অভিনেত্রী ও মডেল জান্নাতুল পিয়া
অভিনেত্রী ও মডেল জান্নাতুল পিয়া

কক্সবাজারে গেলেই খুব ভালো লাগে জান্নাতুল পিয়ার, জায়গাটা ঘিরে আপনার প্রত্যাশাও কি তাঁর মতোই?

কোনো কোনো জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ব্যক্তিগত গল্প, যেখানে প্রথম যাওয়ার দিনটা মনে থাকে আজীবন। বারবার সেখানে ফিরে যেতে চায় মন। প্রথম আলোর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’র নিয়মিত বিভাগ ‘ফিরে ফিরে যাই’-তে প্রিয় ভ্রমণস্থানের গল্প বলেন নানা ক্ষেত্রের বিখ্যাত ব্যক্তিরা। আজ বলেছেন অভিনেত্রী ও মডেল জান্নাতুল পিয়া, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সজীব মিয়া

প্রিয় বেড়ানোর জায়গা

কক্সবাজার।

কেন

মানুষ বলে না, পাহাড় বেশি পছন্দ না সমুদ্র বেশি পছন্দ, আমার সমুদ্র খুব পছন্দ। এ কারণে কক্সবাজারে গেলেই খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে সৈকতে ঢেউ ভাঙার শব্দ আমার ভালো লাগে। যখনই যাই, চেষ্টা করি অন্তত ১০ মিনিট নিজের জন্য রাখতে। এ সময় সৈকতে দাঁড়িয়ে ঢেউ ভাঙার শব্দ শুনি, বিশেষ করে রাতে।

প্রথম কখন গিয়েছিলেন

ক্লাস এইটে পড়ার সময়। এখনকার মতো তো মা-বাবারা আমাদের ছোটবেলায় যখন-তখন ঘুরতে নিয়ে যেতেন না। ফাইনাল পরীক্ষার পর লম্বা ছুটির সময় ঘোরাঘুরির সুযোগ হতো। এমনই এক ছুটিতে ফ্যামিলির সঙ্গে প্রথম গিয়েছিলাম। তারপর তো অনেকবার গিয়েছি।

কক্সবাজারে গেলেই খুব ভালো লাগে জান্নাতুল পিয়ার

বিশেষ স্মৃতি?

কত কাজেই তো কক্সবাজারে গেছি—উপস্থাপনার কাজে, ফিল্মের শুটিংয়ে, ফটোশুটে বা ফ্যামিলির সঙ্গে। সব সময় কিন্তু সাগরে নেমে ভেজা হয় না। তবে চেষ্টা করেছি, প্রতিবারই অন্তত নোনাজলে পা ভেজাতে। প্রতিটাই বিশেষ। আমার ছেলেকে নিয়ে প্রথমবার কক্সবাজারে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা আলাদা করে মনে পড়ে। ও যখন প্রথমবার সমুদ্রের পানি স্পর্শ করল, সেটা আমার কাছে একধরনের ‘মিরাকল’ মনে হয়েছিল।

কাজে গিয়ে বেড়ানো উপভোগ করা যায়?

প্রিয় জায়গায় যে কাজেই যাই, মাথায় একটা সেটআপ থাকে যে ঘুরতে যাচ্ছি। তাই কক্সবাজারে গেলে যতই কাজ থাকুক না কেন, একটা রিলাক্সেশন হয়ে যায়।

দিনে দিনে কী কী পরিবর্তন দেখলেন?

কয়েকটা ভালো হোটেল-রিসোর্ট ছাড়া কক্সবাজারে খুব একটা ভালো ডেভেলপমেন্ট দেখি না। আশপাশের দেশগুলোর পর্যটন শহরের সঙ্গেও যদি তুলনা করি—স্বাস্থ্যসম্মত স্ট্রিট ফুড, পরিবেশ, পর্যটকদের জন্য আলাদা স্পট—সবকিছুই কত পরিকল্পিত ও পর্যটকবান্ধব। অথচ কক্সবাজারে স্ট্রিট ফুড অনেক ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর, আর সাজানো-গোছানো পর্যটন স্পটেরও বড় অভাব। যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকেও তেমন অগ্রগতি হয়নি।

সৈকতে ঢেউ ভাঙার শব্দ ভালো লাগে জান্নাতুল পিয়ার

প্রত্যাশা

আমার প্রত্যাশা, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হোক।

এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন। সৈকত এলাকার পরিচ্ছন্নতা, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা—এসব মৌলিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি মানসম্মত রেস্টুরেন্ট ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তা সবার নাগালের মধ্যেই থাকে। দ্বিতীয়ত, পর্যটকদের জন্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এমন একটি পরিবেশ, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে সঠিকভাবে উপস্থাপন। নিশ্চয়ই সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তরিক উদ্যোগ থাকলে কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বমানের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।