শজনেডাঁটা আমাদের পরিচিত সবজি। ডাঁটার পাশাপাশি এর পাতাও খাওয়া যায়। এই অঞ্চলে হাজার বছর ধরে খাবারের তালিকায় আছে এটি। শজনেডাঁটা ও পাতা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। প্রথাগত ওষুধ হিসেবেও এই পাতা ও ডাঁটা ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন। এমনকি এর বীজও মসলা হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন আছে। তাজা, শুকনা কিংবা গুঁড়া—বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় শজনেপাতা। সামান্য তেতো স্বাদের এই পাতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে শরীরের জন্য জরুরি নানা পুষ্টি উপাদান।

শজনেপাতা ও শজনেডাঁটা—দুটিই পুষ্টিগুণে ভরপুর। বিশেষত এর পাতা ‘সুপারফুডের’ কাছাকাছি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, এক কাপ কুচি করা শজনেপাতা থেকে ১৩ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া এতে পাবেন—
২ গ্রাম প্রোটিন
২ গ্রাম শর্করা
শূন্য দশমিক ৩ গ্রাম চর্বি
শূন্য দশমিক ৫ গ্রাম আঁশ (ফাইবার)
শজনেপাতার মতো শজনেডাঁটাও যথেষ্ট পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। লবণ দিয়ে সেদ্ধ করা ১০০ গ্রাম শজনেডাঁটায় থাকে—
৩৬ ক্যালরি
শূন্য দশমিক ২ গ্রাম চর্বি
২ দশমিক ১ গ্রাম প্রোটিন
৮ দশমিক ২ গ্রাম শর্করা
৪ দশমিক ২ গ্রাম আঁশ
শজনেপাতা ও ডাঁটা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামেরও ভালো উৎস। এ ছাড়া এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আয়রন থাকে।
শজনেপাতা ও ডাঁটা অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর। অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শরীরের জন্য জরুরি। এটি ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি (অক্সিডেটিভ স্ট্রেস) থেকে কোষকে রক্ষা করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রদাহকে (ইনফ্ল্যামেশন) বাড়িয়ে দেয়। এই প্রদাহ ডায়াবেটিস, ডিমেনশিয়া, করোনারি আর্টারি ডিজিজ ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ সৃষ্টি করে।
শজনেপাতা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন কে–এর মতো পুষ্টি উপাদান থাকে।
শজনেপাতায় থাকা এসব পুষ্টি উপাদান অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের সঙ্গে মিলে শক্তিশালী হাড় গঠনে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়জনিত সমস্যা প্রতিরোধেও এটি ভূমিকা রাখে।
শজনেপাতায় থাকে ভিটামিন এ। এটি দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করার মাধ্যমে ‘ম্যাকুলার ডিজেনারেশন’–এর মতো বয়সজনিত চোখের রোগ থেকে রক্ষা করে।
শজনেপাতা ও ডাঁটা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ। কিন্তু এতে ক্যালরি কম। শজনেপাতা ও ডাঁটা ক্ষুধা কমায়। এটি খেলে লম্বা সময় পেট ভরা থাকে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবার বিপাকক্রিয়া বাড়ায় এবং সারা দিন শরীরের শক্তির মাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ রাখে।
শজনেপাতা নিয়মিত খেতে পারেন। তবে এটি আলাদাভাবে ওষুধের মতো করে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্য সব শাকসবজির মতোই এটি খাওয়া যেতে পারে।
সালাদ, তরকারি কিংবা ভাজি করে খেতে পারেন। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে নিয়মিত খেলেই উপকার পাওয়া সম্ভব।
শজনেপাতা বা ডাঁটার খুব বেশি ঝুঁকি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে গাছের শিকড়, বাকল ও ফুল খাওয়া নিরাপদ নয়।
আবার এটি বেশি পরিমাণেও খাওয়া যাবে না। এতে ডায়রিয়া, গ্যাস বা বমিভাব দেখা দিতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা বা স্তন্যদানকারী নারীদের শজনেপাতা খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
এ ছাড়া যাঁরা নিচের ওষুধগুলো গ্রহণ করেন—
রক্ত পাতলা করার ওষুধ
রক্তচাপ কমানোর ওষুধ
কোলেস্টেরল কমানোর স্ট্যাটিন
ডায়াবেটিসের ওষুধ
থাইরয়েডের ওষুধ
যকৃতে প্রক্রিয়াজাত হয়, এমন ওষুধ
তাঁদের শজনেপাতা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, শজনেডাঁটায় কারও কারও অ্যালার্জি থাকতে পারে, তাই অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক