
২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর লেখক ও বিজ্ঞানী ড. রেজাউর রহমানের (জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪১—মৃত্যু ২৬ অক্টোবর ২০২৫) প্রয়াণে মাসিক বিজ্ঞানচিন্তা স্মরণসভার আয়োজন করে। সেই স্মরণসভায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান তাঁর মেজো ভাই রেজাউর রহমানকে নিয়ে এ স্মৃতিচারণা করেন।
আমরা ৯ ভাই-বোন (চার ভাই, পাঁচ বোন) ছিলাম। এখন আমরা সাত ভাই-বোন। আমাদের সবার বড় ভাই লুৎফুর রহমান একজন প্রকৌশলী ছিলেন। প্রকৌশল পাস করার ছয় মাস পর তিনি মারা গেলেন, ঢাকায়। সেই বহুদিন আগে—১৯৬৪ সালে। সেই শোক এখনো কাটেনি আমাদের। দ্বিতীয় ভাই ড. রেজাউর রহমান, আমার থেকে তিন বছরের বড়। তিনিও মারা গেলেন এই সেদিন, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ সালে। বড় ভাইকে আমরা বলতাম, দাদা। আর মেজো ভাইকে বলতাম, ভাইয়া। আমার পরে পাঁচ বোন (নাজমা নবী, সেলিমা ইসলাম, ফরিদা বেগম, সাহানা আহমেদ ও নিনা ইসলাম) এবং আমাদের সবার ছোট ভাই ডা. জাকিউর রহমান। বোনদের মধ্যে দুজন এখন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বহু বছর ধরে। প্রতিবছর তাঁরা ঢাকায় আসেন ভাই-বোনদের টানে, মায়ায়। ৬০ বছরের অধিক সময় ধরে আমরা ছিলাম আট ভাই-বোন। কত যে স্মৃতি। সেখানে এখন আরও একজন কমে গেল।
আমার বড় দুই ভাইয়ের জন্ম ও শৈশব কেটেছে ঢাকায়। কলকাতায়ও তাঁদের শৈশবের দু-তিন বছর কেটেছে। বড় দুজনের পড়াশোনা শুরু মাদ্রাসায়। এ নিয়ে তাঁরা কয়েক বছর খুব চাপের মধ্যে ছিলেন। আম্মাও কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি। পরে নানাভাই তাঁদের দুজনকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে নবাবপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে ভর্তি করতে সাহায্য করলেন। নানা ভাই আবদুশ শহীদ অবিভক্ত ভারতের নির্বাচিত বঙ্গীয় পরিষদের দুবারের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। চিন্তাভাবনায় তিনি আধুনিক ছিলেন। পেশায় তিনি আইনজীবী ছিলেন। পঞ্চাশের দশকের শুরু থেকে তিনি আমাদের সবার প্রিয় গাজীপুরের কাপাসিয়ায় থাকতেন। কী সুন্দর পরিবেশ ছিল তখন সেখানে।
ভাইয়া (রেজাউর রহমান) নবাবপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে ঢাকা কলেজ, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। বড় ভাই প্রকৌশলী হয়েছিলেন। তখন এমনটাই নিয়ম ছিল যে এক ভাই প্রকৌশলী হলে আরেক ভাই হবেন ডাক্তার। বড় ভাই, আমাদের দাদা লুৎফুর রহমান, স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে পাস করে নটর ডেম কলেজ এবং পরে ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বর্তমান বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করেছিলেন। তাঁর বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদের প্রমুখ। কিন্তু ভাইয়া (মেজো ভাই) মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তাই পুনরায় আর চেষ্টা না করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হলেন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেন। তাঁর প্রথম চাকরি হলো রাজশাহী কলেজে, তারপর আণবিক গবেষণাকেন্দ্রে। এরপর ১৯৭৯ সালে প্রাগের চেক বিজ্ঞান একাডেমি থেকে কীটতত্ত্বে তাঁর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। গবেষণার কাজ বা কোনো সেমিনার-সভায় যোগ দেওয়ার জন্য তিনি মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। বেড়াতে গিয়েছেন অনেক শহরে।
পড়াশোনার পাশাপাশি ভাইয়ার লেখালেখির প্রতি ঝোঁক ছিল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে। আমার জানামতে, তাঁর প্রথম গল্প ‘ঘরমুখো মন’ দৈনিক সংবাদে ছাপা হয় ১৯৬২ সালে। সে সময় তাঁর আরও কিছু লেখাও প্রকাশিত হয়েছিল। আমাদের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত একুশের সংকলন ‘ঝড়ের খেয়া’তেও তাঁর গল্প প্রকাশিত হয়। তিনি গল্প, উপন্যাস ও কবিতার একজন নিমগ্ন পাঠক ছিলেন। সেই ছোটবেলা থেকে দেখেছি তাঁর কেনা জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ আর ‘রূপসী বাংলা’ বই দুটি আমাদের বাড়িতে ছিল। কবিতার প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ আগ্রহ। তাঁর প্রিয় কবি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রায় নিয়মিত তিনি রবীন্দ্রনাথ পাঠ করতেন।
তাঁর এক বন্ধু ছিলেন মোশাররফ হোসেন। তিনি অধ্যাপক ছিলেন, ময়মনসিংহ থাকতেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি মারা গেছেন। সেই বন্ধুর সঙ্গে মিলে ১৯৮৪-৮৭ সালে বাংলা একাডেমি থেকে রেজাউর রহমান প্রাণিবিদ্যার ওপর ডিগ্রি সিলেবাসের জন্য কয়েক খণ্ড বই লেখেন। প্রথমা প্রকাশন থেকে ভাইয়ার গল্প, উপন্যাস আর বিজ্ঞানের ১০টি বই আমরা প্রকাশ করেছি। গল্প, উপন্যাস এবং বিজ্ঞান নিয়ে তিনি অর্ধশতাধিক বইয়ের প্রণেতা।
পড়াশোনার পাশাপাশি ভাইয়ার লেখালেখির প্রতি ঝোঁক ছিল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে। আমার জানামতে, তাঁর প্রথম গল্প ‘ঘরমুখো মন’ দৈনিকসংবাদে ছাপা হয় ১৯৬২ সালে। সে সময় তাঁর আরও কিছু লেখাও প্রকাশিত হয়েছিল। আমাদের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত একুশের সংকলন ‘ঝড়ের খেয়া’তেও তাঁর গল্প প্রকাশিত হয়।
১৯৭১ সাল আমাদের পরিবারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল। আমার দুই ভাই, পাঁচ বোন ও মায়ের জীবন পরিচালনা, তাঁদের নিয়ে গ্রামে নানাবাড়িতে চলে যাওয়াসহ ওই সময়টায় অনেক দায়িত্ব ভাইয়া রেজাউর রহমান একাই পালন করেছেন। একাত্তরের সেই ভয়ের দিনগুলোয় আমাদের নানাবাড়ি কাপাসিয়া থেকে পিরোজপুরে আরেক নানাবাড়ি, সেখান থেকে আরেক গ্রাম, তারপর আবার আরেক গ্রামে দৌড়ঝাঁপ। এভাবে প্রায় ছয়-সাত মাস ভয়ভীতি, আতঙ্ক আর বিপদের মধ্যে মা এবং ভাইবোনরা ঢাকায় আসেন। সেই ফিরে আসাটা ছিল সেপ্টেম্বরের কোনো এক সময়। সেই রাতের বেলা ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে তাঁরা নামলেন। স্টেশন থেকে চার–পাঁচটি রিকশাযোগে তাঁরা আট-নয়জন বংশালে আসেন। এ কথা যখন মনে হয়, তখনই আমি আতঙ্কে আঁতকে উঠি।
ঢাকায় সেই রাতের বেলায় মা আর ছয় ভাই-বোন রিকশায় করে কীভাবে বাসায় ফিরলেন, ভাবলে ভয়ে এখনো ভয়ে শিউরে উঠি। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর আগরতলা থেকে ঢাকায় ফিরে যখন আমার ভাই-বোনদের মুখে এসব কাহিনি শুনেছিলাম। তখন থেকে ভাবি, আমরা যাঁরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম, অর্থাৎ যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের বহুমুখী কাজ করলাম, তাঁদের যেমন এক ভূমিকা; আর যাঁরা গেলেন না, ভয়ংকর বিপদে দেশে থেকে গিয়েছিলেন, তাঁদেরও আরেক ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁরা যেভাবে গ্রাম থেকে ঢাকায় এলেন এবং বিজয় অর্জিত হওয়া পর্যন্ত দুই মাসের বেশি সময় অবরুদ্ধ ছিলেন ঢাকায়; তাঁদের সেই কথাগুলো যখন শুনতাম, তখন আমার নিজেকে অনেক ছোট মনে হতো। কিছুটা লজ্জিত হই এখন ছোট ভাই জাকির যখন সেসব দিনের কথা বলে। একাত্তরে ভাইয়া ছিলেন আমাদের পরিবারের কার্যত অভিভাবক। সেই দিনগুলোয় তিনি ঢাকায় আসতেন, অফিসে যেতেন, বেতন তুলে নিয়ে আবার গ্রামে ফিরে যেতেন—এভাবেই তখন সময়টা গেছে তাঁর।
তিনি অমায়িক, বন্ধুসুলভ, আত্মনির্ভর সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। কিন্তু খুব উদ্যোগী কিংবা খুব সক্রিয় না হলেও আমাদের ভাই-বোনদের মাথার ওপরে তিনি একটা ছায়ার মতো ছিলেন। তাঁর আয়ের ওপরে আমাদের কয়েক বোনের পড়াশোনা ও সংসার নির্ভর করেছে। আম্মাও তাঁর ওপর অনেকটা নির্ভরশীল ছিলেন।
ভাইয়ের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নিয়মিত-অনিয়মিত সব সময়ই ছিল। আমার ওপর তাঁর অনেক নির্ভরতাও ছিল। চিকিৎসাসহ নানা সময় বিভিন্ন সমস্যায় তিনি আমার শরণাপন্ন হতেন। আমি তাঁকে সাহায্য করার চেষ্টা করতাম। আমি তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করতাম। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই রাতে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে এবং পরবর্তী কয়েক দিন নিয়মিত হাসপাতালে দেখাশোনা করলেও তাঁকে আর বাঁচাতে পারিনি। ৮৩ বছর বয়সে একটা বড় হার্ট অ্যাটাক হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আবার বড় একটা অপারেশন হয়। তাঁর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা এবং শারীরিক দুর্বলতা ছিল। এমন অবস্থায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারলেন না। সে জন্য সব সময় এক গভীর বেদনার সুর বাজে বুকের ভেতরে অনবরত।
তিনি অমায়িক, বন্ধুসুলভ, আত্মনির্ভর সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। কিন্তু খুব উদ্যোগী কিংবা খুব সক্রিয় না হলেও আমাদের ভাই-বোনদের মাথার ওপরে তিনি একটা ছায়ার মতো ছিলেন। তাঁর আয়ের ওপরে আমাদের কয়েক বোনের পড়াশোনা ও সংসার নির্ভর করেছে। আম্মাও তাঁর ওপর অনেকটা নির্ভরশীল ছিলেন।
দেশের ভেতরে ও বাইরে ভ্রমণ তাঁর খুব প্রিয় ছিল। যখন তিনি চেকোস্লোভাকিয়ার প্রাগে পড়াশোনা করতেন, তখন তাঁর তেমন টাকাপয়সা ছিল না। সেই অবস্থাতেও আমাদের খালাতো ভাই সালাউদ্দিনকে নিয়ে তিনি মোটামুটি কয়েকটি দেশ ঘুরতে গিয়েছিলেন। আমার বোন নাজমা ও শিল্পী রফিকুন নবী থাকতেন গ্রিসে। সেখানেও তিনি বেড়াতে গিয়েছিলেন। লন্ডনে গেলেন। তারপর সুযোগ পেলেই ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যেতেন। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত দুই মেয়ে নীলাঞ্জনা ও মঞ্জুলিকার কাছে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি ছিলেন খুব উৎসাহী।
আমার মনে হয়, তাঁর শেষ উপন্যাস ‘লাল-সবুজের কথন’ ছাপা হলো ২০২৩ সালে। সেটাই শেষ বই। তারপর আর তিনি খুব একটা লেখেননি। তারপর তিনি কোনো কিছুতে তেমন সক্রিয় হননি। তবে স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তাঁর মৃত্যুর পরও বেশ কয়েকজন এসেছিলেন জানাজায় যোগ দিতে।
ভাইয়ার মধ্যে একটা তৃপ্তি ছিল। তৃপ্তিটা এ রকম—আমার জীবনে যা করার, আমি তা করে ফেলেছি। আবার নতুন কিছু করার জন্য শরীরও হয়তো তাঁকে সাহায্য করতে পারত না। আমরা ভাই-বোনেরা মনে করি—একটা পূর্ণ জীবন যাপন করে ৮৩ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেন। গবেষণার কাজে ৫০ বছর ব্যয় করেছেন, পাশাপাশি বিজ্ঞান নিয়ে লিখেছেন এবং গল্প-উপন্যাস রচনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞান লেখক হিসেবে ২০২৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। মেয়েদের শিক্ষিত করেছেন। দুই কন্যা নীলাঞ্জনা আর মঞ্জুলিকাকে নিয়ে তাঁর গর্ব ছিল। তারা ভালো পড়াশোনা করেছে। মেয়েরা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী—একজন অঙ্কে কলেজে অধ্যাপনা করে, আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাচবিষয়ক গবেষক ও সহযোগী অধ্যাপক। সব মিলিয়ে একটা পূর্ণ জীবন যাপন করেছেন ভাইয়া। এদিক থেকে আমি মনে করি, তিনি একজন সফল মানুষ ছিলেন।
একটা কথা মনে হয় এখন—সবারই মনে হয় মৃত্যুর পরে সত্যিকারের স্বীকৃতি মেলে। এখন প্রায়ই মনে হয়, ভাইয়ার সঙ্গে কত কথা বলার ছিল, জানার ছিল; সেটা তো হলো না। এটা কয়েক বছর ধরে আমাদের অনেক প্রিয়জন, বন্ধু, ঘনিষ্ঠজন বা অভিভাবক যাঁরা ছিলেন, তাঁরা চলে যাওয়ার পরও মনের ভেতরে এ রকম একটা দুঃখ-কষ্ট বোধ জাগে। গভীর শূন্যতা তৈরি হয়। এখনো আমাদের অনেকের মধ্যে প্রিয়জনদের চলে যাওয়ার পর ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের জন্য এ রকম একটা কষ্টের সময় যায়। আমি বলতে পারি সবাইকে, এখনো অনুজপ্রতিম যাঁরা আছেন, বা সমবয়স্ক সবাই যেন কথাটা মনে রেখে, সময় থাকতে মনের ভেতরে যে আকাঙ্ক্ষা থাকে, সেগুলো যেন পূরণ করে যান। পরে যেন কাউকে আর কষ্ট পেতে না হয়। সেটা আমার জন্যও খুব প্রয়োজনীয়। জরুরি একটি অনুধাবন। জীবনের সময় দ্রুত চলে যায়।
ভাইয়ার মধ্যে একটা তৃপ্তি ছিল। তৃপ্তিটা এ রকম—আমার জীবনে যা করার, আমি তা করে ফেলেছি। আবার নতুন কিছু করার জন্য শরীরও হয়তো তাঁকে সাহায্য করতে পারত না। আমরা ভাই-বোনেরা মনে করি—একটা পূর্ণ জীবন যাপন করে ৮৩ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেন। গবেষণার কাজে ৫০ বছর ব্যয় করেছেন, পাশাপাশি বিজ্ঞান নিয়ে লিখেছেন এবং গল্প-উপন্যাস রচনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞান লেখক হিসেবে ২০২৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন।
ভাইয়াকে নিয়ে মাসিক বিজ্ঞানচিন্তা অনুষ্ঠান করল, ভালো হলো আমাদের অফিসে হলো বলে। ভাইয়া বিজ্ঞানচিন্তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লিখেছেনও অনেক। যদিও দিনটা ভালো ছিল না, আবার অন্য একটা দিনও পাওয়া যাচ্ছিল না। আরও ভালো হলো যে আমাদের মধ্যে তাঁর মেয়েরাও এল। এক মাস পরে তারা ফিরে যাবে। হালিমা ভাবি আসতে পারেননি। আমাদের প্রথম আলো অফিস, বিজ্ঞানচিন্তা সবাই মিলেমিশে তাঁদের জন্য একটা ভালো স্বীকৃতি, সম্মান বা উপহার আমরা দিতে পেরে ভালো লাগছে।
মানুষের সত্যিকারের মূল্যায়ন মৃত্যুর পরেই হয়। তবে মৃত্যুর আগে স্বীকৃতি ও সম্মতি দেওয়া গেলে সেটা আরও ভালো হয়।
(সামান্য সংশোধিত)