১৯৫৯ সালে মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে প্রতিষ্ঠিত গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে নাসার সবচেয়ে বড় গবেষণা লাইব্রেরি অবস্থিত। বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থীরা মহাকাশ ভ্রমণ ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির পদার্থবিদ্যা ও প্রকৌশল সম্পর্কে জানতে এই আর্কাইভের সহায়তা নেন।
কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন এই লাইব্রেরি বন্ধ এবং এর অধিকাংশ মূল্যবান সংগ্রহ সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। মূলত ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাদের সহযোগীরা নাসার বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে ছিল ১৩টি ভবন ও শতাধিক ল্যাব বন্ধের পরিকল্পনা। এরপর গডার্ডের আর্কাইভও বন্ধের তালিকায় চলে আসে। তবে প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন সাময়িকভাবে পিছু হটে; কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আবার কার্যকর হয়।
বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা সংগঠন স্ট্যান্ডআপ ফর সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কোলেট ডেলাওয়ালার ভাষায়, এই উচ্ছেদ অবৈধ এবং তিনি এটিকে ‘আধুনিক যুগের বই পোড়ানোর’ সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই লাইব্রেরিতে পুরো মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে পরিমাণ জ্ঞান সঞ্চিত আছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অথচ মানবজাতির মহাকাশ–সংক্রান্ত সবচেয়ে বিস্তৃত জ্ঞানভান্ডার এখন উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’
গ্রহবিজ্ঞানী ডেভ উইলিয়ামস জানুয়ারিতে এনপিআরকে বলেছিলেন, গডার্ড লাইব্রেরিতে স্পুতনিক থেকে শুরু করে সব মিশন ও তাদের পাঠানো তথ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ রয়েছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যভান্ডার আধুনিক মহাকাশ মিশন নকশায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গডার্ডের হাজার হাজার বই, নথি ও জার্নাল আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে সহায়তা করেছে।
সূত্র: লিটারেরি হাব
• গ্রন্থনা: রবিউল কমল