অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে রসায়নে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করছেন এই তরুণ
অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে রসায়নে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করছেন এই তরুণ

পূর্ণ বৃত্তিসহ যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করছেন মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজের সাব্বির

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ভালো সিজিপিএ না-ও আসতে পারে নানা কারণে। তাই বলে কি ভিনদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেমে যাবে? কারও কারও অভিজ্ঞতা কিন্তু বলছে, এই বাধাও অতিক্রম করার উপায় আছে।

শৈশবে নামের আগে ‘ডক্টর’ বসানোর স্বপ্ন ছিল সাব্বির আহমেদের। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর যখন কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা হলো না, স্বপ্নটা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মুন্সিগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ভর্তি হন তিনি। স্নাতকে পান সিজিপিএ–৩.৩৬। রেজাল্ট মন্দ নয়। কিন্তু এই রেজাল্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তিসহ পিএইচডি করা কঠিন। সেটাই করে দেখিয়েছেন সাব্বির। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে রসায়নে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করছেন তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষে সাব্বির বুঝতে পেরেছিলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রমাণ করতে হলে গবেষণার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই ভর্তি হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট)। মাস্টার্সের জন্য কুয়েটে ভর্তি হওয়া ছিল জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট, এখানেই তাঁর গবেষণার হাতেখড়ি। সাব্বির বলেন, ‘গবেষণায় আমরা পাটকাঠি থেকে হাইড্রোজেল তৈরি করেছি, যা ড্রাগ ডেলিভারি ও পানিদূষণ রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া পাটকাঠি থেকে তৈরি বায়োডিগ্রেডেবল ফিল্ম প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে। যখন আমার প্রথম রিসার্চ পেপার ছাপা হয়, সেদিন সারা রাত এটা নিয়েই ভেবেছি। মনে হয়েছে, স্বপ্ন পূরণের দিকেই হাঁটছি।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৪০০ প্রেজেন্টারের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা ছিল সাব্বিরের আত্মবিশ্বাসের বড় জ্বালানি। এরপর চারটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন, একাধিক কনফারেন্সে অংশ নিয়েছেন। এ অভিজ্ঞতাই মূলত তাঁকে ফুল ফান্ড স্কলারশিপ পেতে সাহায্য করেছে। কোনো পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে নয়, নিজ উদ্যোগে সব কাগজ তৈরি করে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেছেন সাব্বির। একের পর এক প্রত্যাখ্যান এলেও থেমে যাননি। বলছিলেন, ‘গণনা করলে হয়তো দেখা যাবে, তিন শতাধিক অধ্যাপককে ই–মেইল করেছি। একদিন খুব ক্লান্ত হয়ে বলছিলাম, আল্লাহ, অনেক কষ্ট হচ্ছে, আর পারছি না। কিন্তু অবার্নের অফার লেটার পাওয়ার পর সেই কষ্টের কথা ভুলে গিয়েছি। খুশিতে মা আর আমি—দুজনই কেঁদে ফেলেছি।’

সাব্বির হোসেন মনে করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তাঁর পরামর্শ, ‘কোথায় পড়ছি, সেটা আমার স্বপ্ন পূরণে বাধা হতে পারে না। লক্ষ্য ঠিক করো, পরিশ্রম করো, সফলতা আসবেই।’