কাঁচা আম ও পুদিনার শরবত
কাঁচা আম ও পুদিনার শরবত

কাঁচা আম, তরমুজ নাকি বেলের শরবত—কোনটা বেশি ভালো?

গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিই প্রশান্তির উৎস হয়ে ওঠে। তবে ভিন্ন স্বাদের খোঁজে আর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে নানা রকম পানীয়ও করা হয়। কাঁচা আম, তরমুজ আর বেল—এই তিন ফল দিয়েই শরবত তৈরি করা হয়। তিন ধরনের শরবতের ভালো–মন্দ দিক নিয়ে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।

কাঁচা আমের শরবত

যেকোনো ফলের শরবতে পানির চাহিদা তো মিটবেই, সঙ্গে পাবেন নানান পুষ্টি উপাদান। কাঁচা আমে প্রচুর ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে এবং ত্বকের কোলাজেন তৈরি করতে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ করা আবশ্যক। সব মিলিয়ে কাঁচা আম দারুণ এক ফল। তবে মুশকিলটা হলো এতে মেশানো লবণ আর চিনি নিয়ে। কাঁচা আমের টক স্বাদকে সহনীয় করে তুলতে এতে বেশ খানিকটা লবণ আর চিনি মেশানোর প্রয়োজন হতে পারে।

কাঁচা আমের শরবত


খুব বেশি ঘাম হলে সামান্য লবণ মেশানো পানীয় গ্রহণ করা ভালো। তবে অতিরিক্ত লবণ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। এ ছাড়া যেকোনো বয়সী মানুষের জন্যই চিনি ক্ষতিকর। বিশেষ করে ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় থাকা ব্যক্তি কিংবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি সারা দিনে কতটা চিনি গ্রহণ করছেন, সেদিকে খেয়াল রাখা আবশ্যক।
তবে একজন সুস্থ মানুষ মাঝেমধ্যে সামান্য লবণ আর সামান্য চিনি দিয়ে কাঁচা আমের শরবত করে খেতে পারেন, তাতে ক্ষতি নেই। তীব্র গরমে খাবারে অরুচি হলেও টক স্বাদের এই পানীয় গ্রহণে উপকার পাবেন।

তরমুজের শরবত

তরমুজের শরবত

তরমুজের একটা বড় সুবিধা হলো, এর অনেকটা অংশই পানি। তাই এই শরবত সহজেই দেহে আর্দ্রতা জোগায়। পানিশূন্যতার বিরুদ্ধে খুব দ্রুত লড়াই করতে হলে আপনি তরমুজের শরবত খেতে পারেন।
তরমুজে আছে লাইকোপেন। অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের দারুণ উৎস তরমুজ। তরমুজে থাকা খনিজ উপাদানগুলোও উপকারী।
তরমুজের মিষ্টতা আসে এর ফ্রুকটোজ থেকে। ফলের এই ফ্রুকটোজ চিনির মতো ক্ষতিকর নয়। তাই তরমুজের শরবতে বাড়তি চিনি বা লবণ যোগ করা না হলে একজন সুস্থ মানুষের জন্য এটি চমৎকার এক পানীয়।

বেলের শরবত

বেলের শরবত

বেলের শরবত একটু ঘন হয়। অর্থাৎ, এতে পানির আনুপাতিক পরিমাণ কম। তবে এটিও তৃষ্ণা মেটায়। চিনি মেশানো না হলে এই শরবত দারুণ স্বাস্থ্যকর পানীয়।
বেলের শরবত থেকে আঁশের কিছু উপকার মিলবে। ক্ষুধা মেটাতেও কাজে আসে এই শরবত। পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে কাজে আসতে পারে এই পানীয়। তবে আঁশের উপকার পেতে হলে বেলের শরবত ছাঁকবেন না। কেবল হাত দিয়ে বীজগুলো ফেলে দিন।
এই শরবত হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতেও সাহায্য করে। বিটা ক্যারোটিন এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান মিলবে বেলের শরবতে। স্বাদে আসবে ভিন্নতা। বিটা ক্যারোটিন আমাদের দেহে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়।

শেষ কথা

নানান ফলের নানান রকম উপকার। দেহকে ভেতর থেকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে ফল প্রয়োজন রোজ। ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতেও মৌসুমি ফল খাওয়া প্রয়োজন।
তবে পানীয় তৈরির সময় ফলের অধিকাংশ আঁশ ফেলে দেওয়া হয়। তাই কোনো শরবত থেকেই আঁশের পুরো উপকার পাওয়া যায় না। সেই উপকার পাবেন টুকরা করা ফলে।

পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে পানি, ফলের রস ও শরবত পান করতে হবে

পানির চাহিদা মেটাতে অবশ্য ফলের শরবত ভালো। সবদিক বিবেচনায় রাখলে পানির চাহিদা মেটাতে এই তিন ধরনের শরবতের মধ্যে তরমুজের শরবতই বেশি উপকারী। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ফলের মিষ্টতা কম হলেও যেন তাতে চিনি মেশানো না হয়।
অন্যান্য পানীয়ও খাওয়া যেতে পারে বিভিন্ন সময়ে। তাতে স্বাদে বৈচিত্র্য আসবে। তবে চিনি আর লবণের বিষয়টা খেয়াল রাখবেন। প্রায়ই বাড়তি লবণ বা চিনি গ্রহণ করা কারও জন্যই ঠিক নয়।
কোনো পানীয়তে ক্রিম–জাতীয় উপকরণ যোগ না করাই ভালো। তাহলে পানীয়টি খুব একটা স্বাস্থ্যকর থাকবে না।