সহকর্মীর বেতন জিজ্ঞেস করা কি দোষের কিছু?

একটা সময় ছিল যখন কোম্পানিগুলো নিজেদের কর্মীদের বেতনের ব্যাপারটা গোপন রাখতে বলত। সেখান থেকে অনেক কোম্পানিই সরে এসেছে। কিন্তু কর্মীদের মধ্যে সেই চিন্তাধারা এখনো থেকে গেছে।

পুরো বিশ্বেই কারও বেতন জিজ্ঞাসা করা যেন একটা ট্যাবু
ছবি: কবির হোসেন

বেশ কয়েক বছর ধরেই একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করছেন তানভীর। কাজের প্রতি তাঁর নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন না কেউ। হঠাৎ একদিন সহকর্মীদের সঙ্গে কথায় কথায় জানতে পারলেন, কিছুদিন আগেই অফিসে যোগ দেওয়া এক জুনিয়র কর্মীর বেতন তাঁর থেকেও অনেক বেশি।

এমন কথা জানতে পেরে তানভীর অনেকটাই ভেঙে পড়লেন। যে অফিসের জন্য এত কাজ করছেন, সময় দিচ্ছেন, সেখানেই কিনা পদমর্যাদায় নিচে থাকা একজনের বেতন তাঁর থেকেও বেশি! এমনটা মেনে নেওয়া যায় না। এত দিন নিজের বেতন নিয়ে মাথা না ঘামানো তানভীর জনে জনে জিজ্ঞাসা করতে থাকলেন, তাঁদের বেতন কত? কেউ কেউ হাসিমুখে জানিয়ে দিলেও বাকিরা তাঁর আচরণে বিরক্তই হলেন। এমন অস্বস্তিকর কথা বলতে আগ্রহী নন অনেকেই।

অনেকেই বলেন, মেয়েদের বয়স আর ছেলেদের বেতন কখনো জিজ্ঞাসা করতে হয় না। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বেই কারও বেতন জিজ্ঞাসা করা যেন একটা ট্যাবু। সহকর্মীর সঙ্গে অনেক আলোচনাই করা যায়, কিন্তু বেতন নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই যেন সবাই মুখে কুলুপ আঁটেন। অলিখিতভাবে সবাই ধরেই নিয়েছেন, বেতন নিয়ে কথা বললেই যেন নতুন করে সমস্যা তৈরি হবে।

কোম্পানিগুলো আগে কর্মীদের বেতনের ব্যাপারটা গোপন রাখতে বলত

হুট করে কাউকে বেতন জিজ্ঞাসা করা দোষের কিছু নয়। কিন্তু সামাজিক কারণে বেতনের ব্যাপারটা ট্যাবুতে পরিণত হয়ে উঠেছে। একটা সময় ছিল যখন কোম্পানিগুলো নিজেদের কর্মীদের বেতনের ব্যাপারটা গোপন রাখতে বলত। সেখান থেকে অনেক কোম্পানিই সরে এসেছে। কিন্তু কর্মীদের মধ্যে সেই চিন্তাধারা এখনো থেকে গেছে।

কাকে এবং কীভাবে জিজ্ঞাসা করবেন?

হঠাৎ দেখা হলে, কিংবা গণপরিসরে কারও সঙ্গে দেখা হলে দুম করে কাউকে বেতনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন না; বরং যদি কারও বেতন জানতেই চান, তাহলে আগে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কটা সহজ করে নিন। তারপর জিজ্ঞাসা করুন।

আগে নিজের বেতন বলে নিন

অন্যকে সরাসরি জিজ্ঞাসা না করে আগে নিজের বেতনটা বলে নিন। এতে আলোচনা অনেকটাই সহজ হয়ে আসবে, তখন বেতনের কথাটি জিজ্ঞাসা করা সহজ হয়ে যাবে।

ঘনিষ্ঠ কাউকে জিজ্ঞেস করুন

নতুন কেউ যোগ দিলেই তাঁকে বেতন জিজ্ঞাসা করবেন না; বরং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ করে তুলুন। এতে আপনাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়বে; তখন খুব সহজেই বেতন নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।

‘না’ শুনলে পিছু হটুন

সবাই নিজের বেতন জানাতে আগ্রহী হন না। কেউ যদি নিজের বেতন বলতে না চান, তাহলে তাঁকে জোর করবেন না। এমনকি পরবর্তী সময়েও তাঁকে এ নিয়ে জোরাজুরি বা একই প্রশ্ন করবেন না। এটিই ভদ্রতার বহিঃপ্রকাশ।

বলে বেড়াবেন না

যিনি আপনাকে তাঁর বেতনটা বলেছেন, তিনি কিন্তু আপনাকে বিশ্বাস করেই বলেছেন। তাই তাঁর বিশ্বাস ভঙ্গ করবেন না; বরং তাঁর বেতনের ব্যাপারটি গোপন রাখুন। এতে আপনার তথ্যও জানা হবে, সম্পর্কও ভালো থাকবে।

সহকর্মীর বেতন নিয়ে কথা বলা, আলোচনা করা দোষের কিছু নয়; বরং আপনার ন্যায্য পাওনা বুঝে নিতে অনেক সময় অন্যের বেতন সম্পর্কে জানার প্রয়োজন পড়ে। তবে বেতন জিজ্ঞাসা করার আগে সম্পর্ক, পরিবেশ ও পরিস্থিতির বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝে নিন।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট