এসব অপমৃত্যুর কি শেষ নেই?

লঞ্চ দুর্ঘটনা

গত বৃহস্পতিবার মেঘনা নদীতে এমভি মিরাজ-৪ নামের যে লঞ্চটি ডুবে যায়, তাতে যাত্রী ছিল আড়াই শর বেশি৷ প্রায় ৫০ জন যাত্রী জীবিত উদ্ধার হয়েছেন, লাশ উদ্ধার হয়েছে ৫৪ জনের৷ এখনো অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে৷ এখন স্বজনহারা মানুষের ক্রন্দন-আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে গজারিয়ার আকাশ-বাতাস৷
বাংলাদেশে এভাবে প্রতিবছর লঞ্চডুবিতে শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটে৷ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবহন, চালকদের অদক্ষতা-অনভিজ্ঞতা, লঞ্চের নকশায় সমস্যা, লঞ্চের ফিটনেস তদারকির অভাব ইত্যাদি যেসব কারণে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তা নিয়ে কথা ওঠে কেবল তখনই, যখন কোনো লঞ্চডুবিতে শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটে৷ অন্য সময় এ বিষয়গুলো দেখভাল করার কেউ থাকে না৷ এমভি মিরাজের ধারণক্ষমতা দিনের বেলা ২০২ ও রাতে ১০২৷ কিন্তু সেদিন ডুবে যাওয়ার সময় লঞ্চটিতে যাত্রী ছিল আড়াই শর বেশি; বেসরকারি কোনো কোনো ভাষ্যমতে তিন শতাধিক৷ লঞ্চটি ডুবেছে পুরোনো নকশার কারণেও৷ আর বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে বিবিসি রেডিওর কাছে অভিযোগ করেছেন, ঝড়ের কবলে পড়ার আগে তাঁদের কেউ কেউ লঞ্চটির চালকদের অনুরোধ করেছিলেন, লঞ্চটি নদীর কিনারে ভেড়ানোর জন্য৷ কিন্তু চালক ও তাঁর সহযোগীরা তা করেননি৷
অর্থাৎ, লঞ্চডুবির যে সাধারণ কারণগুলো সবার জানা, এই লঞ্চ ডোবার পেছনেও সেগুলোই কাজ করেছে৷ আর প্রতিবছরই এভাবে শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটছে এ কারণেও যে, লঞ্চডুবির ঘটনায় কারও কোনো শাস্তি হয় না৷ লঞ্চ দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ দেশে পর্যাপ্ত আইন-কানুন নেই৷ ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি অধ্যাদেশ পাঁচ দফায় সংশোধন করার পরেও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা!
লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রতিবছর শত শত মানুষের মৃত্যু বন্ধ করতে হলে প্রথমেই কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত৷ সেই সঙ্গে সঠিক নকশা অনুযায়ী লঞ্চ নির্মাণ, লঞ্চের ফিটনেস নিয়মিত তদারকি ও চালক-সহযোগীদের দক্ষতা-অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এই পুরো খাতটির ওপর কড়া নজরদারির ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে৷