মতামত

ফেসবুক গুগল কি আসবে বাংলাদেশে

আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষের কাছে ইন্টারনেট মানেই হলো ফেসবুক আর গুগল। এই রিয়েলিটি থেকে একটা মজার ধারণা শেয়ার করতে চাই।

চলুন, একটু কল্পনা করি, আমরা যদি ফেসবুক বা গুগলের ড্রাইভিং সিটে দুই মিনিটের জন্য বসতাম, তাহলে তারা কীভাবে চিন্তা করে সেটা বুঝতে চাইতাম। তারা কীভাবে চিন্তা করে যে সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেট সহজলভ্য করা যায়, যাতে বিজ্ঞাপন থেকে আয় বাড়ে?

প্রথম চিন্তা হলো, কনটেন্ট যেন দ্রুত ইউজারের কাছে পৌঁছায়। একজন ব্যবহারকারী যখন কোনো লিংকে ক্লিক করবেন, সেই মুহূর্তেই যেন কনটেন্ট (অডিও/ভিডিও/লেখা) দেখতে পান। এ জন্য আমাদের কনটেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের শেষ প্রান্ত গ্রাহকের খুব কাছে থাকা দরকার।

এখন প্রত্যেক গ্রাহকের বাসায় তো সার্ভার বসানো সম্ভব নয়। তাই পরবর্তী ভালো অপশন হলো ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের (আইএসপি) ডেটা সেন্টারে সার্ভার বসানো। সেটাও বসালাম।

এখন আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এই সার্ভারের পেছনের ব্যান্ডউইডথের খরচ। বর্তমানে আইএসপিরা এই খরচ বহন করছে। আমরা যেহেতু ফেসবুক বা গুগলের মালিক, তাহলে চাইতাম এই খরচও নিজেরা দিতে। এর জন্য বাংলাদেশে কয়েকটা বড় ডেটা সেন্টার স্থাপন করতাম, যার পেছনের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের খরচও আমরাই দিতাম। এর ফলে গ্রাহক কম খরচে বা বিনা খরচে সার্ভিস পেত। এতে আমাদের রেভিনিউ বাড়ত।

সম্প্রতি একটি খবরে দেখলাম, মেটার (ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি) গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রেসিডেন্ট স্যার নিক ক্লেগ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

আশা করছি, শিগগির ফেসবুক বাংলাদেশে তাদের ডেটা সেন্টার স্থাপন করবে। প্রায় ১৫ বছর আগে আমি এই স্বপ্নটাই দেখেছিলাম।

গত কয়েক দশকে ফেসবুক/গুগল অনেক মুনশট প্রজেক্ট করেছে, যার মাধ্যমে তাদের কনটেন্ট সুলভে বা বিনা মূল্যে দেওয়া যায়। ধারণা করছি, এই জিনিসগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে। অধ্যাপক ইউনূস ইতিমধ্যে গ্লোবাল ইনভেস্টরদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

  • রকিবুল হাসান টেলিকম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক লেখক এবং একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা