এই খাবার ছাড়া আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের চলেই না

আসাদো ছাড়া যেন লিওনেল মেসিদের চলেই না
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, রদ্রিগো ডি পল কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ—মাঠে তাঁদের লড়াইয়ের শক্তির পেছনে আছে আরেকটি অভিন্ন ভালোবাসা। সেটি হলো ‘আসাদো’। স্থানীয় পদ্ধতিতে আগুনে সেঁকা বা বারবিকিউ করা এই খাবার আর্জেন্টিনার খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। বিশ্বকাপ খেলতে এসে এবারও নিজেদের দেশের স্বাদ ধরে রাখতে আর্জেন্টিনা দল সঙ্গে এনেছে বিপুল পরিমাণ গরুর মাংস, যা দিয়ে তৈরি হবে আসাদো।

স্প্যানিশ শব্দ ‘আসাদো’ অর্থ মূলত পোড়া বা গ্রিল করা মাংস। কাঠকয়লার আগুনে ধীরে ধীরে গরুর মাংস, পাঁজর, সসেজ কিংবা মাংসের বিভিন্ন অংশ গ্রিল করে তৈরি করা হয় এই ঐতিহ্যবাহী খাবার। ভেড়া ও ছাগলের মাংস দিয়েও আসাদো বানানো হয়, তবে আর্জেন্টিনায় সবচেয়ে জনপ্রিয় আসাদো তৈরি হয় গরুর মাংস দিয়ে।

স্প্যানিশ শব্দ ‘আসাদো’ অর্থ মূলত পোড়া বা গ্রিল করা মাংস

২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা দল যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে নিজেদের বেজক্যাম্পে আগেভাগেই বিভিন্নভাবে কাটা প্রায় ৫০০ কেজি গরুর মাংস পাঠিয়েছে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) নীতিমালা মেনেই বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই মাংস আমদানি করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কাছে আসাদো শুধু একটি খাবার নয়, এটি দলীয় সংস্কৃতিরও অংশ। ম্যাচের আগে দলীয় ডিনার, অনুশীলনের বিরতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জয় উদ্‌যাপন—সব ক্ষেত্রেই থাকে আসাদো। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই বারবিকিউ আয়োজন। অনেকের মতে, আসাদোর টেবিলেই আরও দৃঢ় হয় দলের পারস্পরিক বন্ধন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কাছে আসাদো শুধু একটি খাবার নয়, এটি দলীয় সংস্কৃতিরও অংশ

আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে ফুটবল যেমন জাতীয় পরিচয়ের অংশ, তেমনি আসাদোও তাদের জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য উপাদান। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও প্রিয় এই খাবার থেকে দূরে থাকতে রাজি নন মেসিরা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজের দেশের স্বাদও তাঁরা ধরে রাখতে চান বিশ্বের অন্য প্রান্তে।

সূত্র: দ্য সান, এনডিটিভি