অলংকরণ: মাসুক হেলাল
অলংকরণ: মাসুক হেলাল

গুচ্ছকবিতা

অবশেষহীনতার হৃদয়ের গভীরে বাতাস

উন্মূল

জীবনের গান গেয়ে যাওয়া লাগে, তাই
মানুষ প্রকৃতি তারাপুঞ্জের পাশে
তুমি আমি আর আমাদের মতো ছোট
ঘাসফুল কেন মুখ তুলে হায় হাসে

হয়তো-বা কোনো সুদূরের পানে ছুটে
চলেছি আমরা অজানার পথচারী
অতীত কালের নিঠুর মায়ায় কাঁদে
অর্ধপুরুষ অর্ধেক কোনো নারী

ধ্রুবতারাটির সঙ্গে সঙ্গে মা গো
আসিয়াছি বহু দূরের রাস্তা হেঁটে
ভীষণ ক্লান্ত, আকাশের দিকে চেয়ে
নিজের শিকড় নিজেই দিয়েছি কেটে

হাতির ঝিলের পাড়ে

হাতির ঝিলের পাড়ে বসে আছি বিকালে—

গুলশান অভিমুখী ইঞ্জিনের বোট
গণবোঝাই, লাল রং বোটগুলি ওই
এফডিসির ঘাট থেকে মহাকালে ঢেউ তুলে
চলে যাচ্ছে

যৌবনের উচ্ছ্বাসের অনুরণনের মতো
যেন কোনো গান হয়ে বাজিতেছ

ওগো ঢেউ, পাড়ে এসে আছড়ে পড়া
ডুকরে ওঠা ঢেউ, মানুষের হৃদয়ের মতো
তুমি কেন বিরহকাতর?

তুমি কেন অবিরাম বোবাধরা কান্না হয়ে
বেজে উঠে ভেঙে পড়ো
হাতির ঝিলের এই পাড়ে
প্রতিদিন?

ধৈর্যহীন বালকের প্রায়?

যে জীবন

অনেক অনেকবার মরে গিয়ে পরে
অন্তঃসারশূন্যতার স্বাদ নিয়ে নিয়ে
অবশেষে যে রকমভাবে আমরা
প্রত্যেকেই বাঁচার অপরিমেয় রস
আস্বাদন করতে করতে করতে করতে

ক্লান্ত হয়ে বলি যে জীবন
মানে, সামনে যে ফুলের কলি ফুটিতেছে
মানে, তার বিকাশের পল ও পলকগুলি
ভালো লাগে কেন? কেন টান
লাগে তব মরিব মরিব ভব—
সংসারে সকল গান গাহিতেছে কোনো

মেয়েলোক না পুরুষ—
অলিঙ্গ অযোনি কোষ
বাতাসের মতো করে
নির্বাক-নির্দোষ

ধানখেতে বাতাসের যে গান

কেন চিরকাল
দিগন্তের দিকে
ধেয়ে চলা মৃদু অনু
-রণিত বাতাস
ধানের রেণুর সনে
নির্জনে
কথা বলে?

ও বাতাস, আমিও ধানের সখা
হেমন্তে আমিও গান
ভেজা ঘাস, আমনের
খেতের আলের পরে বসে—

চিরকাল গাই

হিমেল

শুরুতেই মরে যাওয়া তারাটির আলো
রাতের আকাশটাকে উদ্বেলিত করে

ইতিহাসে যেসব ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ
করার প্রয়োজন হয়নি কখনো
সেই সব ঘটনার একটির মতো—দূরে
মিটমিট করে জ্বলা তারার আলোয়

একটি মুখের কথা ভাবি—
অবশেষহীনতার হৃদয়ের গভীরে বাতাস
বহিতেছে—হিমেল—

খবরের কাগজের ওপরের ধুলা
অবিরাম উড়ায়ে উড়ায়ে—

ভিটামিন ডি খাই

অফিসের ছাদে উঠে একেলা
ভিটামিন ডি খাই
বিরাট আকাশ দেখি

কা কা করতে করতে
কানের পিছন দিয়ে
কাক উড়ে যায়

আহা কালো পাখি
ভালো—
লাগে না আমার

পাশে ফুল ফুটে আছে লাল
একটু পরে ডার্ক হয়ে
যাবে এ বিকাল

গ্রন্থনাজটিল এই বিকালে বসিয়া
আমি মনে মনে ভাবি—

কাক কেন কা কা করেই
অলওয়েজ ডাকে?
কেন কামরুজ্জামান কামু
পুরা নাম ধরে
ডাকে না সে?

আমি রাগ করে ডেস্কে চলে আসি
আমি চঞ্চল হে
আমি সুদূরেরও পিয়াসী—
আমি মনে মনে গানও গাই
কপি লেখি
শীত নামছে ধীরে ধীরে

ফোর্থ ফ্লোর কাঁপিতেছে
কোভিড নাইন্টিন

তবুও তো এই ত্রস্ত—
শীতের প্রাক্কালে
নিশ্চিন্ত কেটে যাচ্ছে দিন
সাহিত্যের স্বয়ংক্রিয় সম্মেলনসম
ওপরে আছেন কবি মাসরুর আরেফিন