অলংকরণ: মাসুক হেলাল। গ্রাফিকস: প্রথম আলো
অলংকরণ: মাসুক হেলাল। গ্রাফিকস: প্রথম আলো

অজ্ঞাত অন্ধকারে

কিছুক্ষণের মধ্যে কারফিউ শুরু হবে। তার আগেই বাসায় ফেরা দরকার। খুব জরুরি কয়েকটি জিনিস কেনার জন্য বের হয়েছিলাম। বাইরের অবস্থা কেমন, তা জানাও একটা উদ্দেশ্য ছিল।

বাসার কাছেই অফিস। তাই সেখানে ঢুকলাম প্রথমে। অবস্থা বুঝে বাজারে যাব। না যেতে পারলে বাসায় ফিরে আসব। হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হয়েছি। সিকিউরিটি গার্ড বলল, ‘স্যার, কিছু কেনাকাটা থাকলে তাড়াতাড়ি করে ফেলেন। সময় কুলিয়ে উঠতে পারবেন না। যা অবস্থা!’

আমি বললাম, ‘যথেষ্ট সময় আছে। কারফিউ শুরু হওয়ার আগে অনায়াসে হয়ে যাবে।’

সে কাঁচুমাচু হয়ে বলল, ‘স্যার, তবু। কারণ, বাইরের অবস্থা খুব খারাপ।’

তার কথা আর অভিব্যক্তিতে যথেষ্ট বিনয় ছিল। তারও অধিক ছিল দৃঢ়তা। আমাকে পরিস্থিতির গুরুত্ব ঠিকঠাক বোঝাতে না পারার অক্ষমতাও ছিল। আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলল, তার এ কথার গুরুত্ব দিতে হবে। তখনই বের হলাম বাজারের উদ্দেশে। ভাবলাম, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে অফিসে রাখব। কারফিউ শুরু হওয়ার আগে বাসায় ফিরলেই হলো। অফিস থেকে বাসায় হেঁটে ফিরতে পাঁচ-ছয় মিনিটের বেশি লাগে না।

বাজারে গিয়ে দেখি, মাত্র কয়েকটি দোকান খোলা; কিন্তু কয়েক শত মানুষ। জিনিসপত্র কেনাই দুরূহ। দোকানি আর তার সহকারীরা জিনিসপত্র দিয়ে হুঁশ পাচ্ছে না। খালি জিনিসের নাম বলছে আর বিক্রয়কর্মী দিয়ে দিচ্ছে। দাম যা বলছে তা–ই। কোনো মুলোমুলি নেই।

আমি পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করা শুরু করেছি। একটা দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে গেছি। একটা বিকট শব্দ হলো কোথাও। একজন বলল, স্টেশন রোডে সংঘর্ষ চলছে। একটা দোকানের অপেক্ষমাণ ক্রেতারা লাইন ভেঙে অন্য দোকানের লাইনে যুক্ত হলো। একজন বলল, ‘ওই দোকান বন্ধ করল।’

লাইনে দাঁড়ানো আরেকজন বলল, ‘কেন?’

অন্য লাইন ভেঙে আমাদের লাইনে যোগ দিতে আসা একজন বলল, ‘একটা ফোন এল দোকানের মালিকের কাছে। অমনি তিনি কাঁপতে লাগলেন। আমরা বুঝতে পারছিলাম না কী হয়েছে। দোকান বন্ধ করতে করতে ওই দোকানের বিক্রয়কর্মী বলল, মালিকের পোলার চোখে গুলি লাগছে।’

আরেক লোক এসে যুক্ত হলো আমাদের লাইনে। বলল, ‘না ভাই, চোখে না, গুলি লাগছে বুকে।’

অন্যজন বলল, ‘ইশ্, চোখে লাগাটাই ভালো ছিল। বুকে লাগা তো খারাপ।’

অন্য একজন বলল, ‘এটা কেমন কথা ভাই? চোখে লাগা ভালো, বুকে লাগা খারাপ! চোখের দাম নাই নাকি?’

আগেরজন বলল, ‘ভাই, আমি তো সেটা বলতে চাইনি। গুলি চোখে লাগলে বাঁচার চান্স থাকে, বুকে লাগলে তো মৃত্যুর ঝুঁকি।’

অন্য আরেকজন বলল, ‘ভাই, এটাই–বা কেমন কথা? চোখ ছাড়া বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার পার্থক্য কী?’

বাইরে এসে তাই অফিসে এসেছি প্রথমে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আবারও এসেছি অফিসে। সিকিউরিটি গার্ডদের কাছে অনেক খবর থাকে। আর কিছুক্ষণ সময় তো হাতে আছেই। বউ আবার ফোন দিল, ‘জানো, ইলেকট্রিক মিটারে টাকা ভরাতে হবে। ১০০ টাকারও কম আছে। বিকাশ, নগদ কোনোটাই তো কাজ করছে না। রিচার্জ না করলে যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাবে। যা গরম! এসি ছাড়া তো থাকাই মুশকিল।’

এর মধ্যে আরও কয়েকজন এসে লাইনে যোগ দিল। তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, ‘লোকটা অজ্ঞান হয়ে গেল। স্ট্রোক করল কি না! খবর এসেছে, তার ছেলেটা মারা গেছে।’

হইচইয়ের মধ্যেও তার কথা যাদের কানে গেল, তারা সবাই চুপ হয়ে গেল। এই উদগ্র কোলাহলের ভেতরেও এক বিষাক্ত নীরবতা নেমে এল। সবার মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। ঝকঝকে রোদের আলোর মধ্যেও অন্ধকার আড়াল করা গেল না। কেউ কোনো কথা খুঁজে পেল না।

তবু উদগ্র কোলাহলের ভেতরে এই নীরবতার কথা কেউ টেরও পেল না যেন। অনেক কোলাহলের ভেতরে ক্ষুব্ধ নীরবতার মূল্য থাকে না বলে মনে হয়। এই নীরবতার কথা কেউ জানলও না। জানবেও না বলে মনে হয়। আরও তীব্র কোলাহল এসে এই নীরবতাকে ঢেকে দেবে একসময়।

কেউ একজন বলল, ‘এখন লাশটা পেলেই বাপের ভাগ্যি।’

অন্যজন বলল, ‘কেন লাশ দিচ্ছে না নাকি?’

আরেকজন বলল, ‘কেমন কথা বলেন ভাই? ছেলের লাশ দেখা বাবার জন্য ভাগ্য? আপনার মাথা ঠিক আছে?’

সবাই দেখি লোকটার ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি খুব অপ্রস্তুত হলেন। বললেন, ‘যেখানে নিহতের লাশ দিচ্ছে না, সেখানে লাশ পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার না? ’

তার কথা কারও কানে গেল বলে মনে হলো না।

একজন উত্তেজিত কণ্ঠে বলল, ‘মারবে আবার লাশও দেবে না? এটা কেমন অবিচার?’

একজন বলল, ‘ভাই, কোনটা অবিচার? মেরে লাশ বানানো? নাকি মারার পর লাশ ফেরত না দেওয়া?’

আরেকজন জোরে হেসে বলল, ‘ভাই। আপনি দেখি বিচার-অবিচার নিয়ে পড়ে আছেন।’

আরেকজন বলল, ‘কেন? বিচার–অবিচার নিয়ে কথা বলা যাবে না?’

আরেকটা বিকট শব্দ হলো কোথাও। ধোঁয়া উড়তে দেখা গেল। আমরা সবাই কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে থাকা ধূসর ধোঁয়ার দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকলাম।

পকেট থেকে ফোন বের করে বউকে ফোন দিই। কল ঢোকে না। কয়েকবার ট্রাই করার পর ফোন ঢুকল। ওপাশ থেকে বউয়ের উদ্বিগ্ন কণ্ঠ, ‘কী ব্যাপার, তোমাকে কতক্ষণ ধরে ট্রাই করছি! ফোন ঢুকছে না। তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরো।’

আমি বললাম, ‘এখানে খুব ভিড়। একটু সময় লাগবে। কারণ, মাত্র কয়েকটা দোকান খোলা।’ কথার মধ্যে দোকানির ছেলের মৃত্যুর কথা বললাম। ওপাশ থেকে বউয়ের দীর্ঘশ্বাস পড়ার শব্দ পাওয়া গেল কি না, বোঝা গেল না।

কিছু অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অফিসে যাচ্ছি। আরেকটু সময় আছে হাতে। সময়মতো বাসায় ফিরলেই হলো। সময়মতো মানে কারফিউ শুরু হওয়ার আগে আগে আরকি। বাসায় ঢুকলে তো কোনো খবর পাওয়ার সুযোগ নেই। ইন্টারনেট বন্ধ। টিভি থেকে প্রকৃত সংবাদ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, সব টিভি চ্যানেল সরকারি টিভি হয়ে গেছে।

বাইরে এসে তাই অফিসে এসেছি প্রথমে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আবারও এসেছি অফিসে। সিকিউরিটি গার্ডদের কাছে অনেক খবর থাকে। আর কিছুক্ষণ সময় তো হাতে আছেই।

বউ আবার ফোন দিল, ‘জানো, ইলেকট্রিক মিটারে টাকা ভরাতে হবে। ১০০ টাকারও কম আছে। বিকাশ, নগদ কোনোটাই তো কাজ করছে না। রিচার্জ না করলে যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাবে। যা গরম! এসি ছাড়া তো থাকাই মুশকিল।’

পুলিশের এমন আচরণের জন্য উল্টো দিকে রাস্তায় ফিরে কিছুদূর এসে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। রোদের তীব্রতা মনে হয় আরও বেড়েছে। ঘেমে একাকার। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে একটু একটু। এখনো মিটারে টাকা তুলতে পারিনি। বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেলে কী হবে এই গরমে! বিদ্যুৎ থাকলেও এই গরমে ফ্যানের বাতাস আমার জন্য বা আমার শিশুসন্তানের জন্য যথেষ্ট নয়। এদিকে কারফিউ শুরু হওয়ার বেশি দেরি নেই।

এ কথা শুনে আমার মাথা ঘুরতে লাগল। কারণ, মিটার রিচার্জ করি বিকাশের মাধ্যমে। ইন্টারনেট না থাকায় বিকাশে লেনদেন বন্ধ। কোনো দোকানপাট খোলা নেই।

আমার সমস্যার কথা শুনে এক সিকিউরিটি গার্ড বলল, ‘স্যার, মুনশিপাড়ার ঢাকা ব্যাংকের অপোজিটে একটা দোকান আছে। সেখান থেকে রকেটের মাধ্যমে মিটার রিচার্জ করা যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি যান।’

আমি ব্যাগটা রেখে সেখানে গেলাম। দোকান বন্ধ। কয়েক দোকান পরে কয়েকজনের জটলা। আমি তাদেরকে বললাম। তারা একটা ফোন নাম্বার দিল। বলল, ‘একটু রিকোয়েস্ট করেন। দোকান বন্ধ করে এক্ষুনি ওপরে চলে গেল।’

আরেকজন বলল, ‘ভাই, টাকা শেষ। মনে হয় দিতে পারবে না।’

আমি ওই লোকটার দেওয়া ফোন নাম্বারে কয়েকবার ট্রাই করলাম। নাম্বার বিজি। ওয়েটিং। তারপর রিং হয়, কিন্তু রিসিভ হয় না। আমি ট্রাই করেই যাচ্ছি। একবার ফোন ধরল। আমি অনুনয়-বিনয়ের সাথে সমস্যার কথা বলে তাঁর সহযোগিতা চাইলাম। তিনি শুনলেন। কিছু না বলে ফোন কেটে দিলেন। দ্বিধান্বিত আমি আবার ফোন দিলাম। ফোন বন্ধ।

জটলার লোকজন সবই দেখছিল। তারা যে যার মতো চলে যেতে লাগল। একজন বলল, ‘ভাই, সময় কিন্তু বেশি নেই। তাড়াতাড়ি ফেরেন।’

আমি বললাম, ‘কিন্তু আমার এই কাজটা খুব জরুরি।’

তিনি বললেন, ‘তাহলে ভাই নিমতলার ওই দিকে যান। ওখানে একটা দোকানে পেতে পারেন।’

কোনো অটোরিকশা নেই। আমি হাঁটা ধরলাম। ভয়াবহ রোদ আর ভ্যাপসা গরম। অফিসে-বাসায় এসি রুমে থাকার অভ্যাসের কারণে সামান্য রোদ আর গরমও অসহ্য লাগে। বের হয়েছি অনেকক্ষণ আগে। রোদের ভেতর ছোটাছুটি করছি। মানসিক চাপ তো আছেই। আমার অবস্থা রীতিমতো কাহিল। কিন্তু উপায় নেই।

কিছুক্ষণ হাঁটার পর দেখলাম, পুলিশের টহল। যুদ্ধংদেহি ভাব। আমাকে লাঠি দিয়ে ইশারা করল ফিরে যেতে। আমি আমার সমস্যার কথা বলতে যাব, তখনই লাঠি উঁচিয়ে মারার ভঙ্গি করল।

পুলিশের এমন আচরণের জন্য উল্টো দিকে রাস্তায় ফিরে কিছুদূর এসে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। রোদের তীব্রতা মনে হয় আরও বেড়েছে। ঘেমে একাকার। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে একটু একটু। এখনো মিটারে টাকা তুলতে পারিনি। বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেলে কী হবে এই গরমে! বিদ্যুৎ থাকলেও এই গরমে ফ্যানের বাতাস আমার জন্য বা আমার শিশুসন্তানের জন্য যথেষ্ট নয়। এদিকে কারফিউ শুরু হওয়ার বেশি দেরি নেই।

এরই মধ্যে সিকিউরিটি গার্ড ফোন করল, ‘স্যার, পেয়েছেন?

‘না।’

আমি অথবা লোকটা হয়তো জানে না যে সে বেঁচে নেই। হয়তো কোথাও আছে। হয়তো কোথাও নেই। হয়তো মরে গেছে। অথবা মরেনি। তবে সে বেঁচে আছে বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানের অপেক্ষার মধ্যে। আর সূর্যালোকিত দিনে অজ্ঞাত অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া কিছু রহস্যের ভেতরে।

‘তাহলে স্যার নেসকো অফিসে যান। সেখানে কাজ হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি, স্যার। কারফিউ টাইমে বাইরে একেবারেই থাকবেন না। বালুয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ছাত্র–ছাত্রীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। সংঘর্ষ লিলির মোড়ে এলে আপনি তো এদিক দিয়ে বাসাতেও ফিরতে পারবেন না। খুব সমস্যায় পড়ে যাবেন, স্যার।’

আমি অগত্যা হাঁটতে শুরু করলাম।

ভাগ্যক্রমে একটা অটোরিকশা পেলাম; কিন্তু রাজি হয় না। অনেক অনুরোধের পর রাজি হলো দ্বিগুণ দামে।

নেসকো অফিসে গিয়ে তাদেরকে বললাম। একজন বলল, ‘ভাই কারেন্ট না থাকলে তো আমাদেরকে হেনস্থা করেন, মারধর করেন। কারেন্টের বাচ্চা বলে গালি দেন। কারেন্ট শক দিয়ে মারতে চান। এখন?’

আরেকজন বলল, ‘ভাই হবে না। বের হয়ে যান। ঝামেলা পাকায়েন না।’

আমি বের হয়ে এলাম ঘর থেকে। বারান্দায় দাঁড়ালাম। কেউ একজন এসে দরজা লাগিয়ে দিল। বউ ফোন দিচ্ছে: ‘এতক্ষণ লাগছে কেন? তাড়াতাড়ি রিচার্জ করে ফিরতে সমস্যা কোথায়! বাইরে বের হয়েই গল্প জুড়ে দিয়েছ?’

এভাবে চিৎকার করে বউ ফোন রেখে দিল।

বিধ্বস্ত অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকি। অটোরিকশাওয়ালা বলে, ‘ভাই, কেমন মানুষ আপনি? কারফিউ শুরু হয়ে গেল, এখন যাবেন কীভাবে?’

আমি বলি, ‘চলুন, আমি আমার সমস্যার কথা বলব। আশা করি পুলিশ বুঝবে।’

অটোরিকশাওয়ালা আমার দিকে একটা ভস্মদৃষ্টি দিয়ে অটোরিকশায় স্টার্ট দিল। আমি তড়িঘড়ি করে উঠতে গিয়ে অটোরিকশার সাথে মাথায় প্রচণ্ডভাবে বাড়ি খেলাম। মাথা চেপে কোনো রকম সিটে বসে পড়লাম। ফাঁকা রাস্তায় খুব জোরে অটোরিকশা চলতে লাগল।

বুটি বাবুর মোড়ে এসে পুলিশ অটোরিকশা আটকে দিল। চালকের নিতম্বে লাঠি দিয়ে একটা বাড়ি দিল; আমাকে টেনেহিঁচড়ে নামাল। পিঠে একটা বাড়ি দিয়ে বলল, ‘হুইপের বাড়িতে বোমা মারলি কেন? ওই হালার পুত ক, কে তোরে এই কাম করবার কইচে? ওই বাইনচোত, সত্যি কইরা ক।’

আমি তার দিকে বিস্ময়-বিস্ফারিত দৃষ্টিতে তাকাই। আমি একটা ব্যাংকে জব করি। শাখা পর্যায়ের শীর্ষ পদে আছি। খুব নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করি। এ রকম গালি এই জীবনে কেউ আমাকে দেবে, তা ভাবিনি। জীবনে ভালোমতো একটা পটকাও ফোটাতে পারি নাই, আর আমি কিনা হুইপের বাড়িতে বোমা মেরেছি!

এরপর আমার আর কিছু মনে নেই।

পরিশিষ্ট : পরদিন হয়তো সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছিল হুইপের বাড়িতে বোমা মারা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার। তারপর হয়তো খবর এসেছে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে সন্ত্রাসীদের সাথে ক্রস ফায়ারে নিহত। অথবা কোনো খবরই আসেনি।

আমি অথবা লোকটা হয়তো জানে না যে সে বেঁচে নেই। হয়তো কোথাও আছে। হয়তো কোথাও নেই। হয়তো মরে গেছে। অথবা মরেনি।

তবে সে বেঁচে আছে বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানের অপেক্ষার মধ্যে। আর সূর্যালোকিত দিনে অজ্ঞাত অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া কিছু রহস্যের ভেতরে।