
প্রথমবারের মতো চীনের মান্দারিন ভাষায় লেখা উপন্যাস তাইওয়ান ট্রাভেলগ জিতেছে আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার। তাইওয়ানের লেখক ইয়াং শুয়াং-জির লেখা ও লিন কিং অনূদিত তাইওয়ান ট্রাভেলগ যৌথভাবে এ বছরের সম্মানজনক এই পুরস্কার বিজয়ী হয়েছে।
১৯ মে সন্ধ্যায় লন্ডনের টেট মডার্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ৫০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের এই পুরস্কার লেখক ও অনুবাদকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে।
তাইওয়ান ট্রাভেলগ উপন্যাসটি এমনভাবে লেখা হয়েছে, যেন একটি স্মৃতিকথার অনুবাদ। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন নারী ঔপন্যাসিক, যিনি ১৯৩৮ সালে জাপানের শাসনাধীন তাইওয়ান ভ্রমণে যান। সেখানে এক দোভাষীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়, আর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে জন্ম নেয় প্রেম। খাবার, সংস্কৃতি ও ঔপনিবেশিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়ে যায়। বইটিতে কাল্পনিক ফুটনোট, চরিত্রদের মন্তব্য ও অনুবাদকের বাস্তব নোট—সব মিলিয়ে এক অভিনব মেটাফিকশনাল আবহ তৈরি হয়েছে।
বিচারক প্যানেলের প্রধান ও ঔপন্যাসিক নাতাশা ব্রাউন বলেন, উপন্যাসটি একই সঙ্গে সুন্দর একটি প্রেমের গল্প এবং শক্তিশালী উপনিবেশ-পরবর্তী রাজনৈতিক আখ্যান।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ড আদার স্টোরিজ এ পুরস্কার জিতল। গত বছর তাদের প্রকাশিত হার্ট ল্যাম্প এ পুরস্কার জিতেছিল।
এ জয়ের মাধ্যমে ইয়াং শুয়াং-জি ও লিন কিং প্রথম তাইওয়ানিজ ও তাইওয়ানিজ-আমেরিকান হিসেবে এ পুরস্কার জিতলেন। মূল মান্দারিন সংস্করণটি এর আগেই তাইওয়ানের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান গোল্ডেন টাইপড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল। আর ইংরেজি অনুবাদটি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ফর ট্রান্সলেটেড লিটারেচার জেতে।
ইয়াং কেবল উপন্যাসই লেখেন না, তিনি প্রবন্ধ, মাঙ্গা ও ভিডিও গেমের স্ক্রিপ্টও লেখেন। অন্যদিকে লিন কিং নিজেও একজন কথাসাহিত্যিক, খুব শিগগির তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘উইব’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
এক সাক্ষাৎকারে ইয়াং জানান, নব্বইয়ের দশকে তাইওয়ানে রোমান্টিক উপন্যাসের জনপ্রিয়তা থেকেই তাঁর লেখালেখির শুরু। স্কুলজীবনে বন্ধুরা মিলে একটি লেখকগোষ্ঠী গড়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত একমাত্র তিনিই লেখালেখি চালিয়ে যান।
তাইওয়ান ট্রাভেলগ লেখার পেছনের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে ইয়াং বলেন, কোরিয়া ও তাইওয়ান দুই দেশই একসময় জাপানের উপনিবেশ ছিল। তবে কোরিয়ানদের মধ্যে সেই ইতিহাস নিয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা যায়। কিন্তু তাইওয়ানের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেই জটিল ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা থেকেই উপন্যাসটি লেখা।
এবার বুকারের হ্রস্ব তালিকায় আরও ছিল ড্যানিয়েল কেলম্যানের দ্য ডিরেক্টর, অনুবাদ করেছেন রস বেঞ্জামিন; মারি এনদিয়ায়ের দ্য উইচ, অনুবাদ করেছেন জর্ডান স্টাম্প; রেনে কারাবাশের শি হু রিমেইনস, অনুবাদ করেছেন ইজিডোরা অ্যাঞ্জেল; আনা পাওলা মাইয়ার অন আর্থ অ্যাজ ইট ইজ বিনিথ, অনুবাদ করেছেন পদ্ম বিশ্বনাথন; শিদা বাজিয়ারের দ্য নাইটস আর কোয়াইট ইন তেহরান, অনুবাদ করেছেন রুথ মার্টিন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
গ্রন্থনা: রবিউল কমল