প্রান্তরের দিবাস্নান সদ্য শেষ; মেঘজলতরঙ্গ-ধ্বনি গেছে থেমে; আশ্চর্য প্রশান্তিময়
নীরবতা; নদী আর আকাশ চুম্বনলগ্ন, নৃত্যপর ধূসরের নানা শেড—জলে
আকাশজমিনে; বাংলা বদলে গেছে, তবু তার চিরন্তন রূপ বরষায় পূর্ণ উদ্ভাসিত;
আমার মোহিত মুগ্ধ দৃষ্টি বাঁ পাশে ফেরাতেই চমকে উঠি! দাঁড়িয়ে রয়েছি তবে আর্ট
গ্যালারিতে! সত্যিই আমি আসিনি বৃষ্টিসিক্ত সর্বংসহা নদীটির তীরে?
২.
নর্দমায় গড়াচ্ছে থ্যাঁতলানো মাথা, জবাই করা সুস্বাদু মাংসের কোনো প্রাণীর
মতোই রক্তের কালচে খয়েরি দাগ, নারীশরীরের বাকিটা কি কুৎসিত ঘোলা
তরলের নিচে খানিকটা জিরিয়ে নিচ্ছে? আর, সন্নিকটে উড়োরেলের মন্থর পথের
নিচে, বাধ্যব্যবহৃত বিবস্ত্র নারীর চারপাশে, কতিপয় মহিষ ও শুয়োর ফুঁসছে, গুঁতো
দিচ্ছে, দুলোচ্ছে কদাকার মাথা... বিলক্ষণ কোনো বিমূর্ত চিত্রকর্ম হবে—
অ্যাবসার্ড, আনপ্রেডিকটেবল, সুরিয়েলিস্টিক...
ও মা গো, ও মাই গড, এ তো ছবি নয়, জলজ্যান্ত বাস্তব!