লবণ দেওয়ার জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে গরুর চামড়া
লবণ দেওয়ার জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে গরুর চামড়া

অভিমত–বিশ্লেষণ

চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে

প্রতিবছর কোরবানির আগে দাম ঘোষণার অনুষ্ঠান হয়, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু মাঠের চিত্র একই থাকে। এই চক্র ভাঙার সময় এসেছে। কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়ে লিখেছেন সুবাইল বিন আলম ও জিয়া হাসান

এ বছর কোরবানির আগে সরকার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি বর্গফুট ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন পিস হিসেবে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। গত বছরের তুলনায় ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা ঘোষণা দিয়েছেন, দেশে চাহিদা না থাকলে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ রাখা হবে। সংবাদটা শুনে আশার আলো দেখা যায়। কিন্তু সেই আলো কতটুকু বাস্তব?

২০১৫ সালে গরুর চামড়ার দাম ছিল প্রতি পিস ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। মূল্যস্ফীতি হিসাবে ধরলে ২০১৫ সালের ২ হাজার ২০০ টাকা এখন হওয়া উচিত প্রায় ৪ হাজার ১৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রকৃত মূল্যে পতন ৮০ শতাংশের বেশি। 

চাল, ডাল, তেল, মাংস সবকিছুর দাম বেড়েছে। চামড়া সংরক্ষণের প্রধান উপকরণ লবণের দামও বেড়েছে। গত দুই বছরে অভ্যন্তরীণ পরিবহন খরচ এবং কোল্ডস্টোরেজ বা লবণজাতকরণের বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ফলে আড়তদারদের মুনাফার মার্জিন কমে যাওয়ায় তারা মাঠপর্যায়ে দাম আরও কমিয়ে দিচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে চামড়া ও ফুটওয়্যার রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। অথচ তৈরি পোশাক খাত একাই ৮৪ শতাংশ রপ্তানি আয় করছে।

► কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এর ফলে ট্যানারিগুলো চামড়া কার্যকরী গোষ্ঠী বা এলডব্লিউজির আন্তর্জাতিক সনদ পাচ্ছে না।

► ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০২৯ পর্যন্ত থাকবে, শোধনাগার মেরামত ও আপগ্রেড না করলে তারপর ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে।

► বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে আসল চামড়ার পাশাপাশি সিনথেটিক এবং পরিবেশবান্ধব ‘ভেগান লেদার’-এর চাহিদা প্রতিবছর ৭-৮ শতাংশ হারে বাড়ছে।

  চামড়ার দাম কমার পেছনে কারণ

প্রথমত, সাভারের ট্যানারি স্থানান্তরের ব্যর্থতা। ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তর হয়। উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথ খোলা। কিন্তু কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এর ফলে ট্যানারিগুলো চামড়া কার্যকরী গোষ্ঠী বা এলডব্লিউজির আন্তর্জাতিক সনদ পাচ্ছে না। এই সনদ ছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা এবং জাপানের বড় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে চামড়া কিনবে না।

চামড়া পণ্য রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি সৈয়দ নাসিম মনজুর সম্প্রতি বলেছেন, ‘এই সনদ ছাড়া আমরা বড় বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে অদৃশ্য।’ 

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫৫টির বেশি ট্যানারি থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশে ৬-১০টি ট্যানারি এই সনদপ্রাপ্ত। অথচ ভারতে ১৩৯টি, চীনে ১০৩টি এবং ভিয়েতনামে ১৪টি ট্যানারি এ সনদপ্রাপ্ত। পোল্যান্ডের ট্যানারি এলসি কোম্পানি এলডব্লিউজি গোল্ড সার্টিফায়েড হওয়ার পর তাদের চামড়ার দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সনদবিহীন চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বর্গফুট বিক্রি হয় শূন্য দশমিক ৮০ থেকে ১ ডলারে, সনদপ্রাপ্ত চামড়া বিক্রি হয় ১ দশমিক ৮০ থেকে ২ দশমিক ৫০ ডলারে। পার্থক্যটা প্রায় দ্বিগুণ।

দ্বিতীয়ত, ‘প্রিমিয়াম’ মূল্য থেকে বঞ্চনা। বাংলাদেশের অধিকাংশ ট্যানারি মানসম্মত না হওয়ায় ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে চামড়া কিনে নিচ্ছে। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে আসল চামড়ার পাশাপাশি সিনথেটিক এবং পরিবেশবান্ধব ভেগান লেদার’-এর চাহিদা প্রতিবছর ৭-৮ শতাংশ বাড়ছে। 

এটি বাংলাদেশের মতো সনদবিহীন চামড়া উৎপাদনকারী দেশের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এক দশকে বাংলাদেশের চামড়া রপ্তানি ৬৪ শতাংশ কমেছে। বৈশ্বিক চামড়ার বাজারের আকার ৪২০ বিলিয়ন ডলার, অথচ বাংলাদেশ সেখানে মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ধরে রাখতে পারছে, যেখানে বৈশ্বিক কাঁচা চামড়ার চাহিদার প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সরবরাহ করে বাংলাদেশ।

তৃতীয়ত, কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা। যখন দেশীয় ট্যানারিগুলো ন্যায্য দামে চামড়া কিনতে পারছে না, তখন বিকল্প হতে পারত কাঁচা বা আধা প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি। কিন্তু বছরের পর বছর সেই পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে কোরবানির মৌসুমে, যখন বছরের ৫০ শতাংশ চামড়া একসঙ্গে বাজারে আসে, দাম মেঝেতে আছড়ে পড়ে’। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালে অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে অনেকে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছিলেন।

২০২৪ সালের জুনে কলকাতার বন্দরে কাঁচা গরুর চামড়ার দাম ছিল প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, ঢাকার আড়তে একই সময়ে দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। এই ব্যবধানই বলে দেয় রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কত বড় মূল্যহানি ঘটাচ্ছে।

২০২৪ থেকে ২০২৬ সময়ে নীতিনির্ধারকেরা কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছেন। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করা হয়েছে, দাম নির্ধারণে পিস হিসাব পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে কাঁচা চামড়া কেনার জন্য পর্যাপ্ত মূলধন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাদ্রাসা-এতিমখানায় লবণ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

এগুলো ইতিবাচক সংকেত। কিন্তু এখনো এগুলো উপসর্গের চিকিৎসা, রোগের নয়। সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা ঘোষণা হলেও মাঠপর্যায়ে ২০২৪ সালে চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ৯০০ টাকায়। এই ব্যবধান বন্ধ না হলে প্রতিবছর একই চর্চা চলবে। 

উল্লেখ্য, গত তিন বছরে শুধু অযত্নে নষ্ট হওয়া চামড়া থেকে ব্যবসায়ীদের আনুমানিক ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি। ঈদুল আজহার পর শুধু মাদ্রাসা ও এতিমখানার চাহিদা মেটাতে পারছে মোট চামড়ার মাত্র ২-৩ শতাংশ।

সমাধানের জন্য তিনটি স্তরে কাজ করতে হবে

এক. বর্জ্য শোধনাগার সংকটের স্থায়ী সমাধান: সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার কার্যকর না হলে আন্তর্জাতিক সনদ মিলবে না, ‘প্রিমিয়াম’ মূল্য পাওয়া যাবে না এবং ট্যানারিগুলোর কাঁচামাল কেনার সক্ষমতাও বাড়বে না। বর্তমানে এটি প্রতিদিন মাত্র ১৪ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিশোধন করতে পারছে, অথচ কোরবানির মৌসুমে দরকার ৩২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার ঘনমিটার। শোধনাগার মেরামতে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প চাওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিবছর শুধু চামড়া পচেই নষ্ট হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা।

তুলনামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে পাকিস্তানের শিয়ালকোট ট্যানারি জোনের কথা বলা যায়। সেখানে বর্জ্য শোধনাগার সফলভাবে চালু হওয়ার পর মাত্র ১৮ মাসে আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত ট্যানারির হার ৭ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই মডেল বাংলাদেশে প্রয়োগ সম্ভব।

সরকারকে হয় সরকারি অর্থায়নে এটি সম্পূর্ণ করতে হবে, অথবা দক্ষ বেসরকারি অপারেটরকে পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে। এই একটি সমস্যার সমাধান হলে বাংলাদেশ ৪২০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক চামড়া বাজারে প্রবেশের দরজা পাবে এবং স্বাভাবিকভাবেই কাঁচা চামড়ার দেশীয় চাহিদা ও মূল্য উভয়ই বাড়বে।

দুই. রপ্তানি উন্মুক্তকরণ: স্থায়ীভাবে ও স্বচ্ছভাবে: এ বছর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সরানো হয়েছে। কিন্তু অনুমতিপ্রক্রিয়া যদি আগের মতোই বাছাই করা কিছু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ফলাফল আগের মতোই হবে। রপ্তানি নীতি হতে হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক। যে কেউ নির্ধারিত মান পূরণ করলে রপ্তানি করতে পারবে, এই নীতি কার্যকর হলে কোরবানির মৌসুমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং দাম আপনা থেকেই বাড়বে।

২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা অস্থায়ীভাবে কাঁচা চামড়া রপ্তানি খুলে দিলে মাত্র দুই সপ্তাহে প্রতি কেজির দাম ৪৫ শতাংশ বেড়ে যায়। মিয়ানমার ও নেপাল কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করছে, ফলে তাদের আড়তে দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি।

তিন. মূল্য পর্যবেক্ষণ এবং জবাবদিহির কাঠামো: সরকার দাম ঘোষণা করলেই মাঠে তা কার্যকর হয় না, এটা বারবার প্রমাণিত। কোরবানির মৌসুমে জেলা পর্যায়ে তাৎক্ষণিক মূল্য তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। আড়তদার বা ট্যানারি নির্ধারিত মূল্যের নিচে চামড়া কিনলে জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

চার. দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার: বর্তমান সরকারের হাতে আইন প্রণয়নের সুযোগ রয়েছে। সাভারের বর্জ্য শোধনাগারকে সরকারিবেসরকারি অংশীদারির ভিত্তিতে দক্ষ পরিচালকের হাতে দেওয়া, ২০২৮ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ ট্যানারিকে আন্তর্জাতিক সনদের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং একটি স্বায়ত্তশাসিত চামড়াশিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে পারলে খাতটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

অগ্রগতি ধীর, কিন্তু সময় আছে আমূল পরিবর্তনের

এখানে সময়ের একটি চাপও আছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০২৯ পর্যন্ত থাকবে, শোধনাগার মেরামত ও আপগ্রেড না করলে এরপর ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। আন্তর্জাতিক সনদ না থাকলে তখন রপ্তানি আরও ৩০ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। গত তিন বছরে মাত্র দুটি নতুন সনদ মিলেছে। এই গতিতে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব নয়।

কিন্তু ভিয়েতনাম মাত্র এক দশকে নাইকি, পুমা, অ্যাডিডাসের মতো ব্র্যান্ডের সরবরাহ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে এলডব্লিউজি তাদের অডিট প্রটোকলে ট্রেসেবিলিটি’ (চামড়াটি কোন খামার থেকে এসেছে তার উৎস) বাধ্যতামূলক করছে। বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ, কারণ আমাদের এখানে কোনো সেন্ট্রাল ডেটাবেজ নেই।

চট্টগ্রামের মাফ লেদার নিজস্ব উদ্যোগে মানসম্মত কারখানা তৈরি করে আন্তর্জাতিক দামে চামড়া বিক্রি করছে। এপেক্স ফুটওয়্যার এলডব্লিউজি গোল্ড সনদ নিয়ে নাইকি ও অ্যাডিডাসের কাছে সরাসরি রপ্তানি করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু চামড়ার জুতা রপ্তানি থেকে এসেছে ৬৭২ মিলিয়ন ডলার। এই দৃষ্টান্তগুলো প্রমাণ করে, ইচ্ছা এবং বিনিয়োগ থাকলে পথ তৈরি করা যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চামড়া খাতে কর ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, যা সিইটিপি মেরামতের অর্ধেকের বেশি অর্থ জোগাতে পারত। তাই বিশ্বের কাঁচা চামড়া সরবরাহের ব্যবধান ঘোচানোর সুযোগ এখনো আছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ২০৩০ সালের মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সেটা পেতে হলে বর্জ্য শোধনাগার মেরামত, রপ্তানি নীতির স্থায়ী উদারীকরণ এবং কার্যকর মূল্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা একসঙ্গে চালু করতে হবে।

প্রতিবছর কোরবানির আগে দাম ঘোষণার অনুষ্ঠান হয়, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু মাঠের চিত্র একই থাকে। এই চক্র ভাঙার সময় এসেছে। সরকার এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সিইটিপি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করলে দুই-তিন বছরের মধ্যে চামড়ার দাম ও রপ্তানি উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। 

এখনে পর্যন্ত অগ্রগতি ধীর, কিন্তু সময় আছে আমূল পরিবর্তনের। কোরবানির পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যে চামড়া সংগ্রহ করবে, সেই চামড়ার মূল্য তার প্রতিষ্ঠানের কয়েক মাসের ব্যয় মেটাতে পারবে, যেটা একসময় বাস্তবতা ছিল। লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই বাস্তবতাকে ফিরিয়ে আনা।

সুবাইল বিন আলম, টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক

  • জিয়া হাসান অর্থনীতিবিদ

*মতামত লেখকদের নিজস্ব