বাতেন মামার গুডবুক–ব্যাডবুক আছে। রাইসুল, এসরাজ ও আবু মুসা—এই তিনজন এখন গুডবুকে আছে। জাকারিয়া, জোসেফ একে-ফোরটি সেভেন, আলতাফ ব্যাডবুকে ছিল। এই তিনজন অপঘাতে মরেছে। আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে, বাতেন মামার এসবে কোনো হাত নাই। জাকারিয়া জুলাভাতি সাইনবোর্ডের আন্ডারে প্রমোদভ্রমণে গিয়েছিল বুড়িগঙ্গায়—জাহাজ থেকে পড়ে মরেছে। জোসেফ একে-ফোরটি সেভেন নামের রহস্য—জোসেফের একে-ফোরটি সেভেন ছিল। একাধিক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করেছে। তার মৃত্যুর পর ভয়ংকর সেই মারণাস্ত্রের হদিস মিলে নাই। বৈদ্যুতিক ত্রুটিজনিত বিপাকে জোসেফ একে-ফোরটি সেভেন অরনেট শপিং মলের ক্যাপসুল লিফটে আটকা পড়ে মরেছে। আলতাফের মৃত্যুরহস্য আনসলভ্ড। মুখে রক্ত তুলে পড়ে ছিল রাস্তায়।
বাতেন মামা যথোচিত শোক প্রকাশ করেছেন বারংবার। আলতাফের বিধবা বউ লুৎফুন্নাহার শেলিকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। এখন বাতেন মামার ব্যাডবুকে কে বা কারা আছে? কাদের নাম ধাতুর পাত তক্ষণ করে লেখা হয়ে আছে? ফিসফাস মোতাবেক জুনায়েদ, কাইয়ুম ও ফিউরির। অবস্থাদৃষ্টে এখন মনে হচ্ছে যদিও বাতেন মামা কাইয়ুমের নাম কেটে দিয়েছেন। নর্দ্দাবাজারের চিটাগাইঙ্গা বি গ্রেডের মাস্তান। লায়েক হয়ে গেছে। ছুরি মেরে আহত করেছে কাইয়ুমকে, বাতেন মামা কাইয়ুমের জন্য নিরাপদ হাসপাতাল ও ওষুধপাতির ব্যবস্থা করেছেন।
বাতেন মামা চিটাগাইঙ্গার সঙ্গে দেখা করতে বলে দিলেন জোসেফকে। নগদ ১০ হাজার টাকা দিতে হলো। আট ঘণ্টার ভাড়া বাবদ। চিটাগাইঙ্গা একটা উজি মেশিন দিল। গুলি ভরা মেশিন। সেফটি ক্যাচ অফ করে জোসেফ চিটাগাইঙ্গার কপালে ধরল, ‘এখানে?’ তলপেটে ধরল, ‘না এখানে?’
জোসেফের মেশিন দরকার। বাতেন মামা চিটাগাইঙ্গার সঙ্গে দেখা করতে বলে দিলেন জোসেফকে। নগদ ১০ হাজার টাকা দিতে হলো। আট ঘণ্টার ভাড়া বাবদ। চিটাগাইঙ্গা একটা উজি মেশিন দিল। গুলি ভরা মেশিন। সেফটি ক্যাচ অফ করে জোসেফ চিটাগাইঙ্গার কপালে ধরল, ‘এখানে?’ তলপেটে ধরল, ‘না এখানে?’
চিটাগাইঙ্গা বলল, ‘মেশিন সরা!’
জোসেফ চিটাগাইঙ্গার তলপেটে প্রথম গুলিটা করল। চিটাগাইঙ্গার চোখে অবিশ্বাস ফুটল। সর্বশেষ অভিব্যক্তি বলা যায়। জোসেফ দ্বিতীয় গুলিটা করল চিটাগাইঙ্গার কপালে। নর্দ্দাবাজার দিনে শব্দপ্রবণ এলাকা। মানুষ ও যানবাহনের ক্যাঁ-কো, কনস্ট্রাকশনের ঢালাই মেশিন বা টাইলস মেশিনের তীক্ষ্ণধার শব্দে ভরে থাকে। গুলির শব্দও হয় আকছার। চিটাগাইঙ্গার লাশ তার ঘরে পড়ে থাকল। নর্দ্দাবাজার থেকে বেরিয়ে জোসেফ নর্দ্দাবাজার ফাঁড়িতে কল দিল, ‘নর্দ্দাবাজারের চিটাগাইঙ্গা স্পট ডেড, এস আই খালেক ভাই।’
ফাঁড়ির এসআই এস আই (সহিদুল ইসলাম) খালেক বলল, ‘আপনি কে আমারে কল দিসেন? ট্রুকলারে নাম উঠে নাই।’
‘এস আই খালেক ভাই, আপনার ফোনে ফলস কলার নাই?’
ফোনের লাইন কেটে দিয়ে জোসেফ গুলশান–২ থেকে উধাও হয়ে গেল বাইকে। বাতেন মামা প্রেরিত বাইকার সাইনবোর্ডে নামিয়ে দিল জোসেফকে। টিকিট কাটা আছে। জোসেফ কক্সবাজারের গাড়িতে উঠল। এদিকে চিটাগাইঙ্গার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ উৎসুক মিডিয়াকর্মীদের বলল, মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুন হয়েছে চিটাগাইঙ্গা। চিটাগাইঙ্গার এনআইডি কার্ড পায় নাই পুলিশ। চিটাগাইঙ্গার প্রকৃত নাম এ জন্য জানা যায় নাই। অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এসআই এস আই খালেককে আবার কল দিল জোসেফ, ‘এস আই খালেক ভাই?’
‘বলেন।’
‘চিটাগাইঙ্গার বাপের নাম কী? এস আই খালেক?’
এস আই খালেক বেকার শকার-বকার করল।
কাইয়ুম হিসাব–নিকাশ করে বুঝল সে আরও কিছুদিন আছে। বাতেন মামার ব্যাডবুকে আপাতত তার নাম আর নাই। কথা হলো সেটা কত দিনের জন্য? জোসেফের সঙ্গে কথা বলল কাইয়ুম, ‘বিনিয়োগকারী কে?’
‘সোল হাচ্চা।’
‘আর্টিস্ট সোল হাচ্চা?’
‘আর্টিস্ট সোল হাচ্চা কে ওস্তাদ?’
‘আর্টিস্ট। পেইন্টার।’
এই সোল হাচ্চা মাকড়সা ব্যবসায়ী। ‘হাচ্চা স্পাইডার সাপ্লাই’-এর প্রোপ্রাইটার। চিটাগাইঙ্গা বুঝতে পারে নাই, হাচ্চার লেজে পাড়া দিয়েছিল, হাচ্চা বাতেন মামার শরণাপন্ন হবে স্বাভাবিক। তবে বাতেন মামার সঙ্গে আমার কথা হয় নাই। বিনিয়োগকারী ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছিল। পাওনা গন্ডা মিটিয়ে ডিল।’
‘অ। আট কালচার লাইনের মানুষ। না ওস্তাদ এই সোল হাচ্চা মাকড়সা ব্যবসায়ী। ‘হাচ্চা স্পাইডার সাপ্লাই’-এর প্রোপ্রাইটার। চিটাগাইঙ্গা বুঝতে পারে নাই, হাচ্চার লেজে পাড়া দিয়েছিল, হাচ্চা বাতেন মামার শরণাপন্ন হবে স্বাভাবিক। তবে বাতেন মামার সঙ্গে আমার কথা হয় নাই। বিনিয়োগকারী ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছিল। পাওনা গন্ডা মিটিয়ে ডিল।’
‘হাচ্চা স্পাইডার সাপ্লাই’। কয়েক ধরনের মাকড়সা সাপ্লাই দেয় এরা। ১. ব্ল্যাক উইডো ২. ব্রাউন রিক্লুক্স ৩. সিডনি ফানেল-ওয়েব ৪. ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডারিং স্পাইডার ৫. রেডব্যাক স্পাইডার। ফারিয়া নুমা বলল কাইয়ুমকে। কাইয়ুম সন্তুষ্ট হলো। সোল হাচ্চা টপ সিক্রেট কোনো তথ্য ফারিয়া নুমার রূপে মুগ্ধ হয়ে দেয় নাই। তা–ও যা বলেছে যথেষ্ট বলেছে। বিষাক্ত হলেও ব্রাউন রিক্লুস অত্যন্ত লাজুক ধরনের মাকড়সা। সিডনি ফানেল-ওয়েব সেরা বিষাক্ত। অল্প কম বিষাক্ত ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডারিং স্পাইডার।
‘কতটা বিষাক্ত? কামড় খেয়ে মানুষ মরে?’
‘মরে। তবে অ্যান্টিভেনম আছে এখন। সিডনি ফানেল-ওয়েবের কামড়ে স্নায়ুযন্ত্র বিকল হয়ে হৃৎস্পন্দন কমে মানুষ মরে যায়। ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডারিং স্পাইডারের কামড়ে শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়ে হৃৎপিণ্ড বিকল হয়ে যায়।’
ফারিয়া নুমা গুগল করে বলল। না হলে সে বিদ্যাধরী না। ‘ও’ লেভেল করেছে বলে।—ও!
২৯ দিন পর কাইয়ুম হাসপাতাল ছাড়ল। ‘হাচ্চা স্পাইডার সাপ্লাইয়ের’ সোল সাচ্চার সঙ্গে দেখা করল নিভৃতে।
‘এই ব্যবসা কত বছর ধরে করেন?’
‘আঠারো বছর।’
‘অবৈধ ব্যবসা?’
‘আপনি কি বৈধ?’
‘সিডনি ফানেল-ওয়েব গোটা কত?’
‘জি?’
‘আমি একটা সিডনি ফানেল-ওয়েব কিনব।’
‘ছাব্বিশ হাজার।’
সই।
সিডনি ফানেল-ওয়েব ভয়ংকর দেখতে! মৃত্যুদূতস্বরূপ। কাঠি কাঠি পা। ধাতব ভাব আছে গড়নে। সায়েন্স ফিকশন জাতীয় ভাবও বলা যায়। হলিউডের ‘ট্রান্সফরমার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবিতে কিছু স্পেশশিপ দেখানো হয়েছে সিডনি ফানেল-ওয়েবের মতো দেখতে।
‘এরা কী খায়?’
‘ক্ষুধার্ত থাকুক।’ সোল হাচ্চা বলল। আবার বলল, ‘মানুষের প্রাণ।’ বলে হা হা করে হাসল।
ছোট একটা কাচের শিশিতে প্রাণীটা। পৌনে দুই ইঞ্চি মতো হবে দৈর্ঘ্য।—চিটাগাইঙ্গা হত্যাকাণ্ডের মধ্যস্থতা যথারীতি বাতেন মামা করেছেন। সোল হাচ্চা বলেছে বাতেন মামা ‘হাচ্চা স্পাইডার সাপ্লাইয়ে’ আসেন নাই। নিভৃতে দেখা করেছিলেন। বাতেন মামার জন্য তবে একটা সারপ্রাইজ হতে পারে এই অষ্টবক্র প্রাণী।
বাতেন মামার গুডবুকে এখন টপে যে তিনজনের নাম আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে লো প্রোফাইলের মানুষ হলো আবু মুসা। ফকিরেরপুলের এস আর প্রিন্টিং প্রেসের মেশিনম্যানের অ্যাসিস্ট্যান্ট সে। বয়স ছেচল্লিশ–সাতচল্লিশ হবে। সাধারণ নিরীহ মুখাবয়ব। ছোটখাটো গড়নের মানুষ। হাজী বকশের মেসের তিনতলার ৪২ নাম্বার রুমের মুরুব্বি বাতেন মামা। আগের একজন বোর্ডার বিয়ে করে মেস ছেড়ে দিয়েছে। বাতেন মামা তার বদলি হিসাবে যাচাই–বাছাই করে আবু মুসাকে নিয়েছেন। বাতেন মামা মেসে থাকেন কেন? বাতেন মামাকে হত্যার চেষ্টা কেউ কখনো করে নাই? করেছে। বিফল হয়েছে।
কাইয়ুম কল দিল বাতেন মামাকে, ‘দেখা করব, মামা।’ বাতেন মামা সময় দিলেন সন্ধ্যায়। মেসে থাকবেন। কাইয়ুম দুপুরের আগে আগে এস আর প্রিন্টিং প্রেসে ঢুকল। আবু মুসাকে বলল, ‘নানা, চলো।’
আবু মুসা বলল, ‘কনে যাবু নানা?’
‘ভাত খাব।’
ফকিরেরপুলের সেরা ভাতের হোটেল এখন আল-বোগদাদীয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। এদের বেগুনভাজা, কালাভুনা অমৃত। ডাল অমৃত। চা অমৃত। ফুল কোর্স লাঞ্চ। কাইয়ুম বলল, ‘বিশেষ একজনের জন্মদিন উপলক্ষে এই সামান্য খাওয়াদাওয়ার আয়োজন, নানা।’
আবু মুসা বলল, ‘জন্মদিন? কার নানা? নানির নি?’
‘রাখো তোমার নানি। নানা তুমি সত্যি জানো না, বাতেন মামার জন্মদিন আজ?’
‘বাতেন মামার জন্মদিন!’
‘হ্যাঁ, নানা। আজ মানে আজ রাত বারোটায়।’
‘জানতাম না নানা। মাগরিবের নামাজে দাঁড়ায়ে তালি পর খাস দিলে দোয়া করবু তার লাগি।’
‘আরেকটা কাজ করতে হবে নানা।’
‘জি নানা?’
‘বাতেন মামাকে একটা সারপ্রাইজ দিতে হবে।’
‘সারপ্রাইজ? বুঝলাম না, নানা।’
‘জন্মদিনের সারপ্রাইজ। এই যে, এটা।’
ছোট একটা বাক্স বা শিশি টেবিলে রাখল। বুঝিয়ে পড়িয়ে দিল আবু মুসাকে। প্লাস্টিকের একটা মাকড়সা আছে শিশিতে। বাতেন মামা তার নিয়মে চলেন। ঘুমিয়ে পড়েন রাত ১১টার মধ্যে। রাত ১২টায় শিশি খুলে এই মাকড়সা বাতেন মামার বুকে ছেড়ে দিতে হবে।
কাইয়ুম তার প্যান্টের পকেট থেকে বের করে কাগজে মোড়ানো ছোট একটা বাক্স বা শিশি টেবিলে রাখল। বুঝিয়ে পড়িয়ে দিল আবু মুসাকে। প্লাস্টিকের একটা মাকড়সা আছে শিশিতে। বাতেন মামা তার নিয়মে চলেন। ঘুমিয়ে পড়েন রাত ১১টার মধ্যে। রাত ১২টায় শিশি খুলে এই মাকড়সা বাতেন মামার বুকে ছেড়ে দিতে হবে। কাইয়ুম ঠিক তখন বাতেন মামাকে কল দিয়ে ‘হ্যাপি বার্থডে’ বলবে।
সাইপ্রাইজের আইডিয়া আবু মুসার পছন্দ হলো। সন্ধ্যায় হাজী বকশের মেসের তিনতলায় উঠল কাইয়ুম। ৪২ নম্বর রুম অন্ধকার দেখল। তবে দরজায় তালা ঝুলছে না। বাতেন মামা অন্ধকার থেকে ডাক দিলেন, ‘আয়।’
কাইয়ুম ৪২ নম্বরে ঢুকল। বাতেন মামা তার হাতলওয়ালা কাঠের চেয়ারে পা উঠিয়ে বসে আছেন।
‘ঘর অন্ধকার করে বসে আছেন মামা।’
‘অন্ধকার করি নাই, হয়ে গেছে। লাইট জ্বালা।’
কাইয়ুম লাইট জ্বালিয়ে বসল।
‘লতিফ ভাই নাই মামা?’
‘তোর কি লতিফকে দরকার?’
‘তা না। রুমে দেখছি না।’
‘লতিফ মাসে একবার রেডলাইট এরিয়ায় যায়। সকালে ফিরবে। এসরাজ বরিশালে গেছে। আবু মুসা ফিরবে। টাইম হয় নাই।’
বাতেন মামা বসে থাকলেন। তবে চেয়ার থেকে পা নামালেন। এ সুযোগের অপেক্ষা করছিল কাইয়ুম। ঝাঁপ দিয়ে পড়ল। বাতেন মামার পা জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠল বেঁচে থাকার কর্কশ আনন্দে। আর্তস্বরে বলল, ‘বেঁচে থাকা কী সুন্দর মামা! বেঁচে থাকা কী সুন্দর!’
‘সেটা যারা বেঁচে থাকে বা থাকবে। তুই উঠে বস। তোর কথা শুনি।’
‘আপনার ঋণ আমি শোধ করতে পারব না, মামা।’
‘হাসপাতালের বিল বেশি হয় নাই। উঠে বস কাইয়ুম।’
উঠে বসল কাইয়ুম।
‘তোর রাশি কী?’
‘জি মামা?’
‘কন্যা রাশি। আজ রবিবার। ১৪ সেপ্টেম্বর।’
‘জি মামা।’
‘তোর জন্মদিন?’
চোখ ভেজা কাইয়ুমের মাথায় ভারী কিছু পড়ল। কেউ মারল? অন্ধকার হয়ে গেল কাইয়ুমের পৃথিবী। কতক্ষণ এই অন্ধকার থাকল? কতক্ষণ পর কেউ তার নানাকে ডাকল, ‘ও নানা! ও নানা!’
কে কার নানাকে ডাকে?
কাইয়ুম কোথায়? কী হয়েছে? ভোঁতা যন্ত্রণা হচ্ছে মাথা–মগজে।
‘ও নানা! কাইয়ুম নানা।’
কাইয়ুম তাকাল! আবু মুসার মুণ্ডু কি ছাদ থেকে ঝুলছে? আবু মুসা ডাকছিল ‘নানা’? বাতেন মামার মুণ্ডু ছাদ থেকে ঝুলছে। বাতেন মামা বললেন, ‘শুভ জন্মদিন।’
আবু মুসা বলল, ‘ছাড়ি দিব নানা?’
বাতেন মামা বললেন, ‘দে।’
খাটের সঙ্গে বাঁধা কাইয়ুমের হাত–পা। আবু মুসা মুখে টেপ মেরে দিল। কাইয়ুমের শার্ট বুকের কাছে ছিঁড়ে দিল। বাতেন মামা বললেন, ‘ভিডিও হচ্ছে।’
কিসের ভিডিও?—সিডনি ফানেল-ওয়েব স্পাইডারের কামড়ে কীভাবে একটা মানুষ মরে যায়।
দুই ঘণ্টার কম সময়ে মরে গেল কাইয়ুম। বাতেন মামা থানায় কল দিলেন। পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেল কাইয়ুমের। বাতেন মামা তার ব্যাডবুকে আবার কাইয়ুমের নাম লিখে রাখলেন। সিডনি ফানেল-ওয়েব মাকড়সা সেটা কাচের শিশি থেকে দেখল।