
২০০৫ সালে যখন চীনের সাংহাইতে যাই, তখন পার্ল টিভি টাওয়ার ছিল চীনের সর্বোচ্চ স্থাপনা, সেটাতে চড়ার সৌভাগ্যও হয়েছিল। কিন্তু এবার সাংহাইতে ভিভোর তৈরি তিনটি নতুন স্মার্টফোনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি শিরোপা হারিয়েছে পার্ল। সাংহাইতে এখন এর চেয়ে অনেক উঁচু দালান হয়েছে। তার মধ্যে চীনের সর্বোচ্চ আর বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থাপনা এখন সাংহাই টাওয়ার। সাংহাইয়ের পুদং এলাকায় এর অবস্থান। পাশেই আধা কিলোমিটার দূরে সাংহাইয়ের বিখ্যাত নদী হুয়াংপু। ২২ সেপ্টেম্বর ভ্রমণসূচিতে ছিল সাংহাই টাওয়ার।
মাটি থেকে মাথা উঁচু করে ঘুরিয়ে পুরো দালান দেখা কষ্টকর। তাই ওপর থেকেই দেখা ভালো। ওপরে ওঠার জন্য লিফটের লাইনে দাঁড়ালাম। একসময় মানুষের প্যাঁচানো সারি পেরিয়ে লিফটের কাছে গেলাম। এই লিফটের সর্বোচ্চ গতি সেকেন্ডে ২০ দশমিক ৫ মিটার (ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার)। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এটি ছিল সর্বোচ্চ গতিবেগের লিফট। কিন্তু চীনের গুয়াংঝু সিটিএফ ফিন্যান্স সেন্টারের লিফট এখন সর্বোচ্চ গতির (সেকেন্ডে ২১ মিটার বা ঘণ্টায় ৭৬ কিলোমিটার)। চীনা ও ইংরেজি ভাষায় জানানো হলো, এটি এখন বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুততম লিফট। আমরা যখন সাংহাই টাওয়ারে উঠলাম তখন গতি ছিল সেকেন্ডে ১৮ মিটার। ১ মিনিটেরও কম সময়ে পৌঁছে গেলাম ১১৮ তলায়, অর্থাৎ ৫৪৬ মিটার উচ্চতায়। এটাই টাওয়ারের ডেক। কাচঘেরা, এখান থেকেই নিচের সাংহাই দেখা যায়। সিঁড়ি দিয়ে আরেক তলায় (৫৫২ মিটার উচ্চতা) যাওয়া যায় বটে, তবে সেখানে অর্ধেকটা দেখা যায়। তাই ১১৮ তলা থেকেই ঘুরে ঘুরে পাখির চোখে সাংহাই দেখা।
দ্য সাংহাই টাওয়ার মোট ১২৮ তলা। উচ্চতা ৬৩২ মিটার বা ২ হাজার ৭৩ ফুট। এতে হোটেল, দোকানপাট, শপিং মল, প্রদর্শনী কেন্দ্র—সবই আছে। মালয়েশিয়ার মারদেকা–১১৮ দালানটি হওয়ার আগে ২০১৫ থেকে ২০২১ এটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দালান।
আমাদের দলটি ছয়জনের, সঙ্গে চীনা গাইড। দলে ছিলেন আলোকচিত্রী অভিজিৎ নন্দী, ডেইলি স্টার–এর সাংবাদিক জারিফ ফাইয়াজ, প্রযুক্তিবিষষয়ক ইউটিউবার স্যাম (সিলভেস্টার বাড়ৈ) ও সোহাগ মিয়া এবং ভিভো বাংলাদেশের মৌমিতা মোশাররফ। সবাই ওপরে উঠে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। কিছুটা নিচে মেঘের ছোটাছুটি দেখতে ভালোই লাগছিল। তবে মেঘের কারণে দৃষ্টিসীমা বেশ ঝাপসা। নিচে এঁকেবেঁকে বহমান হুয়াংপু। সেই নদীতে বড় বড় জাহাজ, ছোট ছোট নৌকা—সবই আছে।
নিচে পার্ল টাওয়ারের পাশে অনেক উঁচু উঁচু দালান—স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, হংকং–সাংহাই ব্যাংক (এইচএসবিসি), সিটি ব্যাংক এনএ। এ জায়গাটায় সব বহুতল। আসলে এটাই সাংহাইয়ের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। একদিকে নিচে আবাসন প্রকল্প, ছবির মতো সুন্দর। পুরো সাংহাইটাই যেন দেখা যায়। দুপুরে যাওয়ার কারণে একটা আফসোস থেকে গেল। তাই সাংহাইয়ের বিখ্যাত আলোকসজ্জা এ–যাত্রা দেখা হলো না। শুধু কি আলোকসজ্জা, হুয়াংপু নদীর ওপর আলোঝলমল প্রমোদতরি দেখা যায় সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত।
দ্য সাংহাই টাওয়ার মোট ১২৮ তলা। উচ্চতা ৬৩২ মিটার বা ২ হাজার ৭৩ ফুট। এতে হোটেল, দোকানপাট, শপিং মল, প্রদর্শনী কেন্দ্র—সবই আছে। মালয়েশিয়ার মারদেকা–১১৮ দালানটি হওয়ার আগে ২০১৫ থেকে ২০২১ এটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দালান। সাংহাই টাওয়ারের কর্তৃপক্ষ সাংহাই মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট। এটা নকশা করেছে আন্তর্জাতিক ডিজাইন ফার্ম জেনসলার। এই টাওয়ারের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর আর শেষ হয় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটা বানাতে আনুমানিক খরচ হয়েছে ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার।
প্রায় ৪৫ মিনিট ওপরে কাটিয়ে, ঘুরে ঘুরে পাখির চোখে সাংহাই নগরী দেখে এবার নামার পালা। দ্রুতগামী লিফটে করে নামলাম। নিচের নানা রকম স্মারকের দোকান পেরিয়ে যখন এলাম, তখন দেখলাম, আইসক্রিম বিক্রি করছে রোবট। মানে ভেন্ডিং মেশিনের ভেতর রোবট বাহু। বাইরে টাচস্ক্রিনে আঙুল কয়েকবার ছোঁয়ালে রোবট আইসক্রিম পরিবেশন করে। তবে লেনদেন–জটিলতায় আইসক্রিম আর কিনে খাওয়া হলো না।
আফসোস!