সারা বছর নানা আয়োজনে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখে ডিইউইডিসি
সারা বছর নানা আয়োজনে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখে ডিইউইডিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্লাব থেকে উঠে এসেছেন শতাধিক উদ্যোক্তা

শিখে-পড়ে উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন। এর জন্য বরং প্রয়োজন যথাযথ পরিবেশ, আইডিয়া ভাগাভাগি, দিকনির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা, বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ। এসব লক্ষ্যেই ক্যাম্পাসগুলোতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্লাব। একটির খোঁজ জানাচ্ছেন ছিদরাতুল মুনতাহা।

ক্যাম্পাসে বেশ কয়েক বছর আগেই ‘এন্টারপ্রেনিউরশিপ’ বিষয়ে কাজ শুরু করেছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটি এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব (ডিইউইডিসি)। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু ২০১৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলা ও শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে কাজ করে যাচ্ছে এই ক্লাব। একাডেমিক জ্ঞান ও বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য।

স্টার্টআপ ও বিজনেস অ্যানালাইসিস প্রতিযোগিতা, আউটরিচ প্রোগ্রাম, প্রকাশনা কার্যক্রমসহ নানা কিছু করে ক্লাবটি। তাদের একটি আয়োজনের নাম যেমন ‘স্কিলনিউর’। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞজন ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দক্ষতা রপ্ত করার সুযোগ পান। আরেকটি আয়োজনের নাম ‘পাওয়ারপ্রেনিউর’। এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা বাজারে সফলভাবে পরিচালিত স্টার্টআপগুলো বিশ্লেষণ করে, তাদের বিজনেস মডেল, কৌশল, ফান্ডিংসহ বিভিন্ন বিষয় বোঝার চেষ্টা করে। এ ছাড়া আছে ‘ক্রিয়েভেঞ্চার’। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়। এটি মূলত সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও উদ্যোগী চিন্তাকে এক করার একটি প্ল্যাটফর্ম। ক্রিয়েভেঞ্চারের কার্যক্রমের মধ্যে আছে আইডিয়া ডেভেলপমেন্ট সেশন, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, কর্মশালা, পিচিং (আইডিয়া উপস্থাপন) এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি, সমস্যা চিহ্নিতকরণ, বাজার বিশ্লেষণ ও সলিউশন ডিজাইনে সহায়তা করে। পাশাপাশি শিল্প খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আইডিয়াটিকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে।

ডিইউইডিসি যেন উদ্যোক্তা তৈরির কারখানা। ক্লাবের শতাধিক সদস্য এরই মধ্যে নিজস্ব স্টার্টআপ শুরু করেছেন। প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বাড়ছে। সদস্যদের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেন ক্লাবের মডারেটর, অধ্যাপক রাফিউদ্দিন আহমেদ। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আগে থেকেই কাজ করেন তিনি। ফলে তাঁর অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি পাওয়া।

খাবার, কাপড়, বইসহ নানা কিছু বিক্রির ব্যবসা করেন ক্লাবের সদস্যরা। ক্লাবের বিভিন্ন আয়োজনেই এসব খাতের বিভিন্ন সফল মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাঁদের কথা শোনার সুযোগ হয়েছে, যা দিয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা।

ক্লাবটির সভাপতি সিফাত আল রশিদ বলেন, ‘আর্থিক সহায়তা আমাদের বড় সীমাবদ্ধতার জায়গা। অনেক উদ্ভাবনী ভাবনা বা আইডিয়া আমাদের আছে, কিন্তু সেগুলো এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থায়ন নেই। ইনকিউবেশন সেন্টার বা আইডিয়েশন হাবের মাধ্যমে আইডিয়াগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ পেলে, একটা প্রাথমিক বিনিয়োগ পেলে এখান থেকে আরও অনেক স্টার্টআপ বের হয়ে আসবে। ভবিষ্যতে ক্লাবকে আমি দেশব্যাপী সমাদৃত আইডিয়েশন হাব হিসেবে দেখতে চাই। যেখান থেকে যুগান্তকারী আইডিয়া বের হয়ে আসবে এবং প্রশাসনিক, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় সেগুলো বাস্তবায়িত হবে।’