বিশ্বসাহিত্যের জন্য ২০২৫ সাল ছিল ব্যতিক্রমী বছর। দীর্ঘদিন পর একাধিক প্রভাবশালী ও কিংবদন্তি লেখকের নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন লেখকেরও আত্মপ্রকাশ হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের ফিকশন সম্পাদক জাস্টিন জর্ডান বিদায়ী বছরের নির্বাচিত সেরা ফিকশনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন।
২০২৫ সালের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল মার্কিন লেখক থমাস পিঞ্চনের নতুন উপন্যাস প্রকাশ। ১২ বছর পর প্রকাশিত শ্যাডো টিকিট নিষেধাজ্ঞা-যুগের পটভূমিতে লেখা একটি রহস্যকাহিনি। উপন্যাসটিতে ফ্যাসিবাদের উত্থান, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সমসাময়িক বিশ্বের সঙ্গে অতীতের যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে।
২০২২ সালে হামলার পর সালমান রুশদির প্রথম ফিকশন দ্য ইলেভেনথ আওয়ার আলোচনায় আসে। পাঁচটি ছোটগল্পের এই সংকলনে মৃত্যুচিন্তা, সময় ও মানসিক দশার কথা উঠে এসেছে।
অন্যদিকে ইয়ান ম্যাকইওয়ানের হোয়াট উই ক্যান নো ভবিষ্যতের পৃথিবী থেকে বর্তমান সময়কে দেখার এক ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা। জলবায়ুসংকট ও মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উপন্যাসটি পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করে।
এক দশকের বেশি সময় পর নতুন উপন্যাস নিয়ে ফিরেছেন চিমামান্দা এনগোজি আদিচি। তাঁর ড্রিম কাউন্ট উপন্যাসে নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চার নারীর জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রেম, মাতৃত্ব, বৈষম্য ও নারী সংহতির মতো বিষয়গুলো বইটির মূল উপজীব্য।
দুই দশক ধরে লেখা কিরণ দেশাইয়ের দ্য লোনলিনেস অব সোনিয়া অ্যান্ড সানি গত বছর পাঠকের হাতে এসেছে। বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারতীয় পরিবার, সম্পর্ক ও পরিচয়ের সংকট নিয়ে এটি একটি বড় পরিসরের উপন্যাস। একইভাবে সারা হলের হেম-এ পৃথিবীর ইতিহাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের গল্প বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের বুকার পুরস্কার পেয়েছে ডেভিড স্যালের ফ্লেশ। মানবদেহ ও ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে নির্মম এই উপন্যাসটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এ ছাড়া ম্যাডেলিন থিয়েনের দ্য বুক অব রেকর্ডস অভিবাসনকে কেন্দ্র করে লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিল।
এরিক পুচনারের ড্রিম স্টেট, সুসান চোইয়ের ফ্লাশলাইট, তাশ আউয়ের দ্য সাউথ, গুরনাইক জোহালের সরস্বতী, কেশব গুহর দ্য টাইগার’স শেয়ার, কেটি কিতামুরার অডিশন উপন্যাসগুলো পরিবার ও ব্যক্তিজীবনের ভেতর দিয়ে ইতিহাস, রাজনীতি ও জলবায়ুসংকটের প্রভাব তুলে ধরেছে।
জো হারকিনের দ্য প্রিটেন্ডার, এমা জেন আনসওয়ার্থের স্লাগস ও রেবেকা ওয়েটের হ্যাভক উপন্যাসগুলোতে ছিল কমেডির ছোঁয়া। অন্যদিকে মারিয়া রেভার এন্ডলিং ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তবতার কৌতুককে পরিণত করে তীব্র প্রতিবাদে, আর ওইসিন ফ্যাগাসের ইডেন’স শোর ছিল উপনিবেশবাদ ও বিপ্লব নিয়ে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ।
নতুন লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ফ্লোরেন্স ন্যাপ। তাঁর উপন্যাস দ্য নেমস একটি শিশুর তিনটি ভিন্ন নাম এবং সেই নাম থেকে জন্ম নেওয়া তিনটি আলাদা জীবনের গল্প বলে। এ ছাড়া নুসাইবা ইউনিস, ওয়েন্ডি এরস্কিন, চার্লি পোর্টারসহ আরও অনেক নতুন লেখক নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
ছোটগল্পে উল্লেখযোগ্য সংযোজন ছিল টনি তুলাথিমুত্তের রিজেকশন। তবে বছরের সেরা সংকলন হিসেবে আলাদা করে চোখে পড়ে লিয়াডান নি খুইনের এভরি ওয়ান স্টিল হেয়ার, যা উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
• গ্রন্থনা: রবিউল কমল