
ব্রিটিশ লেখক র্যাচেল কাস্কের নতুন উপন্যাস লাইফ অব এম প্রকাশের পর থেকেই সাহিত্যজগতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। র্যাচেল কাস্ক আউটলাইন ট্রিলজি, সেকেন্ড প্লেস ও প্যারেড–এর মতো প্রশংসিত বইয়ের লেখক। সাধারণত তাঁর নাম সাহিত্যিক বিতর্কের সঙ্গে জড়ায় না। কিন্তু এবার তাঁর নতুন বইকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একেবারেই অন্য রকম কৌতূহল।
উপন্যাসে একজন লেখক তাঁর পরবর্তী বইয়ের জন্য ‘এম’ নামের এক বিখ্যাত অভিনেত্রীকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে বেছে নেন। বইটিতে ‘এম’কে এমন একজন নারী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যিনি বাইরে থেকে বেশ সহজ-সরল ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ভেতরে–ভেতরে অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক ও আত্মধার্মিক।
এখান থেকেই শুরু হয় জল্পনা, এই ‘এম’ কি ন্যাটালি পোর্টম্যান? বইটির বিভিন্ন অংশে ‘এম’-এর জীবনের সঙ্গে পোর্টম্যানের জীবনের বেশ কিছু মিল খুঁজে পেয়েছেন পাঠকেরা। যেমন ‘এম’ ছোটবেলায় অভিনয় শুরু করেন এবং একটি সিনেমায় অভিনয়ের পর তাঁর শৈশব যেন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অনেকে এর সঙ্গে পোর্টম্যানের লিও: দ্য প্রফেশনাল সিনেমায় অভিনয়ের ঘটনা মিলিয়েছেন।
এসব মিলের কারণে গুঞ্জন ছড়ায়, পোর্টম্যান নাকি বইটিতে নিজের যে প্রতিচ্ছবি দেখানো হয়েছে তাতে অসন্তুষ্ট। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেওয়া একটি বেনামি সূত্র ডেইলি মেইল-এর কাছে এমন দাবিও করেছে। তবে পোর্টম্যান নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
পোর্টম্যান মাত্র ১১ বছর বয়সে সিনেমাটির জন্য নির্বাচিত হন ও ১৩ বছর বয়সে এর শুটিং করেন।
আরও একটি মিল হলো, ‘এম’ জানান, তাঁর বাবা-মা সিনেমাটির কিছু দৃশ্য বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং মুক্তির পর স্কুলে তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। পোর্টম্যানও নিজের জীবনে এমন ঘটনার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।
এরপর আসে ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ প্রসঙ্গ। উপন্যাসে ‘এম’ এমন একটি সিনেমায় অভিনয়ের কথা বলেন, যেখানে এক তরুণী ব্যালে নাচের জন্য নির্বাচিত হয়। পাঠকদের অনেকেই এটিকে পোর্টম্যান অভিনীত ব্ল্যাক সোয়ান–এর সঙ্গে মিলিয়েছেন। ওই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পোর্টম্যান অস্কারও পেয়েছিলেন।
এসব মিলের কারণে গুঞ্জন ছড়ায়, পোর্টম্যান নাকি বইটিতে নিজের যে প্রতিচ্ছবি দেখানো হয়েছে তাতে অসন্তুষ্ট। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেওয়া একটি বেনামি সূত্র ডেইলি মেইল-এর কাছে এমন দাবিও করেছে। তবে পোর্টম্যান নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
তাহলে এটি কি সত্যিই বছরের সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক বিতর্ক? নাকি বই বিক্রি বাড়ানোর জন্য তৈরি করা প্রচারণা? সেই উত্তর এখনো অজানা। তবে লাইফ অব এম ইতিমধ্যে এই মৌসুমের সবচেয়ে আলোচিত বইগুলোর একটি।
জল্পনা আরও বাড়ে বইটির পটভূমি নিয়ে। উপন্যাসের শহরের নাম বলা হয়নি, তবে সেটিকে প্যারিস বলে মনে করা হচ্ছে। কাস্ক ও পোর্টম্যান দুজনই প্যারিসে থাকেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তাঁদের পুরোনো পরিচয়ও। পোর্টম্যান আগে কাস্কের বই নিজের অনলাইন বুক ক্লাবে বেছে নিয়েছিলেন এবং ২০২২ সালে তাঁকে একটি আলোচনায়ও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
কাস্ক অবশ্য পুরো বিষয়টি নিয়ে নীরব। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, এই ট্যাবলয়েড–নির্ভর হইচই তাঁর জন্য বেশ চাপের হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, ‘এম’ আসলে কে, এই প্রশ্ন নিয়ে অতিরিক্ত টানাটানি করলে উপন্যাসটির আসল অর্থই হারিয়ে যেতে পারে।
তাহলে এটি কি সত্যিই বছরের সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক বিতর্ক? নাকি বই বিক্রি বাড়ানোর জন্য তৈরি করা প্রচারণা? সেই উত্তর এখনো অজানা। তবে লাইফ অব এম ইতিমধ্যে এই মৌসুমের সবচেয়ে আলোচিত বইগুলোর একটি।