‘থিংকার্স ৫০ হল অব ফেম’-এ বাংলাদেশের সুবীর চৌধুরী

সুবীর চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘থিংকার্স ৫০ হল অব ফেম ২০২৩’–এ জায়গা করে নিয়েছেন সুবীর চৌধুরী।
বিশ্বের নানা প্রান্তের ব্যবস্থাপনাবিষয়ক (ম্যানেজমেন্ট) চিন্তাবিদদের স্বীকৃতি দিয়ে ‘থিংকার্স ৫০’ তাদের ভাবনা ও পরামর্শ প্রকাশ করে। এই উদ্যোগেরই অন্যতম বিভাগ ‘থিংকার্স ৫০ হল অব ফেম’। এই বিভাগে মনোনীত হন ব্যবস্থাপনা খাতের সেসব ‘মাস্টারমাইন্ড’, যাঁরা বৈশ্বিকভাবে সমাদৃত এবং কাজের মাধ্যমে নানাভাবে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছেন। এ বছর সুবীর চৌধুরীর সঙ্গে হল অব ফেমে আরও জায়গা করে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লিঙ্গসমতা বিশেষজ্ঞ আভিভাহ উইটেনবার্গ-কক্স, মার্কিন মনোবিদ ক্যারল ডোয়েক ও স্টিউ ফ্রিডম্যান, মার্কিন উদ্যোক্তা মার্গারেট হেফারনান, প্রয়াত মার্কিন ব্যবসায়ী ম্যাগি ওয়াকার এবং কানাডিয়ান লেখক ও অধ্যাপক মাইকেল ডি ওয়াটকিনস।

চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া সুবীর চৌধুরী স্নাতক করেন খড়গপুর আইআইটি থেকে। বিষয় ছিল উড়োজাহাজ প্রকৌশল। এরপর উচ্চতর ডিগ্রি নিতে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি থেকে শিল্পব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। সেখানেই কোয়ালিটি ও সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
এই ব্যবস্থাপনা পরামর্শক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানভিত্তিক এএসআই কনসাল্টিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কৌশলগত উদ্যোগ, গুণমান পরামর্শক ও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।
সুবীর চৌধুরীর লেখা বেশ কয়েকটি বিখ্যাত বই আছে। তবে ‘দ্য পাওয়ার অব সিক্স সিগমা’ বইটি ‘বেস্টসেলিং নন-ফিকশন’-এর স্বীকৃতি পেয়েছিল। তাঁর ‘ম্যানেজমেন্ট ২১ সি’ বইটিও ইউরোপের ১ নম্বর বাণিজ্যবিষয়ক বই হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ‘দ্য পাওয়ার অব সিক্স সিগমা’, ‘দ্য আইসক্রিম মেকার’সহ মোট ১৫টি বইয়ের লেখক এই ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ। বিভিন্ন দেশে বিক্রি হয়েছে তাঁর বইয়ের লাখ লাখ কপি। অনুবাদ হয়েছে ২০টির বেশি ভাষায়। প্রখ্যাত জাপানি কোয়ালিটি গুরু ড. জেনিচি টাগুচির সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন তিনটি বই।

কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট গুরু হিসেবে পরিচিত সুবীর চৌধুরীর নামে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে ফেলোশিপ আছে। আইআইটি খড়গপুর ‘সুবীর চৌধুরী স্কুল অব কোয়ালিটি অ্যান্ড রিলায়াবিলিটি’ নামে একটি বিভাগ চালু করেছে। থিংকার্স ৫০ তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, ‘যেভাবে আমরা ব্যবস্থাপনা বুঝি ও বৈশ্বিকভাবে চর্চা করি, তার অগ্রগতিতে এই চিন্তাবিদদের অসামান্য অবদান রয়েছে।’ নিউইয়র্ক টাইমস সুবীর চৌধুরীকে ‘লিডিং কোয়ালিটি এক্সপার্ট’এবং বিজনেস উইক ‘দ্য কোয়ালিটি প্রফেট’ নামে আখ্যায়িত করেছিল।
‘থিংকার্স ৫০ হল অব ফেম’-এ জায়গা পাওয়া প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে সুবীর চৌধুরী বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। পিটার ড্রাকার, ওয়ারেন বেনিস, চার্লস হ্যান্ডি, টম পিটার্স, ক্রিস ক্রিসটেনসেন, সি কে প্রহ্লাদের মতো বড় মানুষেরা এই হল অব ফেমে জায়গা পেয়েছেন। ২৫ বছর আগে আমি যখন এই সেক্টরে কাজ শুরু করি, তাঁরা আমার কাছে শুধু অনুপ্রেরণাই ছিলেন না, কেউ কেউ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুও হয়েছিলেন বটে। তাই নিজের কাজের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে একই মঞ্চে স্বীকৃতি পাওয়াটা খুবই আনন্দের অভিজ্ঞতা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রচেষ্টা ও সংকল্প থাকলে, স্বপ্ন পূরণ হবেই।’