ঘরের ছোট সদস্যের জন্য বা পছন্দের মানুষের মান ভাঙাতেই শুধু চকলেট কেন? চকলেট কিনুন নিজের জন্য, ঘরের বয়স্ক মানুষদের জন্যও। কারণ, চকলেট শুধু মিষ্টিজাতীয় সুস্বাদু খাবারই নয়, এতে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। আজ বিশ্ব চকলেট দিবসে জেনে নেওয়া যাক চকলেটের ভালো–মন্দ!
১. ডার্ক চকলেটে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় কোকোয়া। কোকোয়ায় খনিজ পদার্থ ও দ্রবণীয় আঁশ রয়েছে। এ ছাড়া এতে প্রচুর জিংক আছে, যা শরীরের নানান এনজাইম সক্রিয় করার পাশাপাশি বিপাকক্রিয়া বাড়ায়। এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে রয়েছে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ফসফরাস ও সেলেনিয়াম।

২. চকলেটের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভানল রক্তচাপ হ্রাস করে। কোকোয়া এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
৩. সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে পাঁচ দিন চকলেট খায়, তাদের মস্তিষ্ক অন্যদের চেয়ে বেশি সচল। কারণ, চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভানল মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। এটি পারকিনসনের মতো রোগ হওয়া থেকে বাঁচায়। তাই বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্যও এটি অনেক উপকারী।
৪. দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধক্ষমতা রয়েছে কোকোবীজে। তাই রোগমুক্তভাবে সুস্থ রাখতে এটি সহায়তা করে। পরিমিত চকলেট খাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ জীবন লাভের সূত্রও লুকিয়ে আছে।
৫. আর যেটা না বললেই নয়, মন ভালো করতে চকলেটের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ, চকলেট সেরাটোনিন ও ডোপামিন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে। এই হরমোনগুলো আপনাকে রাখে এনার্জিতে ভরপুর। মেজাজ করে তুলে ফুরফুরে। তাই বিষণ্নতা কাটাতেও চকলেট আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
তবে কি সব চকলেটই ভালো…
আমাদের পরিচিত চকলেটের মধ্যে প্রধানত তিন ধরনের চকলেট বেশি দেখা যায়।
মিল্ক চকলেট: সবচেয়ে পরিচিত চকলেটের মধ্যে রয়েছে এই মিল্ক চকলেট। এতে কোকোয়ার সঙ্গে থাকে দুধ আর চিনি।
ডার্ক চকলেট: আসল কোকোয়ার স্বাদ পাওয়া যায় এই ডার্ক চকলেটেই। তাই এই চকলেট খেতে একটু তেতো স্বাদের।
হোয়াইট চকলেট: কোকোয়া বাটারের জন্যই এই চকলেট দেখতে সাদা হয়। আর সঙ্গে দুধ আর চিনি তো রয়েছেই।
চকলেটে থাকা কোকোয়াতেই মূলত রয়েছে মূল পুষ্টি উপাদান। তাই ডার্ক চকলেটই অন্যান্য চকলেটের মধ্যে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। এতে কোকোয়া বেশি পরিমাণে থাকে। আর চিনিও থাকে না।
তবে বেশি পরিমাণে চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিদিন একজন মানুষের ৩০ থেকে ৬০ গ্রামের বেশি চকলেট খাওয়া উচিত নয়। এতে ওজন বেড়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি হিস্ট্রি ডট অর্গ, ইকোনমিক টাইমস, এভরিডে হেলথ