
পড়াশোনা করতে করতেই অনেকে পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। কারও কারও ভালো আয়ও হচ্ছে। কেউ আবার আয়ের দিকে না ঝুঁকলেও ক্যাম্পাস–জীবন থেকেই কনটেন্ট বানিয়ে হাত পাকাচ্ছেন, যেন পরে কাজে লাগে এই অভিজ্ঞতা। আদতে পড়ালেখার পাশাপাশি কনটেন্ট বানানোর অভিজ্ঞতা কেমন, আমরা জানতে চেয়েছিলাম কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছে। দ্বিতীয় পর্বে পড়ুন ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের জে কে বাশার–এর লেখা।
পড়াশোনার পাশাপাশি আমার কনটেন্ট তৈরির শুরুটা ছিল খুব সাধারণ। তবে সেটাই আজ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। পড়ছি বিবিএতে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি যুক্ত আছি নানা ক্লাব কার্যক্রমে। পড়াশোনার বাইরে অলস বসে থাকা আমার স্বভাব নয়। অবসর সময়ে নতুন কনটেন্টের ভাবনা, বই পড়া, তরুণদের উপযোগী শিক্ষামূলক ভিডিও বানানো আর নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা—এসবেই সময় কাটে।
তবে একই সঙ্গে পড়ালেখা আর কনটেন্ট ক্রিয়েশন সহজ নয়। সময় ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি আর তার সঙ্গে ক্লাসের অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে লড়াইটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমার কনটেন্ট বানানোর পেশাদার যাত্রার সূচনা হয়েছিল একটি ইংরেজি কোচিং সেন্টারের কাজের অফার থেকে। তাদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করে প্রথম যে সম্মানী পাই, টাকার অঙ্কটা ছিল ১৪-১৫ হাজার। নিজের যোগ্যতা ও সৃজনশীলতা বেচে প্রথম উপার্জনের সেই অনুভূতি সত্যিই ভাষায় বোঝানো কঠিন! সেই অভিজ্ঞতা আমার ভেতরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভিডিও বানানোর পাশাপাশি যুক্ত হই পাবলিক স্পিকিং ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের কাজে। এ পর্যন্ত দেশের বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক স্পিকার হিসেবে কথা বলার সুযোগ আমার হয়েছে।
এখন শুধু ফেসবুকেই আমার পেজে প্রায় ৪ লাখ ফলোয়ার আছেন। সব প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে সংখ্যাটা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। তবে এই সংখ্যা বা অনুসারীর চেয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, তাদের কার্যকর যোগাযোগদক্ষতা বাড়ানো আর আত্মবিশ্বাসী করে তোলাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। ভবিষ্যতে তরুণদের দক্ষতা বিকাশ আর শিক্ষার প্রসারে আরও বড় পরিসরে কাজ করে যেতে চাই।