সময় গণনা চলছে। কে পেতে যাচ্ছেন সাহিত্যে নোবেল।
নোবেল পুরস্কার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিখ্যাত লেখক পাননি। লিও তলস্তয়, হোর্হে লুইস বোর্হেস, হেনরিক ইবসেন, মার্ক টোয়েন, ভার্জিনিয়া উলফ, এমিল জোলা, আন্তন চেখভ, মার্সেল প্রস্ত, জেমস জয়েস, নভোকভ, রবার্ট ফ্রস্টসহ অনেকে।
আবার এমন অনেক লেখক পেয়েছেন যাঁদের লেখা পুরস্কার পাওয়ার পরবর্তী সময়ে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
নোবেল পুরস্কার নিয়ে ‘বাজি’ বা ‘পোলিং’ হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকেই। মূলত সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে জুয়া খেলা বা বাজি ধরা যা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রচারিত হয়। এ বছরও সাহিত্যে কে নোবেল পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন, এ নিয়ে চলছে অনেক জরিপ।
পোলিংও করছে অনেক ওয়েবসাইট। যেমন রেডডিট। এমন আরেকটি সংস্থা বা সাইটের নাম ল্যাডব্রোকস। তারা প্রতিবছরই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে কে কে এগিয়ে রয়েছেন পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকায়, সেসব তথ্য প্রকাশ করে। খুব কম সময়ই এসব হিসাব মেলে। তবু বিভিন্ন দেশে এ পুরস্কার ঘোষণার আগে ‘কে কে পেতে পারেন এ পুরস্কার’ এমন শিরোনামে অনেক লেখাই প্রকাশিত হয়।
এ লেখার উদ্দেশ্য, তালিকা দীর্ঘ না করে দুজনকে বেছে নেওয়া এবং বলা যে দুজনের একজনই পাবেন এবারের নোবেল পুরস্কার। এ-ও একধরনের বাজি। আবার কিছু হিসাব-নিকাশও রয়েছে।
যেমন অনেক সাহিত্যিক রয়েছেন, যাঁদের নাম প্রায়ই প্রকাশিত হয় যে ‘অমুক’ পেতে পারেন পুরস্কার, কিন্তু দেখা যায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা পুরস্কার পাননি। সে রকম কিছু সাহিত্যিকের নাম স্মরণ করে তাঁদের আগেই তালিকা থেকে বাদ দিলে দুজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় পৌঁছাতে সুবিধা হবে।
২০১৮ সাল থেকে একটি অন্য সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। ওই বছরের আগেও বহু নারী সাহিত্যিক নোবেল পেয়েছেন, যেমন অ্যালিস মুনরো, হার্টা মুলার, ডরিস লেসিং, ভিসলাভা সিমবরস্কা, টনি মরিসনসহ আরও কয়েকজন। কিন্তু ২০১৮ সালের নোবেল পুরস্কার পোলিশ ঔপন্যাসিক ওলগা টোকারচুক পাওয়ার পর একটা ব্যাপার লক্ষ করা গেল; এক বছর নারী পান তো পরের বছর পুরুষ সাহিত্যিক পান। যেমন ২০১৯ সালে পেলেন পিটার হান্ডকে। ঠিক তার পরের বছর ২০২০ সালে পেলেন লুইস গ্লুক। ২০২১ সালে আবদুলরাজাক গুরনাহ, ২০২২ সালে পেলেন অ্যানি আর্নো। ২৩ সালে পান ইয়ন ফসে। ২৪ সালে পেলেন হান কাং। ২৫ সালে লাজলো ক্রাজনাহরকাই। তার মানে এ বছর কোনো নারী সাহিত্যিকের পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ আট বছর ধরে একবার পুরুষ তো একবার নারী—এ রকমই সাহিত্যে পুরস্কার পেয়ে আসছেন। অনেকে মশকরা করে বলেন, নোবেল কমিটি সাহিত্যের বিষয়ে জেন্ডার ইকুয়ালিটি রক্ষা করে চলেছে।
আগে একটা কাজ করা যাক। চলতি বছরে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে, এমনকি আর্টিফিশিয়েল ইন্টিলিজেন্সও বলছে যাঁর নাম, তিনি হলেন, চীনের কথাসাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচক ক্যান জুয়ে। গত বছর ল্যাডব্রোকসের জরিপে প্রথম স্থানে তিনি ছিলেন। হাঙ্গেরির কথাসাহিত্যিক ও চিত্রনাট্যকার লাজলো ক্রাজনাহরকাই ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু ইংলিশ লিটারেচার ডটকমের তালিকায় এগিয়ে ছিলেন অন্য আরেকজন। নাম ছিল না ক্যান জুয়ের। তবে নাম ছিল লাজলো ক্রাজনাহরকাইয়ের। দেখা গেল, লাজলো ক্রাজনাহরকাই নোবেল পুরস্কার জিতলেন। মজার ব্যাপার ও কাকতালীয়ভাবে আমি গত বছর প্রথম আলোতে একটি লেখায় বাজিটা ধরেছিলাম লাজলো ক্রাজনাহরকাইয়ের পক্ষে। আমার ফুঁতে ঝড়ে বক মরার মতন তিনিই পুরস্কারটি পেয়েছিলেন। যা–ই হোক, ক্যান জুয়ে বেশি আলোচিত বলেই এবারও পুরস্কার পাচ্ছেন না। এই যে তালিকা সংক্ষিপ্তকরণে যাচ্ছি, এর পেছনে প্রত্যেকের লেখার রাজনৈতিক অবস্থানও বিবেচনায় রেখে করছি। কারণ, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের রাজনীতিটা আমরা সবাই কমবেশি এত দিনে জেনে গেছি। সেদিক থেকেও চীনের ক্যান জুয়ে পিছিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার কবি কো উন বা জাপানের হারুকি মুরাকামি বা হিরোমি ইতোর নাম সবচেয়ে বেশি শোনা গেলেও না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাঁদের অবস্থাও অনেকটা সালমান রুশদি বা মিলান কুন্দেরার মতো। মানে পাওয়ার আশা খুবই কম। যেমন আলোচিত হলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই ভারতীয় লেখক অমিতাভ ঘোষের।
চলতি বছর তিন/চারটি জরিপ সংস্থার ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন কারা? যাঁদের নাম নিয়েছি আগে, তাঁদের নাম আবার না নিলে দেখা যায়, টমাস পিনচন, মিরচিয়া কার্তারেস্কু, জেরাল্ড মুরনানে, জন বানভিল, এনরিক ভিলা, সাইদ অ্যাডোনিসসহ অনেকে।
কিন্তু তাঁদের কেউই পুরস্কার পাচ্ছেন না বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, এবারের মতো গত তিন বছরও তাঁরা তালিকায় ছিলেন এবং বাদ পড়ছেন।
তাহলে কে পেতে পারেন? কয়েকটি ওয়েবসাইট সম্ভাব্য সাহিত্যিকদের ছোট তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে দ্য বার্লিনার একটি। এখানে ম্যাথিল্ড মন্টপেটিটের একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জানান, চার বছর ধরে তাঁর বুক ক্লাব প্রতিবছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার কে জিতবেন, তা অনুমান করার জন্য একটি পুল পরিচালনা করছে। গত তিনবারই তাঁর অনুমান সত্য হয়েছে। ম্যাথিল্ড মন্টপেটিট বলেন, ‘আমরা সাধারণত সবাই পাঁচজন লেখকের নাম পাই এবং বিজয়ী হন একজনই। আমরা এটিকে গুরুত্বসহকারে নিই। আসলে সাহিত্য এত গুরুত্বপূর্ণ যে কে সন্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে মাথা ঘামানো কখনোই উচিত নয়। তবে হিসাব অনুযায়ী কোনো নারী সাহিত্যিক বা স্প্যানিশ লেখক এবার পুরস্কার পেতে পারেন।’
২০১৮ সাল থেকে একটি অন্য সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। ওই বছরের আগেও বহু নারী সাহিত্যিক নোবেল পেয়েছেন, যেমন অ্যালিস মুনরো, হার্টা মুলার, ডরিস লেসিং, ভিসলাভা সিমবরস্কা, টনি মরিসনসহ আরও কয়েকজন। কিন্তু ২০১৮ সালের নোবেল পুরস্কার পোলিশ ঔপন্যাসিক ওলগা টোকারচুক পাওয়ার পর একটা ব্যাপার লক্ষ করা গেল; এক বছর নারী পান তো পরের বছর পুরুষ সাহিত্যিক পান। যেমন ২০১৯ সালে পেলেন পিটার হান্ডকে। ঠিক তার পরের বছর ২০২০ সালে পেলেন লুইস গ্লুক। ২০২১ সালে আবদুলরাজাক গুরনাহ, ২০২২ সালে পেলেন অ্যানি আর্নো। ২৩ সালে পান ইয়ন ফসে। ২৪ সালে পেলেন হান কাং। ২৫ সালে লাজলো ক্রাজনাহরকাই। তার মানে এ বছর কোনো নারী সাহিত্যিকের পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ আট বছর ধরে একবার পুরুষ তো একবার নারী-এ রকমই সাহিত্যে পুরস্কার পেয়ে আসছেন। অনেকে মশকরা করে বলেন, নোবেল কমিটি সাহিত্যের বিষয়ে জেন্ডার ইকুয়ালিটি রক্ষা করে চলেছে।
তাহলে দেখা যাক, নারীদের মধ্যে যাঁদের নাম এবার উচ্চারিত হচ্ছে, তাঁরা কারা?
আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন কানাডিয়ান কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। এরপর যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা হলেন জাপানের হিরোমি ইতো, আফ্রিকান জিম্বাবুয়ের লেখিকা ও অ্যাক্টিভিস্ট টিটসি ডাঙ্গারেমবগা এবং মেক্সিকান ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা ও ওয়াদালুপে নেটেল। তালিকায় আছেন মার্গারেট অ্যাটউড, ইওকো ওগাওয়াসহ অনেকে।
এই সাহিত্যিকদের মধ্যে যদি দুজনকে বেছে নিতে হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে অ্যান কার্সনকে রাখতে হচ্ছে দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে ওয়াদালুপে নেটেল। চতুর্থ স্থানে জিম্বাবুয়ের লেখিকা ও অ্যাক্টিভিস্ট টিটসি ডাঙ্গারেমবগা। আর প্রথম স্থানে থাকছেন ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা, যাঁর লেখার মধ্যে রয়েছে নারীবাদ, উত্তর-উপনিবেশবাদ, বাস্তুতন্ত্রসহ ইত্যাদি ইত্যাদি। ইংলিশ লিটারেচার ডটকম ও জেব্রডি সাইট এমনই আভাস দিচ্ছে। কয়েক বছর ধরে যাঁরা পুরস্কার পাচ্ছেন, তাঁদের লেখায় যেসব বিষয় থাকে, তার সবই রয়েছে রিভেরা গারজার লেখায়।
ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা ২০২৪ সালে তাঁর বই ‘লিলিয়ানাস ইনভিন্সিবল সামার’–এর জন্য স্মৃতিকথা বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার জেতেন। বইটি ‘ফেমিসাইড’ বা নারীনিধন বিষয়ে আলোকপাত করে। গল্পটি তাঁর বোন লিলিয়ানাকে নিয়ে; যাঁকে ১৯৯০-এর দশকে মেক্সিকোতে তাঁর সাবেক প্রেমিক হত্যা করেন। ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান এবং তাঁর বিচার হয়নি। রিভেরা গারজা বোন হারানোর যন্ত্রণা তুলে ধরেন এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেন, এমন একটি দেশে, যেখানে নারীনিধন একটি বড় সমস্যা।
মেক্সিকোর কথাসাহিত্যিক ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা বর্তমান সময়ে মেক্সিকোর প্রধান লেখকদের অন্যতম। লেখালেখির পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত তিনি। মেক্সিকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর কারণে দুই দেশের নানা জায়গায় বসবাস করেছেন। তাঁর বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নো ওয়ান উইল সি মি ক্রাই’, ‘ডেথ টেকস মি’, ‘দ্য ইলিয়াক ক্রেস্ট’, ‘ভার্দে সাংহাই’, ‘দ্য টাইগা সিনড্রোম’, ‘লিলিয়ানাস ইনভিনসিবল সামার’।
গারজা পুলিত্জার পুরস্কার, শার্লি জ্যাকসন পুরস্কার, হোসে রুবেন রোমেরো ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডসহ দেশে ও দেশের বাইরে আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা ২০২৪ সালে তাঁর বই ‘লিলিয়ানাস ইনভিন্সিবল সামার’-এর জন্য স্মৃতিকথা বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার জেতেন। বইটি ‘ফেমিসাইড’ বা নারীনিধন বিষয়ে আলোকপাত করে। গল্পটি তাঁর বোন লিলিয়ানাকে নিয়ে; যাঁকে ১৯৯০-এর দশকে মেক্সিকোতে তাঁর সাবেক প্রেমিক হত্যা করেন। ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান এবং তাঁর বিচার হয়নি। রিভেরা গারজা বোন হারানোর যন্ত্রণা তুলে ধরেন এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেন, এমন একটি দেশে, যেখানে নারীনিধন একটি বড় সমস্যা।
বেজ্জিয়া নামের একটি নারী অধিকারবিষয়ক সাইট রয়েছে। সেখানে বহুদিন ধরেই বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে বলা হচ্ছিল যে যোগ্যতা থাকার পরও নারীদের মধ্যে যাঁরা সাহিত্যিক রয়েছেন, তাঁদের প্রতি উদাসীন নোবেল কমিটি। মোট নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা মাত্র ছয় থেকে সাত শতাংশ। তার পরপরই নোবেল কমিটি নিজেও স্বীকার করে যে একবিংশ শতাব্দীতে নারী নোবেল বিজয়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি তাদের নিজেদের পক্ষপাতের একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনারও ফল।
‘ক্রিপ্টোগাইনি’ বলে একটি কথা রয়েছে। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের বিষয়ে এর প্রভাব ব্যাপক। এ নামের ঘটনা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। ‘ক্রিপ্টোগাইনি’ হলো এমন এক প্রবণতা, যার মাধ্যমে আবিষ্কার, সামাজিক আন্দোলন এবং এমন সব সৃষ্টিকর্মে নারীর ভূমিকা মুছে ফেলা বা খাটো করে দেখানো হয়, যেগুলো পরবর্তীকালে পুরুষের নামে স্বীকৃতি পায়। তবে মাঝেমধ্যে নারীদের ‘স্বীকৃতি’ দিয়ে ‘নিরপেক্ষতা’র ভান করা হতো।
এখন ২০১৮ সাল থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে, এটি এমন একধরনের নিরপেক্ষতা যে এক বছর পুরুষ সাহিত্যিক পুরস্কার পান তো পরের বছর নারী সাহিত্যিক পুরস্কার পান। কথা উঠতে পারে, সাহিত্যে আবার নারী-পুরুষ ভাগ কেন? সাহিত্যিক তো সাহিত্যিকই। কিন্তু জেন্ডার ক্যাটাগরি বিশ্লেষণ করারও দরকার আছে বলে মনে করেন ইংলিশ লিটারেচার ডটকমের ডেভিড ব্রাউন। তিনি মনে করেন, এতে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন হবে, তেমনই উন্নতমানের সাহিত্যিক, যিনি নারী তিনি যেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অবহেলিত বা উপেক্ষিত না হন।
সুইডিশ নোবেল ফাউন্ডেশন ২০১০ সালের শেষের দিকে কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে আগ্রহী হয়। নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের ভোট দানকারী প্যানেলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, লিঙ্গ, জাতীয়তা ও জাতিসত্তাভিত্তিক ইতিহাসগত পক্ষপাতগুলোকে মোকাবিলা করার। ইউরোকেন্দ্রিকতা ও পুরুষপ্রধান দৃষ্টিভঙ্গি এড়াতেও অনুরোধ করেন।
ইউরোপিয়ান কমিশনের সাইটে নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে স্ট্যাটিস্টায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নোবেল বিজয়ী হিসেবে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনো কম। যদিও সম্মানজনক অবস্থানে আগের চেয়ে নারীদের বেশি বিবেচনা করা হচ্ছে সম্প্রতি। কিন্তু নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ সাল থেকে শুরু করে সাহিত্যে নোবেলজয়ী লেখকদের মধ্যে ১৮ জন নারী রয়েছেন। মজার ব্যাপার, নোবেল কমিটিতেও নারী সদস্যের সংখ্যা কম। তবে ২০১৯ সালের পর অল্প বেড়েছে। ফলে এ সক্রিয় পদক্ষেপ সেই ঐতিহাসিক পক্ষপাতকে সরাসরি মোকাবিলা করে, যেখানে মনোনয়ন প্যানেলের একঘেয়ে বা সমজাতীয় গঠনের কারণে বিশ্বমানের নারী লেখকেরা উপেক্ষিত হতেন।
কিন্তু বর্তমানে একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। সে হিসাবে এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার কোনো নারীই পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। লিটারেরি হাব এ নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছে। শিরোনামের বাংলা অর্থ হচ্ছে , ‘নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সব নারীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’।
এ লেখায় বেশ কিছু মজার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে সাহিত্যিকদের, যে তাঁরা নিজেদের পুরস্কারপ্রাপ্তিকে কীভাবে দেখছেন?
আর্নো নোবেল পাওয়ার পর তাঁর স্বীকৃতি-বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আমাকে যে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তাকে আমি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখি না। বিনয় থেকে বলছি না, এটি যৌথ বিজয়।’ কেন তিনি যৌথ বিজয় বলেছিলেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আর্নো বলেছিলেন , ‘নারীদের বিজয়’।
পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে ২০১৩ সালে নোবেলজয়ী অ্যালিস মুনরো বলেছিলেন, ‘ওহ.. ওহ... না। আমি তো একজন নারী। আমি এ সম্মানকে ভালোবাসি, কিন্তু নারী হিসেবে আমি ওভাবে ভাবি না।’
হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন ৮৭ বছর বয়সী ডরিস লেসিং। ২০০৭ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। ঠিক তার আগে ওই পুরস্কারপ্রাপ্তির দিন তাঁকে সাংবাদিকেরা রাস্তায় এ খবর জানালে বিভ্রান্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘সেকি! অনেক আগেই আমাকে বলা হয়েছিল যে তারা আমাকে পছন্দ করে না এবং আমি কখনোই এটা পাব না…..এমনকি তারা আমাকে এ কথা জানানোর জন্য বিশেষ কর্মকর্তাও পাঠিয়েছিল। এখন বুঝতে পারছি, তারা আমার সঙ্গে মজা করেছিল। নারী হিসেবে আমি অবশ্য তাদের কথা বিশ্বাস করেছিলাম।’
এসব ঘটনা সাহিত্যে পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন দ্য থট ম্যাগাজিনের লিটারেচার এডিটর থিম্পসন। ফলে তিনিও মনে করেন, পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবার কোনো নারী সাহিত্যিকেরই। যদি কোনো বিশেষ ব্যতিক্রম কিছু না ঘটে।
সে ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখা হচ্ছে ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজকে। তাঁর লেখার বিষয়বস্তুর কথা তো আগেই বলা হয়েছে। আর শেষ যে কথা গত সপ্তাহে তিনি দ্য থটের সম্পাদক থিম্পসনকে আলাপচারিতায় বলেছেন, সেটি হলো, ‘নো ওয়ান উইল সি মি ক্রাই’ (এ নামে তাঁর একটি উপন্যাসও রয়েছে)।
থিম্পসন নোবেল পুরস্কার প্রসঙ্গেই প্রশ্ন করেছিলেন। উত্তর, রহস্যময়। এ কথা বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটা তিনিই ভালো জানেন।