আমি গেঁথে আছি ফুল
মানুষ তোমাকে দেখব
একঝাঁক রাজহাঁস শরীর বাঁকিয়ে তার স্রোত
বয়ে গেছে চোখ রক্ত জুঁইয়ের সামনে মেঘ
কুলিয়ার প্রজাপতি তার ডানায়
না ছিল রেশম
পেটের ভাঁজ তার দিকে রয়েছে চেয়ে
এখানে বসে আছি সরবে না ফার্নের শরীর
জলাশয়ের স্মৃতিবাহকেরা
ঝুম বৃষ্টি—
ঘুমিয়ে থাকা জলপাই সেখানে শুকিয়ে যায়
তারে নিয়ে চলো—
বীজ যেখানে বলকায় মরা কাঠের শরীরে
বানানো ফুল
শহরের মাঠেরা যেখানে লুকিয়ে গেছে
এখানে ভুলে যেয়ো আমার শত্রুদের নাম
আলাদা ফুলের বাজারে টের পাই হৃদয় শীতল,
রক্তের চেয়ে লাল হয়ে—
কেন তুমি দুলছ লাল গোলাপ?
ত্বকের খনিজ নিয়ে কাঁটা
সে কাকে বিঁধবে বলে জন্মায়?
মৃত্যুর মতো নিচে নামা—
গোলাপ নড়ে কাঁটার পাশে দৃশ্যের মন্তাজ
শরীর পাহারায় বাতাসের ডাক হাওর হরিয়াল
ফুল কোথাও ফুটে আছে মৃত্যুর পক্ষে
ঘাসের বরজে মজে যাওয়া রোদের তিয়াস।
গোপন কথারা—
মাথা নিচু পাখিদের
দূর তাকিয়ে থাকা
বন ফেলে গেছে বাড়িদের
ছায়ায় অসুখভরা মাটির পথে
আনো তোমার শরীর
কেন শামুকের পিঠ?
পানি ধরে রাখতে পারে না
পিঠে বাঁধা শিশুটি মেঘের মতো তাকিয়ে
শৈবাল শৈবাল চোখ সরোবর
পচা পাতায় গেছে ভরে।
ফসলের মাঠে পা-কালো করবী
ফোটাও আমার শরীরজবা
কালো কালো গুঁড়ায় গেছে ঝরে
আমি কার মুখ দেখব? সব চোখ বের করে সে দাঁড়িয়ে
ডুমুরের শরীর বেয়ে নেমে গেছে ছায়া
উজানে গেছে সাপ, চৌকির কাথায় মরা ফুল
শীতে তারা ঘুমায়, সঙ্গছাড়া চলে যায় গ্রীষ্মে
উঁকি দেয় পাতা, বেবুঝ বৃক্ষের ডাল কোথাও গিয়েছে মুছে
সোনালি, রুপালি রাংতা গলায় ঝুলিয়ে
আমি মুখ দেখব? কার বউ?
নৌকার ধড় লাগানো আছে, মাটিতে লাগানো তার নোলকে রশি
সে যাবে না অনন্তকাল
আটকা পড়েছে বাঁওড়ের পানিতে
সে চায় অন্ধকার তার বেসাতে তুমি ছিলে আলো
তাড়াতে ডাহুকশিকারি
চোখ দুটো উপড়ে ফেলা, সে আনবে অনেক ডাহুক
সে ডাকে—ও মানুষ, মানুষ
কেন মৃত্যু নয় আমার মতো
কাচের হৎপিণ্ড ওই দোকানে সাজানো
বাজাচ্ছিল রূপ এমন করে তারা নিয়েছিল এক হাত
অবিকল তোমার মতো
কফি পৌঁছচ্ছিল তলানিতে যেন কালো শামুক গলছিল
আর পেট থেকে ছাড়ছিল কালো রক্ত
কালো শামুক আটকাতে তুমিই
হয়েছিলে এক সাদা মগ
তার বাইরে ছিলাম আমি—
আঙুল দিয়ে ওঠাচ্ছিলাম চোখগুলো, সরাচ্ছিলাম শরীর
মুছছিলাম মুখগুলো মিশে যেতে যেতে
দূর থেকে পাহাড়ে আর এখানে বাহিরে নামাচ্ছে কিছু লোক কফির বাক্স
সে থাকবে এখানে তাকিয়ে
নদী পার হয়ে
সমুদ্রবোঝাই কালো শামুক
সে কেন এখানে থেমে?