হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম করুন।
ধূমপান ত্যাগ করুন।
মনে রাখবেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য। সময়মতো সচেতন হলে হাড় ভাঙা রোধ করা সম্ভব এবং স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা ধরে রাখা যায়। হাড়ের যত্ন আজ থেকেই শুরু করুন।
ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়