ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব মেডিকেল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএমএসএ) আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে বেইজিং আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কনফারেন্স হলে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন শরীফ মোহাম্মাদ সাদাত। কেমন ছিল তাঁর অভিজ্ঞতা?

জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের সীমানা পেরিয়ে নিজেকে জয় করতে হয়। মেডিকেল এডুকেশন ফোরাম ২০২৫–এ বক্তৃতা দেওয়াটা ছিল তেমনই এক অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের একজন তরুণ মেডিকেল ছাত্র হিসেবে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, অধ্যাপক ও স্বাস্থ্যশিক্ষা–বিষয়ক নেতাদের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ নিঃসন্দেহে বড় পাওয়া। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ২০টির বেশি দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব মেডিকেল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএমএসএ) আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে মূলত এই সুযোগ পাওয়া।
বেইজিং আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কনফারেন্স হল ছিল ভেন্যু। যেখানে আমার সেশনের শিরোনাম ছিল ‘লার্নিং বাই লিডিং: দ্য রোল অব স্টুডেন্ট–লেড ইনিশিয়েটিভ ইন প্রফেশনাল গ্রোথ’ (নেতৃত্ব দিয়ে শেখা: পেশাগত উন্নয়নে শিক্ষার্থী–পরিচালিত উদ্যোগের ভূমিকা)। সময় ছিল ৩০ মিনিট। কীভাবে একজন মেডিকেল ছাত্র থেকে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক নেতৃত্বে পৌঁছানো সম্ভব, তা নিয়েই আলোচনা করেছি। স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব ও যৌথ উদ্যোগ পেশাজীবী জীবনের বনিয়াদ গড়তে সাহায্য করে, এ বিষয়েও কথা বলেছি।
খেয়াল করলাম, সম্মেলনের সবচেয়ে কম বয়সী বক্তা আমি। একজন ডিন তো বলেই ফেললেন, ‘এই টেবিলে বসার জন্য তুমি তো অনেক ছোট! অবশ্য ঠিক, এ জন্যই হয়তো তোমার এখানে থাকা উচিত।’ তাঁর কথা আমাকে প্রেরণা দিয়েছে। এরপর প্রায় প্রতিটি সেশন, লাঞ্চ ও ডিনারে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছি।
এক ফাঁকে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোরার সুযোগ হলো। এটাই ছিল এই সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা। চীনের স্থানীয় মেডিকেল ছাত্রদের সংগঠন ‘চায়নিজ ফেডারেশন ফর মেডিকেল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের’ পক্ষ থেকেও আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে বক্তৃতা দিয়েছি। বলেছি, আইএফএমএসএর বৈশ্বিক প্রভাব ও ছাত্রদের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্বের কথা। চীন, আর্মেনিয়া, রাশিয়া, ঘানাসহ বিভিন্ন দেশের তরুণ গবেষক ও ছাত্রদের সঙ্গে সময়টা দারুণ কেটেছে। তাঁদের কাছ থেকেও শিখেছি, মজা করেছি। এককথায়, ভাষার সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছি।
এরপর অংশ নিই ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের উপদেষ্টা পর্ষদের (ডব্লিউপিএএমই) একটি সভায়। এতে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনেভিয়েভ মইনু ও ডব্লিউপিএএমইর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ওয়েন হগসন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আইএফএমএসএর কাজের প্রশংসা করেন। আগ্রহ দেখিয়ে জানান, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান।
এ রকম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। এটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। শিখেছি, নেতৃত্ব মানে শুধু নিজে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আর স্বপ্ন বড় হলে বয়স কখনো বাধা হতে পারে না। আজকাল ভাষাও কোনো বাধা নয়। যেটা বেইজিংয়ে দেখলাম। এআই অনুবাদক দিয়ে এখন মাতৃভাষাতেই সম্মেলন আয়োজন করা যায়।
বেইজিং থেকে ফিরেছি, তবে আমাকে ঘিরে রেখেছে সম্ভাবনা আর দায়িত্ববোধ। তারুণ্যের জোরালো কণ্ঠস্বর এখন সারা বিশ্বই গুরুত্ব দিয়ে শোনে, মূল্যায়ন করে। আমিও মঞ্চে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দিয়েছি—আমরা তৈরি আছি, আমরা বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিতে পারি।