লাইভ কনসার্টে বাগ্দানের ভিডিও ভাইরাল, কে এই ‘গুলাবি কুইন’
জীবনযাপন ডেস্ক
জনপ্রিয় ভারতীয়-মার্কিন পাঞ্জাবি গায়িকা ও গীতিকার জেসমিন স্যান্ডলাস। তাঁর জন্ম ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে হলেও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে।২০১৪ সালে বলিউড সিনেমা ‘কিক’-এর ‘ইয়ার না মিলে’ গানটির মাধ্যমে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে পান বিপুল জনপ্রিয়তা।৪১ বছর বয়সী জেসমিন স্যান্ডলাস এখন পাঞ্জাবি সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় নারী শিল্পী। তিনি পাঞ্জাবি পপ, হিপহপ ও বলিউডে সমানভাবে সফল। কেবল পাঞ্জাবেই নয়, পাঞ্জাবি গানকে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।জেসমিনের কণ্ঠের স্বতন্ত্রতা, পশ্চিমা সংগীতের প্রভাব ও পাঞ্জাবি লোকসংগীতের মিশ্রণ তাঁকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছেও দারুণ জনপ্রিয় করে তুলেছে।শক্তিশালী কণ্ঠ, স্বতন্ত্র গায়কি, ট্যাটু, ব্যতিক্রমী পাঞ্জাবি-ওয়েস্টার্ন-হিপহপ ফ্যাশন এবং সাহসী, খোলামেলা ব্যক্তিত্ব জেসমিনকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এসবের বাইরে জেসমিন প্রায়ই মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও নারীর স্বাধীনতা নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেন।জেসমিন তাঁর ব্যক্তি বা পারিবারিক জীবন নিয়ে কখনোই কথা বলেননি। তাঁর মা–বাবাও জনসমক্ষে আসেন না। তবে তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পরিবারের সমর্থনই তাঁকে সংগীতজীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।জেসমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয়। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার এক কোটি ছাড়িয়েছে।২০১২ সালে জেসমিনের প্রথম অ্যালবাম ‘গুলাবি’ প্রকাশিত হয়। ধীরে ধীরে তিনি নিজের নাম ছাপিয়ে ‘গুলাবি কুইন’ নামে পরিচিত হতে থাকেন। বলিউডে তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে আছে ‘ইয়ার না মিলে’, ‘ইললিগাল ওয়েপন’, ‘সিপ সিপ’, ‘পাঞ্জাবি মুটিয়ারান’, ‘লাভান’, ‘ধুরন্ধর’ ইত্যাদি।
বিজ্ঞাপন
জেসমিন এখন তাঁর ‘দ্য ড্রিম গার্ল ইন্ডিয়া ট্যুর’ করছেন। এই ট্যুরের একটি মুহূর্ত ভাইরাল। ‘দ্য ড্রিম গার্ল ইন্ডিয়া ট্যুর’–এ দিল্লির কনসার্টে জেসমিন হঠাৎই উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার সঙ্গে তাঁর বাগ্দত্তাকে পরিচয় করিয়ে দেন। চিৎকার করে বলেন, ‘এই সেই মানুষটা, যে আমার অনামিকায় হীরার আংটি পরিয়ে দিয়েছে। আমি বিশ্ববাসীকে বলতে চাই, এই মানুষটা আমার, শুধু আমার।’ উত্তরে তাঁর বাগ্দত্তা শেখর বলেন, ‘থ্যাংক ইউ। আমি সম্মানিত।’জেসমিনের দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও বাগ্দত্তার নাম শেখর চৌধুরী। বহু কনসার্ট সফর, বিমানবন্দর ও ধর্মীয় ভ্রমণে তাঁকে ‘টিম স্যান্ডলাস’ টি-শার্টে জেসমিনের সঙ্গে দেখা গেছে।জেসমিনের বাগ্দত্তা শেখর চৌধুরীও ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ভারতীয় গণমাধ্যমও তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি।জেসমিন সব সময়ই বলতেন, ‘হোক দেরি, আমি সঠিক মানুষটাকেই জীবনে আনতে চাই।’ মনে হচ্ছে সেই সঠিক মানুষের খোঁজ মিলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছেন জেসমিন।