
নারীর রোজকার জীবনের এক প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হলেও অন্তর্বাস বেছে নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি অনেকেরই জানা নেই। আর আমাদের সামাজিক পরিসরে বিষয়টি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে এ সম্পর্কে আলোচনাও খুব একটা হয় না। তবে অন্তর্বাসের মাপ সঠিক না হলে আপনি ভুগতে পারেন নানা অস্বস্তিতে।
কোন উপকরণের অন্তর্বাস বেছে নেওয়া হচ্ছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের আবহাওয়ার ধরনটাই এমন যে এখানে ঘরে-বাইরে বেশি ঘাম হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই ঘাম শোষণ করতে পারে, এমন নরম ও আরামদায়ক উপকরণ খুঁজে নেওয়া জরুরি।
অন্তর্বাসের মাপ বেছে নেওয়ার সময় মূলত কাপ, ব্যান্ড ও স্ট্র্যাপ—এই তিনটি বিষয় খেয়াল করতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, স্বাভাবিক অবস্থায় সময়ও অন্তর্বাসটি যেন আরামদায়কভাবে স্থির থাকে এবং শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক চাপ বা ঘর্ষণ সৃষ্টি না করে।
ব্যান্ড এমনভাবে বসবে, যাতে সেটি অস্বাভাবিকভাবে পেছনে উঠে না যায় কিংবা বারবার সরে না যায়। আবার অস্বস্তিকরভাবে আঁটসাঁটও না হয়।
কাপের মাপ এমন হবে, যেন স্তনের কোথাও অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। স্তনের কোনো অংশ কাপের বাইরে বেরিয়েও আসবে না। তবে অন্তর্বাসের স্টাইলটাই যদি এমন হয় যে পরার পর স্তনের কোনো অংশ বাইরে থাকবে, তাহলে ভিন্ন বিষয়।
স্ট্র্যাপ এমন হওয়া উচিত, যাতে কাঁধে অতিরিক্ত চাপ বা গভীর দাগ না পড়ে, আবার ঢিলেও না হয়ে থাকে।
হুক আছে কি না, থাকলে সামনে না পেছনে আছে, নিজের স্বস্তির দিকগুলো মাথায় রেখে এ বিষয়ে খেয়াল রাখুন। হুক থাকলে কেনার সময় তা সবচেয়ে বাইরের হুকে ‘ফিট’ হলেই সাধারণত দীর্ঘদিন পরার উপযোগী থাকে। তবে এ বিষয়ে ওই ব্র্যান্ডের বিশেষ নির্দেশনা থাকলে তা অনুসরণ করুন।
ভালো মানের অন্তর্বাস বেছে নিন।
ব্যায়ামের সময় স্তনের নড়াচড়া কম রাখা এবং আরাম বজায় রাখার জন্য স্পোর্টস ব্রা ব্যবহার করা ভালো।
আরও খেয়াল রাখুন, অন্তর্বাসের মাপ সব সময় এক নাও থাকতে পারে। কাজেই একই মাপে বছরের পর বছর স্বস্তি না–ও পেতে পারেন।
বাড়িতেই অন্তর্বাসের মাপ নেওয়া যায়। সঠিক মাপ নির্ধারণ করতে ফিতার সাহায্যে স্তনের ঠিক নিচ বরাবর বুকের পরিধি মাপুন। যে সংখ্যাটি পাবেন, সেটিই আপনার অন্তর্বাসের ব্যান্ডের মাপ।
তবে যদি বিজোড় সংখ্যা আসে কিংবা ভগ্নাংশ আসে, তাহলে ওই সংখ্যার নিকটবর্তী পূর্ণাঙ্গ জোড় সংখ্যাটি বেছে নিয়ে ‘ট্রায়াল’ দিতে পারেন। উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলা যাক। কারও বুকের পরিধির এই মাপ যদি সাড়ে ৩৪ ইঞ্চি বা ৩৫ ইঞ্চি হয়, তিনি ৩৪ ইঞ্চি ব্যান্ডের অন্তর্বাস ‘ট্রায়াল’ দিতে পারেন।
এবার কাপের মাপ ঠিক করার পালা। এটি ঠিক করার জন্য সাধারণত স্তনের সবচেয়ে উঁচু অংশের পরিধিও মাপতে হয়। এবার যে সংখ্যাটি পাওয়া যাবে, তা থেকে প্রথম পাওয়া সংখ্যাটি বিয়োগ করতে হয়। বিয়োগফল থেকে নির্ধারণ করা হয় কাপের মাপ।
তবে সব দেশের বা সব ব্র্যান্ডের কাপের মাপ একই পদ্ধতিতে ঠিক করা হয় না। তাই শুধু একটি সূত্রে কাপের মাপ নির্দিষ্ট করার সুযোগ নেই। অন্তর্বাস পরার পর তা শরীরে কেমনভাবে বসছে, তা যাচাই করাই বেশি নির্ভরযোগ্য।
দুই স্তনের আকারে কিছুটা পার্থক্য থাকাও স্বাভাবিক। প্রয়োজন মনে হলে তুলনামূলক ছোট স্তনটির জন্য ‘রিমুভেবল প্যাড’ ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভুল মাপের অন্তর্বাসের জন্য ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে অস্বস্তি হতে পারে।
কখনো কখনো স্তনে বা স্তনবৃন্তে ব্যথা হতে পারে। তবে কোনো শারীরিক সমস্যায় এগুলো হচ্ছে কি না, তা–ও বিবেচনায় নিন।
ত্বকে গভীর দাগ হতে পারে।
চলাফেরা বা নড়াচড়ায় অস্বস্তি হতে পারে।
কাপড়ের মান, কত ঘন ঘন ব্যবহার করা হয়—এসবের ওপর অন্তর্বাসের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ব্র্যান্ড বা স্ট্র্যাপ ঢিলা হয়ে গেলে, কাপের আকৃতি বদলে গেলে, অন্তর্বাসের কাপড় বা সেলাই নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা অন্তর্বাসটি ভালোভাবে শরীরে ‘ফিট’ না হলে সেটি বদলানো প্রয়োজন।
সূত্র: ওয়েব এমডি