ঈদের ছুটিতে ভিড়ভাট্টা থেকে শান্ত অবকাশ খুঁজছেন? মুন্সিগঞ্জে পদ্ম নদীর বুকে ভেসে থাকা হাউসবোট হতে পারে ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণের ঠিকানা।
ঈদের ছুটিতে অনেকেই শহরের কোলাহল থেকে দূরে যেতে চান। দূরের পাহাড় বা সমুদ্র না হলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে গিয়ে প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া। পদ্মার বুকে হাউসবোট ভ্রমণ হতে পারে তাদের জন্য সেরা বিকল্প। নদীর ঢেউ, বিস্তীর্ণ আকাশ, চরজীবনের স্পর্শ, দেশের বৃহত্তম সেতু দর্শন আর নদীর বুকে সূর্যাস্ত উপভোগ, সব মিলিয়ে এটি হতে পারে এক দিনের দারুণ ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।
দেশের পর্যটনে হাউসবোট নতুন কিছু নয়। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিলাসবহুল হাউসবোট ভ্রমণ জনপ্রিয়। হাওর অঞ্চলে মূলত বর্ষাকালেই পর্যটনের মৌসুম জমে ওঠে। জুন-জুলাই থেকে শুরু হয়ে অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে পর্যটকদের ভিড় থাকে। পরে পানি কমে গেলে অনেক হাউসবোটের গন্তব্য হয়ে ওঠে পদ্মা নদী। শীত থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি পর্যন্ত পদ্মায় থাকে এসব হাউসবোট। এ সময়টায় পদ্মা থাকে শান্ত। নদীর বুকজুড়ে কোথাও কোথাও পলি জমে জেগে ওঠা নতুন চরে ভিড় করে পাখপাখালি।
বছর চারেক আগে হাতে গোনা কয়েকটি হাউসবোট থাকলেও এখন পদ্মায় এই ভ্রমণ সেবায় যুক্ত হয়েছে প্রায় ২৫টি নৌযান। এসব হাউসবোটের কোনো কোনোটাতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ কক্ষও আছে। হাউসবোটগুলো মুন্সিগঞ্জের লৌহজং বাজার, বেজগাঁও, শিমুলিয়া ঘাট (পুরোনো মাওয়া ঘাট) এবং দোহারের নারিশাবাজার ঘাট থেকে ছাড়ে। একসময় রাত্রিযাপনের প্যাকেজ থাকলেও বর্তমানে শুধু দিনব্যাপী প্যাকেজ অফার করছে। এই প্যাকেজে যে ঘাট থেকে তোলা হয়, যাত্রীদের আবার একই ঘাটে এনে নামিয়ে দেয়।
হাউসবোটের দিনটি শুরু হয় সকালের নাশতা দিয়ে। এরপর মধ্যাহ্নভোজ, বিকেলে থাকে হালকা নাশতা আর সন্ধ্যার দিকে চাহিদা অনুযায়ী বারবিকিউ। উদ্যোক্তারা জানান, ঈদের সময় উৎসবের আমেজ আনতে মেন্যুতে যোগ হয় বাড়তি কিছু আইটেম। কখনো গ্রামীণ ঈদের আবহে সাজানো হয় হাউসবোট।
পদ্মার হাউসবোটে প্রধান আকর্ষণ কী? দ্য হাওর সেইল নামে একটি হাউসবোটের উদ্যোক্তা হাসানুর রহমান জানালেন, ‘পদ্মা ট্রিপের প্রধান আকর্ষণ পদ্মা সেতু। আমরা যখন পদ্মা সেতুর নিচে যাই, প্রত্যেকটি মানুষ মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে। এ ছাড়া পদ্মার ইলিশের প্রতি বাঙালির আলাদা আবেগ রয়েছে। মানুষ পদ্মা নদীতে ভেসে যখন পদ্মার ইলিশ খেতে পান, সেতু দেখেন, ব্যাপারটা দুর্দান্ত হয়ে ওয়ে ওঠে।’
হাসানুর রহমান আরও বলেন, ‘পদ্মার বেশ কিছু চরে আমরা বোট নোঙর করি, তখন বেশ কিছু অ্যাকটিভিটি করা হয়। আমাদের ডাইনিং টেবিল পদ্মার চরে নামাই, সেখানেই খাওয়াদাওয়া হয়। সেখানে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, মোরগ লড়াই, হাঁড়ি ভাঙা, বালিশ নিক্ষেপ, দৌড় প্রতিযোগিতাসহ মজার কিছু গ্রামীণ খেলাও রাখা হয়।’
পরিবার বা বন্ধুদের দল এলে এসব খেলা জমে ওঠে বেশ। দিনের আলো নেমে এলে শুরু হয় গানবাজনা, আড্ডা আর খোলা আকাশের নিচে বসে গল্প করার আয়োজন।
পদ্মায় গোসল কিংবা সাঁতার কাটার বিষয়টিও অনেকে উপভোগ করছেন। অনেকে হয়তো ওপর দিয়ে যাচ্ছে, নদী দেখছে, কিন্তু নদীর পানি ধরে দেখার সুযোগ হচ্ছে না। এখানে তাঁরা পদ্মায় সাঁতার, লাফালাফি করতে পারেন। এ ছাড়া নৌপথে যেতে যেতে দেখা মেলে জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য।
হাউসবোটে দিনভর পদ্মা ভ্রমণের খরচ তুলনামূলকভাবে নাগালের মধ্যেই। একটি কেবিনে কতজনের জন্য নেওয়া হচ্ছে, অ্যাটাচ বাথরুম কি না, কেবিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কি না, সঙ্গে সুইমিংপুল ও পারসোনাল ব্যালকনি আছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর প্যাকেজের মূল্য নির্ভর করে। সাধারণত জনপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সুবিধা অনুযায়ী তা ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পারিবারিক ও করপোরেট ট্রিপের জন্য চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ আয়োজন বা খাবারের আলাদা ব্যবস্থা থাকে। ঢাকা থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা করে দেন, সে ক্ষেত্রে যাতায়াত খরচ যোগ হয়।
প্রতিটি হাউসবোটের নামে ফেসবুক পেজ আছে। আগের ট্যুর পরিচালনার ছবি-ভিডিও দেখুন, সেবাগ্রহীতাদের রিভিউ দেখুন।
বুকিং করার আগে প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝে নিন, সংশয় থাকলে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন।
শিশুদের জন্য হাউসবোটগুলোর বিশেষ পলিসি থাকে, বুকিং করার সময় জানুন।
লাইফ জ্যাকেটসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে আগেভাগে আলাপ করে নিন।
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গেলে হাউসবোট কর্তৃপক্ষ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করবে কি না, জেনে নিন।
গ্রিন হ্যাভেন
মোবাইল: 01719-591613
ফেসবুক: fb.com/greenhaven0
ওয়াটার ইন
মোবাইল: 01894-442426
ফেসবুক: tinyurl.com/yfkjujx4
দ্য হাওর সেইল
মোবাইল: 01713-388492
ফেসবুক: fb.com/Thehaorsail
দহিম
মোবাইল: 01674-948668
ফেসবুক: fb.com/doheem
ফ্যালকন
মোবাইল: 01897–984008
ফেসবুক: fb.com/falconhouseboat
হৈমন্তী
মোবাইল: 01798–254621
ফেসবুক: tinyurl.com/2txbt7jy
কাগজের নৌকা
মোবাইল: 01823–800804
ফেসবুক: fb.com/kagojernoukaboat