দোকানের কবাট খুলে ভিতরে
চেতনার কুকুরটির দিকে দেখি।
সে সকাল হইতে এক বালতি
শান্ত ঘোলাপানির মতো চুপচাপ।
সুবোধ কুকুর!
এমন কুকুর ভালো লাগে।
এমন একটা কুকুর নিয়ে গোসাঁইজি চলছেন
বদ্রিকাশ্রমের থানে।
আমি তাকে পাউরুটি–বিস্কুট খেতে দেই।
পাউরুটি–বিস্কুট খেয়ে
সে পাকুড়গাছটায় ছায়ায় ঘুমায়ে থাকে
দিনভর।
মন ছড়া কেটে ওঠে,
খোকা ঘুমাল পাড়া জুড়াল
খোকা ঘুমাল পাড়া জুড়াল।
মা–পাখিটা বসে আছে
জবুথবু। বাচ্চারা সবাই আজ
ডানা টান টান
তাদের শস্যভান্ডারে উপচায়
রবিশস্য ধান আর কাউন।
মা–পাখিটা ভুলে গেছে সেসকল পৃথিবীর
সুভদ্র নিয়ম। বসে বসে
সে মেশায় সারা দিন চাল আর ডাউল।
আজ চেয়ারটায় বসে বসে মা–পাখিটা
অবিরল পোহাইবে রোদ—
তবু রৌদ্র কাহাকে বলে?
রোদ কি কবিতা?
অহো, মা–পাখিটা কবিতা জানে না,
সে তো সবিতা চেনে না।
যদিও ছন্দে ছন্দে ছানাগুলি সুনিপুণ
করেছে মানুষ,
মানুষ না পাখি? পাখি না মানুষ?
মা–পাখিটা নিজের কবিতা নিয়ে
দিনমান হাঁটে টুকটুক।
মা–পাখিটা আজব রাখাল সেজেছে
এক—খুলে খুলে শিমুল তুলার ঝাঁক,
ওড়ায় হা–হা–শূন্য—আকাশের দিক।
সূর্য সুবোধ ছিল
আলোটা ভালো ছিল
সকালও ছিমছাম মুখ
তবু কোন ভূত?
তোমার পচন মাথা থেকে
তখন সদ্য ভোর ফুটেছে
আর তোমার মাথা থোপা থোপা কদমফুল
কদম ফুলের মদালসা ঘ্রাণ—
অস্থির–অস্থির করছে!
তাই তুমি জলকে গেলে—তখনই ছলকে গেলে!
সূর্য তাঁতিয়ে তুলেছে পৃথিবীর
তাবৎ বিশ্রীলতা। বত্রিশ আঁকশি দিয়ে
এঁটে ধরেছে তোমার দেহলতা
তোমার পচন শুরু তখন মাথা থেকেই
বিকেলের নদী বয়ে চলে পৃথিবীর
সন্ধ্যাপথে। সরালির মতো ১০০টা
টুপটাপ ডুব। তখন ফিরবে
অমল সকাল? মাথায় তোমার
থোপা থোপা পুষ্পকদম?
দুখী দুনিয়া মেয়েটি কি হাফ ছাড়ল?
কিছুক্ষণ? কতক্ষণ?
তার ছেলের দল, মেয়ের দল
আজি জোছনারাতে বনে চলেছে
কোন সে বন? অমল ভোরবেলাতে
আকাশময় এক বিপুল ম্যাগ্নোলিয়া
পাখা মেলেছে। আয় আয় ডাকছে।
দুখী দুনিয়া মেয়েটির আঞ্চলভরা অশ্রু,
আর যত ঝরা ফুলের বেদনা।
এসব ফুলেল কথা আড়াল করে রেখেছে
সত্যবতীর করুণ মুখ।
দুনিয়া মেয়েটির পথে পথে ছড়ানো
ছেঁড়া পাখিদের ফোঁটা ফোঁটা আয়ু,
ফোঁটা ফোঁটা রক্ত,
সেসব মাটির ঘাস আজও হয়নি ফলন্ত।
দুনিয়া মেয়েটি পাগলী এক—
আকাশময় এক বিপুল ম্যাগ্নোলিয়ার
আঘ্রাণ ছড়িয়ে—আয় আয় ডাকছে!
‘তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে’,
সে দেশ কোনখানে! সে দেশে নেই বাঘ।
এখানে বাঘ আছেন।
আর গরগর গরগর করছেন।
ভীতিপ্রদ! বলি, নেও খেয়ে নেও,
তাল তাল মাংস,
আর জলছাতটায় ঘুম দেও।
তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে
ঘুঙুরের মতো কেঁদে কেঁদে মরছে কে!
সূচাগ্র মেদিনী আমি দিই না তাহাকে
নখে নখে শুভ্র হিমানী ঝরে—
তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে,
মাটির এ কলস আমার,
ছাপিয়ে গেল কোন ক্ষণে!