
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারত থেকে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার দুটি দিক আছে—আইনি এবং রাজনৈতিক দিক। এ বিষয়ে দুই পর্বে লিখেছেন আলী রীয়াজ। আজ প্রকাশিত হলো শেষ পর্ব।
ভারতে আশ্রিত ও দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনা যদিও সম্প্রতি একাধিকবার বলেছেন যে তিনি বাংলাদেশে ‘ফিরতে’ চান (রয়টার্সের সঙ্গে ১০ জুলাইয়ের পরে এএফপির সঙ্গে ২৯ জুলাই একই কথা বলেছেন); কিন্তু তিনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে তাঁর কথিত দেশে ফেরার পথ হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুসরণ, যা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার চাওয়া হয়েছে। হাসিনা ও তাঁর পরামর্শদাতারা এসব আইনের বিভিন্ন দিকের বিষয়ে অবগত নন, তা মনে করার কারণ নেই। ফলে হাসিনার এসব কথাবার্তার পেছনে সম্ভবত রাজনীতিই মুখ্য।
শেখ হাসিনা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের, অন্ততপক্ষে একটি অংশের অবগতি ছাড়া এবং তাঁদের দিক থেকে কোনো রকমের ইঙ্গিত ছাড়াই এ ধরনের কথা বলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নয়। এর পেছনে রাজনীতির দুটি দিক আছে; হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সংক্রান্ত এবং বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক-সংক্রান্ত।
শেখ হাসিনার আশু লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের উজ্জীবিত করা। ইতিমধ্যে তাঁর অনুসারীরা স্বল্প আকারে যেসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন, হাসিনা সেগুলোকে আরও বেশি গতিশীল করতে উৎসাহী। সম্ভবত হিসাবটি হচ্ছে, এ ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ তৈরি হবে।
গত প্রায় দুই বছরে হাসিনা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি ও সহিংসতাকে উসকে দেওয়ার কাজে যুক্ত থেকেছেন। এগুলো তাঁকে যে গ্রহণযোগ্যতা দেয়নি, তাঁর এই ঘোষণা প্রকারান্তরে তার স্বীকৃতি। তাঁর সমর্থকেরা যেন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে এগোতে পারেন, সেটিও একটি উদ্দেশ্য।
হাসিনার এই ঘোষণার আরেকটি দিক হচ্ছে তাঁকে বাদ দিয়ে যেন ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কোনো চেষ্টা না হয়, বিশেষ করে দেশের ভেতরে আর কোনো ধরনের হিসাব-নিকাশ না করার বার্তা। আইনি বিষয়গুলো অব্যাহত থাকার সময় তিনি এই দাবি করতে পারবেন যে তিনি ‘দেশে ফিরতে’ চান; কিন্তু আইনি জটিলতার জন্য ফিরতে পারছেন না; এ জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের ওপরে দোষ চাপাবেন।
হাসিনার এই কথিত ঘোষণার সময়ের দিকটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জুলাই মাসকে এই ঘোষণার কারণে বেছে নিয়েছেন, যেন গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে তিনি আলোচনার বিষয় হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন। এমন অনুমান করা ভুল হবে না যে তিনি আশা করেছিলেন, এই প্রশ্ন কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেই বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভেদ দেখা দেবে।
নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য সত্ত্বেও শেখ হাসিনার বিচার ও প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দলগুলোর ঐক্য বজায় আছে। হাসিনার শাসনামলে ফ্যাসিবাদী শাসনকে বৈধতা দেওয়ার কাজে যারা নিযুক্ত ছিল, তারাই কেবল এ নিয়ে ভিন্ন স্বরে কথা বলেছে। ডিসেম্বরে বিজয় দিবস উদ্যাপনের সময়ে নাগরিকদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা তৈরি এবং মুক্তিযুদ্ধের ওপরে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র দাবিকে অব্যাহত রাখার বয়ান স্মরণ করানোও কথিত ‘ফেরার’ সময় নির্ধারণের পেছনে কাজ করেছে বলেই অনুমান করা যায়।
এ কারণগুলো ভারতের জন্য নির্ধারক নয়; কিন্তু সেগুলো তাদের সাহায্য করে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে ভারতীয় নীতিতে এমন দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি, যাতে করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অতীত ধারা এবং বাংলাদেশকে ভারতের প্রভাববলয়ে অসমভাবে যুক্ত রাখার নীতি থেকে সরে এসেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা আছে, সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে সেগুলোকে ইতিবাচক বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো কতটা ইতিবাচক, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। ক্রমাগত কথিত পুশ ইন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকা, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গে জমি বরাদ্দ, পশ্চিমবঙ্গসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের শরিক দলের নেতাদের কথাবার্তা, পশ্চিম বাংলায় এনআরসি বাস্তবায়নের ঘোষণা, বাণিজ্যঘাটতি মেটানোর পদক্ষেপে শ্লথগতি ইতিবাচক কোনো বার্তা দেয় না।
তদুপরি এই বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এত দিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে তিস্তা চুক্তির প্রশ্নটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নতুন চুক্তি না হলে, এটা নিয়ে দর-কষাকষির একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ইতিমধ্যে চীনের সহযোগিতায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের আলোচনা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে; দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ব্যাপক সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের কথা বলা হচ্ছে এবং মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ভারতকে উদ্বিগ্ন করে, এটাও বোঝা যায়। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্র প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এগুলো বিএনপি সরকারকে ভারতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ না করার জন্যই সহযোগিতা করবে।
১৪ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ও বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচারণার সুযোগ করে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের জনগণের এক বড় অংশের মধ্যে ভারতের প্রতি যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, বিএনপি সরকারের পক্ষে তা অগ্রাহ্য করা কঠিন।
স্মরণ করা যেতে পারে যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিবিসি বাংলা বিভাগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এখন তারা যদি স্বৈরাচারকে সেখানে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। এটা বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের সঙ্গে শীতল থাকবে। সো, আমাকে আমার দেশের মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে।’
শেখ হাসিনার ব্যাপারে ভারত সরকারের অবস্থান, ভারতে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের আশ্রয় দেওয়া, ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত সংবাদে কলকাতায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলার ব্যাপারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া থেকে মনে হয় যে ভারতের আওয়ামী লীগনির্ভর নীতিই অব্যাহত আছে এবং ভারতের অভ্যন্তরে কেউ কেউ আশা করেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগের আশু প্রত্যাবাসন ঘটবে। সেই লক্ষ্যে ভারত আগ বাড়িয়ে কিছু করবে কি না, সেটা একটা প্রশ্ন।
বাংলাদেশে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও তখন সীমিত ছিল। ভারত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে অসম সম্পর্ক তৈরি করেছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। আর ভারত হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতায় রেখেছিল, তার বিনিময় হিসেবে হাসিনার কাছে থেকে এই ভূমিকা চাইলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। ফলে শেখ হাসিনা পলাতক থাকা অবস্থায় সময়-সময় উত্তেজনা, বিরক্তি এবং বিভক্তি সৃষ্টির উপাদান হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করবেন।
ভারতের পররাষ্ট্র ও আঞ্চলিক নীতির দিকে যাঁরা নজর রাখেন, তাঁরা অবশ্য এই বলে সতর্ক করেছেন যে এই ধরনের চেষ্টা ক্ষতিকর হবে (বিবিসি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক রাখতে চায় এটা বোধগম্য। আমরা দেখেছি যে শেখ হাসিনা ভারতে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা এবং বাংলাদেশের ভেতরে সহিংসতার উসকানি দিয়ে আসছেন।
কিন্তু ৩০ জুলাই ভারতের লোকসভায় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাজনীতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করতে দেওয়ার নীতি হাসিনার ক্ষেত্রেও বজায় রাখা হয়েছে। এটি ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই বিবেচনা করা দরকার। ভারতের উচিত হবে এই নীতি যে অনুসৃত হচ্ছে তা সুস্পষ্ট করা। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তা বোঝা যাবে। তা ছাড়া সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মধ্যকার আলোচনায় এই বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে যে দুই দেশের সম্পর্ক রিসেট (নতুন করে শুরু) করা দরকার (প্রথম আলো, ২৯ জুলাই ২০২৬)।
ভারতের নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী বিশ্লেষকেরা ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরে কী ধরনের চিন্তা করতেন, তা থেকে এখনকার পরিস্থিতির একটা ধারণা করা যেতে পারে। সেই সময়ে ভারতের সাবেক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিবিদ টি সি এ রাঘবন বিবিসিকে বলছিলেন যে বিপদের মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে ভারত যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে, সেটাই ভারতের নীতি—তাঁকে ‘আরও বড় বিপদে ফেলা’টা ভারতের জন্য কোনো ‘অপশন’ হতেই পারে না! একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনার পাশে এখন যদি আমরা না দাঁড়াই, তাহলে বিশ্বের কোথাও আর কোনো বন্ধুদেশের নেতা ভারতকে বিশ্বাস করতে পারবেন না, ভারতের ওপর আস্থা রাখতে পারবেন না।’ (বিবিসি বাংলা, ২৪ আগস্ট ২০২৪)
ভারতের এই নীতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে আইন যা-ই বলুক, রাজনীতির বিবেচনায় ভারত হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে উৎসাহী হবে না। কিন্তু কেবল তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার মধ্যেই তা সীমিত থাকবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত হাসিনাকে ‘লেভারেজ’ বা সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিকে একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করবে বলে অনুমান করা যায়। এত দিন তার একটি অন্যতম পথ ছিল হাসিনাকে এমন ধরনের কথাবার্তা বলার সুযোগ দেওয়া, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। এতে ক্ষমতাসীন দল চাপে থাকবে। হাসিনার সাম্প্রতিক কথাবার্তা এ রকম পটভূমি সৃষ্টিরই ইঙ্গিত দেয়। এমন ভূমিকা পালন করতে শেখ হাসিনা আপত্তি করবেন, মনে করারও কারণ নেই। কেননা তাঁর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে হাজির রাখা।
১৯৭৫-৮০ সালে ভারতে অবস্থানকালেও শেখ হাসিনা তাঁর নিজের জন্য সেই বিবেচনাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন; কিন্তু তখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল ভিন্ন ধরনের। ভারতের মধ্যে তখন আঞ্চলিক শক্তি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ততটা প্রবল হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে ভারতের রাজনীতিবিদেরা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সংকট মোকাবিলায় বেশি ব্যস্ত থাকায় শেখ হাসিনা ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে সুবিধা লাভের উপাদান হিসেবে বিবেচিত হননি।
বাংলাদেশে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও তখন সীমিত ছিল। ভারত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে অসম সম্পর্ক তৈরি করেছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। আর ভারত হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতায় রেখেছিল, তার বিনিময় হিসেবে হাসিনার কাছে থেকে এই ভূমিকা চাইলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। ফলে শেখ হাসিনা পলাতক থাকা অবস্থায় সময়-সময় উত্তেজনা, বিরক্তি এবং বিভক্তি সৃষ্টির উপাদান হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করবেন। কিন্তু ভারতের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনা করতে হবে যে হাসিনার এই ভূমিকা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকারক।
আশা করি, বাংলাদেশের সরকার, নীতিনির্ধারকেরা ও রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখবেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের অবস্থান, বক্তব্য ও কৌশল নির্ধারণ করবেন। অন্যদিকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণের জন্য হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর ঐক্যবদ্ধভাবেই চাপ অব্যাহত রাখতে কুণ্ঠিত হবে না।
আলী রীয়াজ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর
মতামত লেখকের নিজস্ব