দিন দিন এয়ার ফ্রায়ারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে
দিন দিন এয়ার ফ্রায়ারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করার সময় এই ৫ ভুল করছেন না তো

তেল, গ্যাস আর সময়—এই তিনের ব্যবহারই কমিয়ে এনেছে এয়ার ফ্রায়ার। চলুন, আধুনিক রান্নাঘরের স্মার্ট এই অনুষঙ্গের খুঁটিনাটি জেনে নিই রন্ধনশিল্পী সিতারা ফেরদৌস ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ফাউন্ডেশন হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ অনন্যা মেহজাবিনের কাছে।

এয়ার ফ্রায়ারে থাকে ‘হট এয়ার সার্কুলেশন’ প্রযুক্তি। এর ভেতরের শক্তিশালী হিটিং এলিমেন্ট ও ফ্যান দ্রুতগতির গরম বাতাসকে খাবারের চারপাশে সমানভাবে প্রবাহিত করে। ফলে মাত্র এক চামচ তেলে কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ তেল ছাড়াই মুচমুচে হয় খাবার। ডুবোতেলে ভাজা খাবারের তুলনায় এতে প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত কম ফ্যাট বা চর্বি থাকে।

মাল্টিটাস্কিং

প্রি-হিটিংয়ের ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত মুরগির গ্রিল, সবজি রোস্ট কিংবা কেক-মাফিন বেক করা যায়। বরফ জমা বা ফ্রোজেন খাবার গরম করার ক্ষেত্রে এটি মাইক্রোওয়েভের চেয়ে সেরা। খাবার নরম না করে একদম আগের মতো মুচমুচে রাখে।

এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারে ৫ পরামর্শ

এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করা খাবার কতটুকু পুষ্টিকর হবে, তা–ও সঠিক ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। খাদ্যের মান ও পুষ্টি বজায় রাখতে কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বললেন পুষ্টিবিদ অনন্যা মেহজাবিন।

কম তেলই শেষ কথা নয়: প্রথাগত ডিপ-ফ্রাইয়ের তুলনায় এয়ার ফ্রায়ারে তেল লাগে খুবই কম ফলে খাবারে ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ কমানো সহজ হয়, যা সুরক্ষিত রাখে হৃৎপিণ্ড। তবে তেল কমলেই কিন্তু খাবারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হেলদি’ হয়ে যায় না। কী ধরনের খাবার কতটুকু পরিমাণে ফ্রাই করছেন, সেদিকে খেয়াল রাখা বেশি জরুরি।

পুষ্টি উপাদান বজায় রাখা: অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রা এবং দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করলে খাবারের তাপ-সংবেদনশীল উপাদান, যেমন ভিটামিন সি ও বি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রান্নার সময় সঠিক তাপমাত্রা ও সময় নির্বাচন তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাক্রিলামাইড এড়ানোর উপায়: আলু বা শস্যজাতীয় খাবার বেশি তাপে অতিরিক্ত কড়া করে ভাজলে ‘অ্যাক্রিলামাইড’ নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। তাই খাবার অতিরিক্ত বাদামি বা পোড়া না করে হালকা সোনালি হলুদ অবস্থায় নামিয়ে নেওয়া উচিত।

সঠিক উপাদানের সঠিক ব্যবহার: পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে শাকসবজি, মাছ ও চর্বিহীন আমিষের মতো খাবার ফ্রাই করুন। ভাজাভাজি করার সময় সামান্য তেল স্প্রে করুন। প্রক্রিয়াজাত বা অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

যত্ন ও পরিষ্কার

এয়ার ফ্রায়ারে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা যতটা সহজ, এর যত্ন নেওয়াও ততটাই সহজ। সঠিক উপায়ে এটি পরিষ্কার রাখলে রান্নার স্বাদ ভালো থাকে এবং যন্ত্রটিও হয় দীর্ঘস্থায়ী।

ব্যবহারের পর পরিষ্কার: ব্যবহারের পর বাস্কেট ও ট্রে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর হালকা গরম পানি, একটু ডিশওয়াশিং লিকুইড এবং নরম স্পঞ্জ দিয়ে ধুয়ে নিন। কখনোই খসখসে স্ক্রাবার ব্যবহার করবেন না। এতে নন-স্টিক কোটিং নষ্ট হতে পারে।

যে অংশগুলো ধোয়া যায় না: এয়ার ফ্রায়ারের ভেতরের হিটিং এলিমেন্ট বা ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে ভেজা কাপড় দিয়ে হালকা করে মুছে নিন।

গন্ধ দূর করার কৌশল: মাঝেমধ্যে বেকিং সোডা ও পানির পেস্ট তৈরি করে বাস্কেটে মেখে মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেললে তেল চিটচিটে ভাব ও আগের রান্নার গন্ধ চলে যায়।