এই অদ্ভুত সন্ধ্যায় নিজেকে বড্ড অচেনা লাগে;
এই সব শীতল দিনে ফুলের স্পর্শ বা গন্ধ নেই কোথাও,
দিন ফুরিয়ে গেলেও বৈকালিক রোদের চাদরে এতটুকু উষ্ণতা জমা নেই।
আমাকে সঙ্গে নিয়ে পাথর শিয়রে ঘুমিয়ে আছে অনাদিকালের রাত,
তবুও সকাল হয়, মরা নদী ডেকে যায়।
মন খারাপের দেশে যাই,
তারপর জল হয়ে
ঝরে পড়ি তোমাদের কাচারিবাড়ির দক্ষিণ আঙিনায়।
লুকিয়ে মারবেল খেলার শৈশবস্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একা বেলগাছ,
আর সব হয়ে গেল বিলুপ্তির
ইতিহাস।
পাতা ঝরা দিন শেষে
ঝিরঝিরে বাতাসের সকাল আসে,
তমালতরু ডালে পাখিদের কোলাহলে জেগে ওঠে আমাদের বিস্ময় লীলাভূমি।
হাড়কাঁপানো শীতল রাতের বেদনায় মরা নদীর পাড়ে
তিরতিরে হাওয়ায় বয়ে যায় বুনো ঘ্রাণ,
আগুনরাঙা পলাশ-শিমুল হাসে আর
হৃদয়ের গভীরে প্রবাহিত হয় আদিম ফল্গুধারার মাদকতা।
প্রতীক্ষিত বিকেলের দরজা খুলে
একপায়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম তোমার সঙ্গে যাব;
অতঃপর, দেখেছি জোছনার মরণ।
নিতাই নদীতে বন্য হাতিরা স্নান সেরে পুনরায় ফিরে গেছে পাহাড়ে,
সাদা ঘোড়ার গাড়ি টগবগিয়ে ছুটে যায় রাত্রির ভেতর।
ঘুমঘোরে মনে পড়ে সেই কবে—ঘোষগাঁও বেনুদির সঙ্গে
মেলায় গিয়েছিলাম দোলপূর্ণিমায়।
একটু কাদাজল লেগে গেলে
দোষ নেই,
কিছুটা ধুয়ে নিতে হয়।
কোনাকুনি পথ এগিয়ে রাখে সময়,
নষ্ট সময়ের কষ্টে মানুষের যত হাহাকার।
অবাধ্য জীবন ডিটারজেন্টে
ধুয়ে নিতে পারলে শুকিয়ে নিতাম তার টেনে কড়া রোদে;
স্বপ্ন দেখতাম ধবধবে সাদা জীবনের কোনাকুনি পথে।