অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান। গ্রাফিকস: প্রথম আলো
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান। গ্রাফিকস: প্রথম আলো

বৃত্তাবদ্ধতা, সুবিধাবাদ ও মধ্যবিত্তের সাহিত্য

বাংলাদেশে যে সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত গদ্য সাহিত্য, তাতে মধ্যবিত্তের ধ্যানধারণার গভীর প্রভাব দেখতে পাই। সাহিত্য মধ্যবিত্তের সৃষ্টি। এরা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে আগ্রহী হবে—এটা ছিল অনিবার্য। কেননা লেখাপড়া শেখার ও জ্ঞানার্জনের পথ ধরেই এ দেশে মধ্যবিত্তের উত্থান। আর এ পথেই তাদের এগিয়ে যাওয়া।

১৯৭১ সালের পরে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের ভিত এখন অনেকখানি শক্ত ও মজবুত। এখানকার মধ্যবিত্ত শ্রেণি আজ কেবল সংবাদপাঠক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের দর্শক নয়; এদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এখন সংস্কৃতি বিষয়ে কৌতূহলী এবং সমাজ সম্বন্ধেও জিজ্ঞাসু। তবে এদের জিজ্ঞাসা ও কৌতূহল একটা ছোট বৃত্তে আটকা পড়েছে। স্বাধীনতা–পরবর্তী তিন দশকে বাংলাদেশে অসংখ্য প্রবন্ধের বই বেরিয়েছিল, যেগুলো ধারণ করছে এ ধরনের নাম: ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতিচিন্তা’, ‘ভাষা ও সাহিত্য’, ‘স্বদেশ ও সাহিত্য’, ‘শিল্প-সংস্কৃতি, জীবন’, ‘সাহিত্যের সীমানা’, ‘সংস্কৃতিকথা’, ‘সমাজ, সাহিত্য সংস্কৃতি’, ‘সাহিত্যের পরিধি’। ২০০০ সালের পরের দুই দশকে যেসব প্রবন্ধগ্রন্থ আলোর মুখ দেখেছে সেগুলোরও ৮৫ শতাংশ ওই–জাতীয় নাম ধারণ করে আছে।

উল্লিখিত গ্রন্থগুলোর লেখকদের ভেতরে চিন্তার পার্থক্য অবশ্যই আছে। তাঁদের কারও কারও রচনারীতিও বৈশিষ্ট্যচিহ্নিত। তা সত্ত্বেও বিষয়বস্তু নির্বাচনে তাঁরা প্রায় এক জাতের, এটা অস্বীকার করা যাবে না। দেখা যাচ্ছে, তাঁদের মনোজগৎজুড়ে আছে সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, শিল্প প্রভৃতি বিষয়; লেখার গুণগত মান যা-ই হোক না কেন। ইউরোপের রেনেসাঁস আমাদের জন্যও খুলে দিয়েছিল মুক্তবুদ্ধির দরজা। বাঙালি মনে ঔদার্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে তার অবদান কম নয়। ঐতিহ্যানুসন্ধান মধ্যবিত্তের কাজ। সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে তার আগ্রহ ও অহমিকা আছে। বিত্তহীন জনসাধারণ এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না। আর উচ্চবিত্ত শ্রেণি শিল্প-সাহিত্যকে বিনোদনের মাধ্যম মনে করে না। তাদের চিন্তাধারা অর্থনীতি ও রাজনীতিকেন্দ্রিক। পয়সাওয়ালাদের ভেতর যারা কিছুটা শিক্ষিত তারা অবশ্য মাঝেমধ্যে সাহিত্যগ্রন্থ কিনে নিয়ে আসে; পড়ার জন্য নয়, ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখার জন্য, যাতে স্ট্যাটাস বাড়ে।

সাহিত্যের প্রয়োজন বিশেষভাবে মধ্যবিত্তের। বিত্তবানদের জন্য দেশে-বিদেশে আমোদ-ফুর্তির অনেক পথ খোলা আছে। বিত্তহীনের প্রমোদ ভিন্ন ধরনের। তারা এমন সব স্থানে নির্দ্বিধায় যেতে পারে, যেখানে মধ্যবিত্ত যায় না। অর্থনৈতিক কারণেই মধ্যবিত্ত সাধারণত দূরে কোথাও পা বাড়ায় না। এদিকে-ওদিকে ঘোরাফেরা করার চেয়ে ঘরে বসে বই (সাহিত্যের/অন্য বিষয়ের) পড়াই তার জন্য সুবিধাজনক। তা ছাড়া তার জীবিকা ও জীবনযাত্রার ভঙ্গির সঙ্গে এটা বেশি সংগতিপূর্ণ।

প্রচল বৃত্তের ভেতর নতুন সাহিত্যের জন্ম হয় না। সে জন্য বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসা দরকার সবার আগে। জনজীবনের সঙ্গে সৃজনশীল ব্যক্তিজীবনের যোগ বড় মাপের সাহিত্যের একটা বড় শর্ত। এ শর্ত পালন করতেই হবে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কী দেখছি? উঁচু ভবনের জানালা দিয়ে বস্তির দৃশ্য দেখে, ড্রয়িংরুমে বসে আমজনতার জীবনের গল্প লিখছেন আমাদের সাহিত্যিকেরা।

সাতচল্লিশের দেশভাগের পরে পাকিস্তান আমলে মধ্যবিত্তের চেহারায় স্বাচ্ছ্যন্দের ছাপ এসেছিল। বাংলাদেশ হওয়ার পরে সেই চেহারায় যুক্ত হয়েছে জৌলুশ। ভ্রমণকাহিনির ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দেখে এ ব্যাপারে সংশয় থাকে না। কেননা দেশে-বিদেশে ভ্রমণ এখন মধ্যবিত্তের পক্ষেও সম্ভব হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই নতুন পর্যটকেরা ভিন্ন দেশে গিয়ে কী দেখে আসছেন? তাঁরা দেখছেন সুখ-সমৃদ্ধি, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের প্রতি সম্মান ও শৃঙ্খলা, উন্নত জীবনবোধ। তাঁরা নিজের দেশের অভাব-অভিযোগ, অন্যায়-অবিচার ও সামগ্রিক দুর্ভোগ দেখেও দেখছেন না; এসবের প্রতিকারচিন্তা তো দূরের কথা। এই দেখা ও না-দেখা কেবল মধ্যবিত্তের পক্ষেই সম্ভব। কেন এ রকমটা হয়? কারণ, মধ্যবিত্তের দৃষ্টি সব সময় ওপরের দিকে। নিচকে তার ভয়। কীসের ভয়? ধরা পড়ে যাওয়ার। কেননা যতটুকু ওপরে সে উঠেছে, নিচ থেকেই উঠেছে। অভাবের ও টানাপোড়েনের বিড়ম্বনা কী জিনিস সে তা জানে।

এসবের অর্থ হচ্ছে, মধ্যবিত্ত স্বনির্মিত বৃত্তের ভেতর বন্দী। সে যে এ বৃত্তের বাইরে বেরোতে চায় না তা নয়; কিন্তু তার সাহসে কুলায় না। কোনো কারণে দেশে যখন বিক্ষোভ বা বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং তার সমষ্টিগত রূপ প্রকাশিত হয়, তখন তার ইচ্ছার পালে হাওয়া লাগে। মধ্যবিত্ত যখন দেখে রাজপথে জনজোয়ার এসেছে, কেবল তখনই সে পথে নামে; যেহেতু সেই সময়টাই তার জন্য সুবিধাজনক। এর আগপর্যন্ত সে জানালা বা ব্যালকনি থেকে উঁকিঝুঁকি দেয়। এ থেকেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানী মনোবৃত্তি অনুধাবন করা যায়।

প্রচল বৃত্তের ভেতর নতুন সাহিত্যের জন্ম হয় না। সে জন্য বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসা দরকার সবার আগে। জনজীবনের সঙ্গে সৃজনশীল ব্যক্তিজীবনের যোগ বড় মাপের সাহিত্যের একটা বড় শর্ত। এ শর্ত পালন করতেই হবে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কী দেখছি? উঁচু ভবনের জানালা দিয়ে বস্তির দৃশ্য দেখে, ড্রয়িংরুমে বসে আমজনতার জীবনের গল্প লিখছেন আমাদের সাহিত্যিকেরা। হাসান আজিজুল হক, আবুবকর সিদ্দিক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাহমুদুল হক, কায়েস আহমেদরা এ ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ব্যতিক্রম, তা কি শুধু এ জন্য যে তাঁরা আয়ত্ত করেছিলেন অনন্য গল্পভাষা? জীবনকে বোঝার ও জীবনদৃষ্টি অর্জনের গরজে তাঁরা কি ঝোলা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েননি দূরে, বহুদূরে? একটা ‘খোয়াবনামা’ লেখার জন্য ইলিয়াসকে কতবার মহাস্থানগড়ে ও গড়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেতে হয়েছে, তার হিসাব কে রাখে?

মধ্যবিত্ত আবার বীরও খোঁজে, যদিও বীর পাওয়া খুব সহজ নয়। তারা কোনো কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তিকে বীরের মর্যাদা দেয়, যেমন দিয়েছে হুমায়ূন আহমেদকে। এ ব্যক্তি পাঠকরঞ্জক অসংখ্য উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর পাঠকেরা বয়স্ক পাঠক নন। কিন্তু রচনার মান যা-ই হোক, এই যে পাঠককে তিনি বহু বছর ধরে আকৃষ্ট করেছেন, সেটা তো একধরনের ক্ষমতাই বটে।

বহু যুগ ধরে আমরা দেখে আসছি, কৃষকের ছেলে কৃষক হয়; জেলের পুত্র জেলে। কৃষকের ছেলে কবি বা চিত্রশিল্পী হয়েছে, এটা খুবই ব্যতিক্রম ঘটনা। এ ক্ষেত্রে কিন্তু ওই কবিকে বা শিল্পীকে প্রথমে মফস্‌সলের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে, উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে হয়েছে শহরে। আর সে যে ভবিষ্যতে কবি বা শিল্পী হবে, তার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে ওই শহরেই। পরে সেই কবি বা শিল্পী তাঁর জীবিকার সুবিধার্থে কিংবা স্বাধীন ইচ্ছার প্রণোদনায় গ্রামে ফিরে যেতে পারেন, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে সে ক্ষেত্রেও তাঁরা শহরের সঙ্গে একেবারে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন না; থাকা সমীচীনও নয়। এর মানে আধুনিক লেখক বা শিল্পী হওয়ার বেলায় শহর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কেননা বাংলাদেশে উচ্চতর শিক্ষার ও শিল্প-সংস্কৃতিগত দীক্ষার জন্য আজও শহরের বিকল্প নেই। মধ্যবিত্ত যে বিদ্যার্জনে আগ্রহী, আধুনিক হতে ইচ্ছুক (তাদের কেউ কেউ এখন উত্তরাধুনিকও বটে) এগুলো নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু তাদের দুর্বলতা অনেক বেশি। যেমন ধরুন, যোগ্যতা ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও একটি মধ্যবিত্ত যুবক নিজে খামার কিংবা অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে না তুলে পরাধীনতা বেছে নেয় অর্থাৎ চাকরি করে। শহরে থাকতে পারলে কিংবা যেকোনো উপায়ে একটা ফ্ল্যাট কিনে নগরে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হলে নিজেদের ধন্য মনে করে তারা। এসবের পেছনে না হয় যুক্তি দাঁড় করানো যায়। ব্যবসা করার মানসিকতা সবার নেই। আবার ছেলেমেয়েদের ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর জন্য শহরে থাকতে পারলে সুবিধা বেশি। কিন্তু পরশ্রীকাতরতার বেলায় আপনি কী বলবেন? তা ছাড়া আমি ভালো থাকব, আমার পরিবার ভালো থাকবে, অন্যরা গোল্লায় যাক—মধ্যবিত্তের এমন মানসতার অবসান তো আজও হলো না। এরা এমন মানুষ, যারা মুখে সহানুভূতি প্রকাশ করবে; মনে মনে বলবে দুঃখীরা অভাবের ও টানাপোড়েনের মধ্যেই থাকুক, না হলে দরিদ্রের ও বিত্তবানের মধ্যে পার্থক্য থাকল কোথায়?

অমুক অমুক ব্যক্তি টাকাপয়সার মালিক হয়েছে। ভালো কথা। আমিও আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠতে চাই এবং সে জন্য ঈর্ষান্বিত হওয়ার বদলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ে এ–জাতীয় ভাবনা খুব বেশি লোকের নেই। ফলে তাদের মধ্যে প্রকৃত বড় মানুষের বড় অভাব। মধ্যবিত্ত আবার বীরও খোঁজে, যদিও বীর পাওয়া খুব সহজ নয়। তারা কোনো কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তিকে বীরের মর্যাদা দেয়, যেমন দিয়েছে হুমায়ূন আহমেদকে। এ ব্যক্তি পাঠকরঞ্জক অসংখ্য উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর পাঠকেরা বয়স্ক পাঠক নন। কিন্তু রচনার মান যা-ই হোক, এই যে পাঠককে তিনি বহু বছর ধরে আকৃষ্ট করেছেন, সেটা তো একধরনের ক্ষমতাই বটে।

বাংলাদেশের সাহিত্যকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা করেছে মধ্যবিত্তই। মধ্যবিত্ত আজ আধুনিকতারও মর্ম বুঝতে শিখেছে। তাদের হাত দিয়েই সাহিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে—এমন আশা করা নিশ্চয় অন্যায় হবে না।

সমাজের চালচিত্র সুবোধ্য ভাষায় ও সাদামাটাভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে—এ রকম রচনাই সাধারণ পাঠক বেশি পছন্দ করেন। এ ধরনের লেখা মধ্যবিত্ত পাঠকের প্রিয়। অসংখ্য লেখক গল্প-উপন্যাস লিখছেন। পাঠক পছন্দ করছেন অল্প কয়েকজনকে। কারণ কী? কারণ, বাকিদের লেখার ভেতর দিয়ে আত্মবিশ্বাস, সংশয়, আদর্শিক চেতনা প্রভৃতি উঠে এলেও প্রযুক্ত ভাষা পাঠককে টানে না। পাঠকের মনে হয়, এ ভাষা কথাসাহিত্যের ভাষা নয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ‘কথাসাহিত্যের ভাষা’ বলে কি নির্দিষ্ট কিছু আছে? না, সুনির্দিষ্ট কিছু নেই। কিন্তু সচেতন পাঠক যখন মনে করেন এ গল্পটির/উপন্যাসটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রযুক্ত ভাষাটি খাপ খেয়েছে, তখনই তা স্বীকৃত হয় ‘কথাসাহিত্যের ভাষা’ হিসেবে।

সুদূর অতীতে গেঁয়ো লেখকেরা গ্রাম নিয়ে লিখতেন। গ্রামবাংলাকে কেন্দ্র করে আধুনিক সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন মধ্যবিত্ত লেখকেরা। তাঁদের এ চেষ্টা অব্যাহত। আধুনিকতা ও নাগরিকতা গভীরভাবে সম্পর্কিত। দু–চারজন ছাড়া বাদবাকি আধুনিক কবি ও কথাকারগণ শহরে থাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে, নগরের অধিবাসী হলেই কি আধুনিকতা করায়ত্ত হবে? হবে না। লেখকের অনুভব যদি বোধ্য হয়, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের আলোয় যদি স্নাত হয় তাঁর রচনা তাহলে গ্রামগঞ্জ নিয়েও সর্বার্থে আধুনিক সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব। প্রসঙ্গত আঙ্গিকের ও শৈলীর কথা এসে যাচ্ছে। আধুনিক সাহিত্যে, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী আধুনিক সাহিত্যে, আঙ্গিকের ও প্রকরণের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে লেখকেরা আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। কিন্তু লেখকের বক্তব্য লেখার আঙ্গিককে ও রচনারীতিকে কতখানি প্রভাবিত করতে পারছে, আদৌ পারছে কিনা; এ ভাবনা জারি থাকার প্রয়োজন আছে।

বিত্তশালীদের কেউ কেউ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত। ধনিক শ্রেণি সাহিত্য করে না; আমি অন্তত দেখিনি আজ পর্যন্ত। এবং বিত্তহীনরা সাহিত্য কী, সেটাই বোঝে না। সুতরাং বাংলাদেশের সাহিত্যকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা করেছে মধ্যবিত্তই। মধ্যবিত্ত আজ আধুনিকতারও মর্ম বুঝতে শিখেছে। তাদের হাত দিয়েই সাহিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে—এমন আশা করা নিশ্চয় অন্যায় হবে না।