ফেসবুক গ্রুপ থেকে যে ক্লাবের জন্ম

প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে ফটোগ্রাফি ক্লাব। শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন এসব ক্লাব। ছবি তোলার চর্চার পাশাপাশি একে অপরের কাছ থেকে শিখছেন তাঁরা, আয়োজন করছেন নানা অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী। ক্যাম্পাসের আলোকচিত্রীরা নিশ্চয়ই তাঁদের প্রিয় প্রাঙ্গণকে একটু ভিন্ন চোখে দেখেন।

বাকৃবির ক্যাম্পাসটাই এত অপূর্ব, দারুণ সব ছবি তোলার সুযোগ শিক্ষার্থীরা হাতের কাছেই পেয়ে যান
ছবি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সৌজন্যে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির ফেসবুক গ্রুপে ঢুঁ মারতেই চোখে পড়ল ক্যাম্পাসের আইকনিক ভাস্কর্য বিজয় ’৭১-এর একটি ছবি। যে বছর চারেক ক্যাম্পাসে কাটে, ঘুরেফিরে এখানকার ছবিই বেশি তোলা হয় ক্লাবের সদস্যদের। কারণ, বাকৃবির ক্যাম্পাসটাই এত অপূর্ব, দারুণ সব ছবি তোলার সুযোগ শিক্ষার্থীরা হাতের কাছেই পেয়ে যান। জানিয়ে রাখি, ফটোগ্রাফিক সোসাইটির ফেসবুক গ্রুপটিতে এখন সদস্য আছেন ১৭ হাজার।

২০১৫ সালে ‘অ্যামেচার ফটোগ্রাফারস অব বিএইউ’ নামে শুরু হওয়া গ্রুপটিই আজকের ফটোগ্রাফিক সোসাইটি। সে সময় নিতান্তই শখের বশে ছবি আপলোড করতেন অনেকে। আস্তে আস্তে সংখ্যাটা বাড়তে থাকে। সবার আগ্রহ দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে সিদ্ধান্ত নেন, দল বেঁধে ছবি তুলতে বের হবেন তাঁরা। একাডেমিক কাজের অবসরে শুরু হয় ‘ফটোওয়াক’। এরপর এক সময় নিজেরা পরিকল্পনা করে আয়োজন করেছেন ছবির প্রদর্শনী। সেটিও নিজস্ব অর্থায়নে। এভাবে একসময় সংগঠিত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ক্যাম্পাস, তাই প্রদর্শনীগুলোতে প্রকৃতিই গুরুত্ব পায় বেশি। ‘সাউন্ড অব সউল’ নামের প্রদর্শনীটিতে যেমন শীতের সন্ধ্যায় একেকটি গাছে আলো ফেলে এমনভাবে ছবিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল যে মুগ্ধ হয়েছিল সবাই। বড় স্বপ্নের কথা বললেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল ইসলাম, ‘আমাদের সংগঠনটিকে একটি ফটোগ্রাফি শেখার ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করতে চাই।’