বিশ্লেষণ

রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র বনাম সংঘতন্ত্র

পরিবারতন্ত্র দৃশ্যমান ও ব্যক্তিনির্ভর; সংঘতন্ত্র অদৃশ্য ও সংবেদননির্ভর। জনগণের নানা সংবেদনশীল জায়গা আছে, সংঘ অদৃশ্যে সেই জায়গাগুলো দখল করে জনগণকে ভেদবিচারী চিন্তা থেকে বিযুক্ত করে। রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র বনাম সংঘতন্ত্র নিয়ে লিখেছেন আহমেদ শামীম

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নিয়ে যত কথা হয়েছে, সংঘতন্ত্র নিয়ে তেমন হয়নি। ভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপির উত্থান ও বর্তমান অবস্থানের পেছনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ভূমিকা সামনে আসার পর রাজনীতিতে সংঘতন্ত্র নিয়ে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

ভারতীয় ওই সংঘ একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন, কিন্তু রাজনীতিতে সংঘতন্ত্র অন্য কোনো মতাদর্শ ঘিরেও হতে পারে। পাকিস্তানে রাজনীতিতে যেমন সেনা সংঘের প্রভাব সুপরিচিত। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় ছিল ‘পার্টিতন্ত্রের’ প্রভাব। এগুলো সংঘতন্ত্রেরই রূপভেদ।

বাংলাদেশেরও একাধিক সংঘ দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে, কিন্তু রাজনৈতিক শ্রেণিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো শক্তি অর্জন করতে পারেনি কোনো সংঘই।

তবে নতুন পরিস্থিতিতে ধর্মভিত্তিক সংঘের জন্য পরিবারতন্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে পরিবারতন্ত্রের সঙ্গে সংঘতন্ত্রের একটি তুলনা করা প্রয়োজন পড়েছে।

২.

চিকিৎসকের সন্তান চিকিৎসক হয়, সংগীতকারের সন্তান সংগীতকার হয় এবং সমাজ সেটিকে ইতিবাচক হিসেবে নেয়; কিন্তু রাজনীতিকের সন্তান রাজনীতিক হলে সমাজ তা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। দেখার যথেষ্ট কারণও আছে। সে কথায় পরে আসছি, কিন্তু প্রথমে একটা কথা বলা যাক।

সেটি হলো রাজনীতিক যখন কোনো পাবলিক প্রতিষ্ঠান চালান, তখন সেটি একটি পেশা হয়ে ওঠে। এখন সন্তান যদি রাজনীতিক হতে চান, অর্থাৎ রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিতে চান, তাহলে মা-বাবার পেশা যা-ই হোক না কেন, তাঁদের কি সন্তানকে বাধা দেওয়া উচিত? উচিত নয়। আবার মা-বাবা চাইবেন তাঁদের পেশায় সন্তান আসুক, সেই চাওয়ামতো সন্তানকে গড়ে তোলার মধ্যেও দোষের কিছু নেই।

বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে এমনও উদাহরণ আছে, রাজনৈতিক নেতা যে ক্ষমতার আসনে আসীন হয়েছেন, তাঁর পরিবারের সদস্য সেই আসনে আসীন হয়েছেন গণতান্ত্রিক উপায়েই। সেখানেও সমস্যা নেই।

সমস্যা হয় তখন, যখন গণতন্ত্রের পরিবেশ থাকে না, সবার জন্য সুযোগ প্রতিষ্ঠা করার উপায় থাকে না। এ সমস্যার গোড়ায় পানি আসে আরও অনেক পটভূমি থেকে। সেই পটভূমি ও পরিবেশগুলো ব্যাখ্যা করলে আমরা দেখতে পাব, রাজনীতিকের সন্তান রাজনীতিক হলে সমাজ কেন নেতিবাচক হিসেবে দেখে।

এখনো যেসব সমাজ সামন্ততান্ত্রিক মনোভাব থেকে মুক্তি পায়নি, সেখানে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে পরিবারতন্ত্র একটা বড় ব্যাপার। রাজার সন্তান (কার্যত ছেলে) রাজা হবে, এটাই নিয়ম—এ মনোভাবের একটি ঐতিহাসিক দিক আছে।

গোষ্ঠীতন্ত্র থেকে রাজতন্ত্র পর্যন্ত, এই নিয়মে হাজার হাজার বছর চলার পর নতুন নিয়মে আসতে জড়তা কাজ করবে, এটিই স্বাভাবিক। রাজতন্ত্রের রেশ এখনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে আছে। আধুনিক বিশ্বের সমাজগুলোর সাধারণ সদস্যরাও এ মনোভাব থেকে মুক্ত নন। কেননা আধুনিক মত ও পথগুলো বিশ্বের সর্বত্র সমানভাবে পৌঁছায়নি।

এখনো বহু সমাজ আছে, যারা ক্ষমতাশালী পরিবারকে ক্ষমতায় রাখতে চায়। কেননা এভাবে ক্ষমতায় রাখার জন্য কাজ করলে কিছু সুবিধা নেওয়া যায়। অথচ যেটিকে তারা সুবিধা মনে করে, সেটি যে আধুনিক মত-পথমতে তাদের অধিকার, এই বোধটা সেসব আধা সামন্ততান্ত্রিক সমাজে চাপা পড়ে থাকে। বোধের চাপা পড়ে থাকাটার অন্যতম কারণ, গণতন্ত্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকা।

বাংলাদেশে সংঘতন্ত্র যেভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে সংঘতান্ত্রিক শাসন নিয়ে আসতে চাইছে, তা বাইরের দিক থেকে দেখলে গণতান্ত্রিক বলে মনে হলেও এর মাধ্যমে জনমনস্তত্ত্বে একটি অগণতান্ত্রিক ভাবাদর্শের চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

৩.

বাংলাদেশে একটি জরিপ হয়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র সম্পর্কে দেশের জনগণ কী বোঝে, তা বের করা। দেখা গেল, গণতন্ত্র সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের প্রধান ধারণা হচ্ছে বিশেষত সংসদ প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা। এর সঙ্গে আগের মনোভাবের কোনো সংঘর্ষ নেই, ফলে ভোট দিয়েই ক্ষমতাবান পরিবারের সদস্যের ক্ষমতা ধারাবাহিক রাখার চর্চা অব্যাহত থাকে।

তাহলে উপায়? সবাই তো আর প্রতিনিধি হতে পারবে না কিংবা হতে চাইবেও না। তাহলে কি পরিবারগুলোর হাত থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় নেই? অবশ্যই আছে।

উপায় হচ্ছে, সর্বত্র গণতান্ত্রিক বিধানগুলো বাস্তবায়ন করা। গণতন্ত্রের একটি মূল কথা হলো, সব নাগরিকের অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা। যদি সেটি বাস্তবে হয়, তাহলে ভোট দেওয়ার বদলে কাউকে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বাড়তি সুবিধা নেওয়ার দরকার পড়বে না।

আর কেউ যদি তারপরও অন্যায়ভাবে সুবিধা নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে যিনি দেন এবং যিনি নেন—দুজনকেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

যেসব দেশে গণতন্ত্র সত্যিই কার্যকর, সেখানে ক্ষমতাসীন রাজনীতিকের পরিবারের লোকজনও নির্বাচনে হারতে পারেন। শুধু পরিবারের পরিচয়ের কারণে তাঁরা জিতে যান, এমন নয়। যদি ক্ষমতার অপব্যবহার হয়, তাহলে আদালত সেই পরিবারের প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করেন। আবার তুলনামূলকভাবে স্বাধীন গণমাধ্যম এসব অপব্যবহার প্রকাশ করে দেয়, ফলে ওই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাও ভেঙে পড়ে।

অর্থাৎ কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকার কারণে পরিবারের সদস্য এবং পরিবারের বাইরের সদস্য একই সুবিধা পায় এবং একই অসুবিধা পোহায়। এমন যদি ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে রাজনীতিকের পরিবারের সদস্যের রাজনীতিতে আসা কোনো সমস্যা তৈরি করে না।

অন্যদিকে সংঘতন্ত্রের বেলায় বিষয়টা একটু ভিন্ন। সংঘ নিজেও একটি পরিবার। এই পরিবারের বন্ধন মতাদর্শভিত্তিক, রক্তের বন্ধনের চেয়ে কম নয়; বহু উদাহরণ আছে মতাদর্শের বন্ধন টিকিয়ে রাখতে রাখতে রক্তের বন্ধন ছিন্ন করার। আবার পরিবারে রক্তের সম্পর্কের সদস্যসংখ্যা সীমিত; কিন্তু সংঘের মতাদর্শগত সম্পর্কের সদস্যসংখ্যা অনেক এবং দিনে দিনে বাড়ানো যায়।

৪.

এই সংঘ প্রায়ই কাল্ট হয়ে ওঠে, সিন্ডিকেট হয়ে ওঠে, ডিপ স্টেটের হিস্যা হয়ে ওঠে, গুপ্ত সংগঠন হয়ে ওঠে, আবার কখনো কখনো ধর্মের মধ্যে একটি আলাদা রাজনৈতিক ‘মাজহাব’ তৈরি করে। ভারতে যেমন হিন্দুর মধ্যে একটি রাজনৈতিক ‘মাজহাব’ হচ্ছে হিন্দুত্ববাদ।

এই হিন্দুত্ববাদী সংঘ এবং তাদের দ্বারা পুষ্ট রাজনৈতিক দল ও আউটফিটগুলো ভারতে রাহুল গান্ধীর রাজনীতিকে দুরূহ করে তুলেছে ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করে। নেহরু পরিবারের সদস্যদের কংগ্রেসে নেতৃত্ব দেওয়াটা এখন নেহরুর ভূত ঠিক করে দেয় না।

দলের মধ্যে পরিবারবহির্ভূত সদস্য ও সমর্থকদের এখানে ভূমিকা আছে। এই ভূমিকার পেছনে নানান কারণ থাকে, ওপরে কিছু বলা হয়েছে। এর বাইরে আরও প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক কারণ থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দল ভেঙে কয়েক ভাগ হয়ে যাওয়া ঠেকাতেও প্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহাসিকভাবে সফল কোনো নেতার কোনো বংশধরকে গড়েপিটে নিয়ে দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু এতে দল বাঁচলেও বিরোধী দলের ক্যাম্পেইনের নিশানায় তারা আরও বেশি সহজভেদ্য লক্ষ্যে পরিণত হয়। মোদি যেমন সাধারণ চা-বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বয়ানটা বেচতে পারেন, সাধারণ মানুষ বলতে পারে, ‘আমি পারছি, তুমিও পারবা, যদি পরিবারতন্ত্রকে হারিয়ে দাও।’

রাহুল ঠিক একইভাবে বলতে পারেন না, কিন্তু আসল সত্য মোদির বিপক্ষেই যায়; পরিবারতন্ত্রের কালেই যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, সে ব্যবস্থাতেই ‘রাজনৈতিক পরিবারবহির্ভূত’ মোদির মতো চা-বিক্রেতা প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন। এখন সংঘতন্ত্র যেভাবে গণতন্ত্রব্যবস্থাকে ভেঙে সংঘতান্ত্রিক শাসনে পর্যবসিত করছে, তাতে সংঘবহির্ভূত সাধারণ মানুষের রাজনীতিতে সফল হওয়ার কোনো রাস্তাই রাখছে না।

৫.

বাংলাদেশে সংঘতন্ত্র যেভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে সংঘতান্ত্রিক শাসন নিয়ে আসতে চাইছে, তা বাইরের দিক থেকে দেখলে গণতান্ত্রিক বলে মনে হলেও এর মাধ্যমে জনমনস্তত্ত্বে একটি অগণতান্ত্রিক ভাবাদর্শের চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

কারণ, এই সংঘগুলো সাধারণত সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, সমাজসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা আধ্যাত্মিক আড্ডার আড়ালে নিজেদের মতাদর্শ ছড়িয়ে দেয়। তারা সরাসরি ক্ষমতা দখলে না গিয়ে ধীরে ধীরে সমাজের মানসিক অবকাঠামো, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো খোলস থাকে মাত্র, ভেতরে ঢোকে এক মতাদর্শিক গোষ্ঠীর ‘অদৃশ্য শাসন’। ফলে নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, রাষ্ট্রযন্ত্রের কোথাও না কোথাও সেই সংঘের প্রভাব থেকে যায়। এ কারণেই সংঘতন্ত্রকে পরিবারতন্ত্রের চেয়ে বিপজ্জনক বলা যায়।

বাংলাদেশেও ধর্মভিত্তিক বা আদর্শভিত্তিক কয়েকটি সংঘ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে প্রভাব রাখার চেষ্টা করছে। তারা কখনো রাজনৈতিক দল গঠন করে, কখনো নিজেদের সমর্থকদের বড় দলগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। এতে গণতন্ত্রের প্রকৃত বহুমাত্রিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সমস্যা শুধু রাজনৈতিক নয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক কাঠামোতেও এই মতাদর্শিক সংঘগুলোর ছায়া পড়ে। এর পরিণতি হয় ‘মতবাদের প্রতিযোগিতা’ নয়; বরং ‘ক্ষমতার দখলদারি’র প্রতিযোগিতা।

সমাজ তখন আর যুক্তিনির্ভর নয়; বরং আনুগত্যনির্ভর হয়ে ওঠে। পরিবারতন্ত্রে যেখানে আনুগত্য রক্তের সূত্রে গড়ে ওঠে, সংঘতন্ত্রে তা মতাদর্শের সূত্রে; কিন্তু উভয়েরই লক্ষ্য গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা।

একটি আইডিয়াল গণতান্ত্রিক পরিবেশে পরিবারতন্ত্র গড়ে উঠতে পারে না, যদি না পরিবারের সদস্য অসম্ভব রকম ভিশনারি ও ক্যারিশম্যাটিক যোগ্য জননেতা হন; কিন্তু সেই আইডিয়াল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাংলাদেশে বর্তমানে নেই।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সেই পথে কিছুটা এগোনো যাবে। কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়িত হলেও সংঘতন্ত্রের প্রভাব থেকে কতটা মুক্ত থাকা যাবে, তা পরিষ্কার নয়।

কেননা পরিবারতন্ত্র দৃশ্যমান ও ব্যক্তিনির্ভর; সংঘতন্ত্র অদৃশ্য ও সংবেদননির্ভর। জনগণের নানা সংবেদনশীল জায়গা আছে, সংঘ অদৃশ্যে সেই জায়গাগুলো দখল করে জনগণকে ভেদবিচারী চিন্তা থেকে বিযুক্ত করে। যদিও এটা সাময়িক, তবু ভোটের সময় এ ঘটনা ঘটলে ফলাফল হয় গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর এবং সেই ক্ষতি হয় সুদূরপ্রসারী।

তবু একটি অবাধ নির্বাচনের মধ্যে আশা আছে। কারণ, জনগণ সচেতন হলে অপেক্ষাকৃত কম খারাপটাকেই বেছে নেয়। কেননা বিশ্বের অভিজ্ঞতা থেকে জনগণ জানে যে সংঘতন্ত্র গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মুক্ত নাগরিক সমাজের বিকল্প তৈরি করতে পারে না।

পরিবারতন্ত্র কিংবা সংঘতন্ত্র—উভয়কেই কার্যকরভাবে প্রতিহত করার একমাত্র উপায় হচ্ছে রাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, আইনের নিরপেক্ষতা এবং সব নাগরিকের জন্য শিক্ষার সম্প্রসারণ, নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবার নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা।

সমাজে যখন সব নাগরিক জানবে যে ক্ষমতা সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত, তখন তারা কোনো পরিবার বা সংঘের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবে। তবে সব সময়ই মনে রাখতে হবে যে গণতন্ত্র কেবল একটি ভোটদানের প্রক্রিয়া নয়; এটি মনস্তত্ত্ব, নৈতিকতা ও সামাজিক সংস্কৃতির এক দীর্ঘ অনুশীলন।

ফলে সেই মনস্তত্ত্বের ওপর রাজনৈতিক কোনো মাজহাবের মতাদর্শিক চাপকে প্রতিনিয়ত প্রতিহত করতে হবে, যদি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেতে চাই।

  • ড. আহমেদ শামীম ভাষাবিদ এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ক

    *মতামত লেখকের নিজস্ব