
হিমালয়ের এভারেস্ট বেজক্যাম্প, অন্নপূর্ণা বেজক্যাম্প, ল্যাংটাং ভ্যালি, মরদি হিমালসহ নেপালের বিভিন্ন ট্রেকিং রুট বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এখন এক বড় আকর্ষণ। তবে প্রস্তুতি ছাড়া নেপালের দুর্গম পাহাড়ি পথে নেমে অনেকে ঝুঁকির মুখে পড়ে যান। যেখানেই যান না কেন, আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়। পর্বতারোহীদের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন সজীব মিয়া
হিমালয়ের কোন রুটে ট্রেকিংয়ে যাচ্ছেন, সে সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকা দরকার। ইউটিউবে এসব পথের প্রচুর ভিডিও আছে, দেখে নিন। আগে ট্রেকিং করেছেন, পরিচিত এমন কারও পরামর্শও নিতে পারেন। জেনে নিতে পারেন পথটা কেমন, সর্বোচ্চ কত উচ্চতায় আপনাকে হাঁটতে হবে ইত্যাদি।
বরফঢাকা পর্বতের টানে আপনি হয়তো পা বাড়িয়েছেন। তবে তার দেখা পেতে টানা কয়েক দিন পার্বত্যপথে হাঁটার শারীরিক সক্ষমতা কি অর্জন করেছেন? তাই প্রতিদিন ৫–৭ ঘণ্টা হাঁটার সক্ষমতা থাকা জরুরি। এ জন্য ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে থেকেই ব্যাগে ৫–১০ কেজি ওজন নিয়ে নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ওঠানামা করুন। হালকা ব্যায়াম করে নিজের শারীরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে নিন।
আপনি হয়তো রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণ করেছেন। দেশের জনপ্রিয় এই পর্যটনস্থানের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৫৮ মিটার। সেখানে অন্নপূর্ণা বেজক্যাম্পের অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ১৩০ মিটার আর এভারেস্ট বেজক্যাম্প ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার। পর্বতে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে, অক্সিজেনের পরিমাণ তত কমতে থাকে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় শরীর খাপ খাওয়াতে সময় নেয়। হঠাৎ দ্রুত ওপরে উঠলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগেই শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।
ভালো ট্রেকিং বুট, গরম কাপড়, রেইনকোট ও স্লিপিং ব্যাগ অপরিহার্য। সস্তা বা অনুপযুক্ত সরঞ্জাম বিপদের কারণ হতে পারে। আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে নিন।
নেপালের অধিকাংশ ট্রেকিং রুটে পারমিট লাগে। কোনো এজেন্সি বা ভ্রমণ গ্রুপের সঙ্গে গেলে তারাই কাজটি করে দেয়। তবে একা গেলে, সংশ্লিষ্ট এলাকার পারমিট আগে থেকে সংগ্রহ করুন।
নতুনদের জন্য গাইড নেওয়া নিরাপদ। সামর্থ্য থাকলে ব্যাগ বহনের জন্য পোর্টারও নিতে পারেন। তারা পথ চেনে, জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। আবার বিশেষ কিছু রুটে গাইড বাধ্যতামূলক।
পাহাড়ে আবহাওয়া দ্রুত বদলায়। রোদেলা দিনও মুহূর্তে তুষারপাত বা বৃষ্টিতে বদলে যেতে পারে। তাই যাত্রার আগে ও চলাকালে নিয়মিত আবহাওয়ার খবর নিন।
উচ্চতায় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়। প্রতিদিন ৩–৪ লিটার পানি পান করুন। সহজপাচ্য ও শক্তিদায়ক খাবার গ্রহণ করা ভালো।
হিমালয়ে জরুরি উদ্ধার ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই হেলিকপ্টার রেসকিউ কাভারসহ ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স নেওয়া জরুরি। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি কমায়।
ট্রেকিং শুধু শারীরিক নয়, মানসিক পরীক্ষাও। ক্লান্তি, ঠান্ডা ও থাকা–খাওয়ার সীমিত সুযোগ–সুবিধার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
গন্তব্যে পৌঁছানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়, নিরাপদে ফেরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে মাঝপথে ফিরে আসার সিদ্ধান্তও নিতে হয়। শরীর খারাপ লাগলে বা পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে জোর না করে নিচে নেমে আসুন।