ইমান অর্থ বিশ্বাস, ইসলাম মানে আনুগত্য। মুমিন বিশ্বাসী ব্যক্তি, মুসলিম অনুগত বান্দা। ইমান হলো আল্লাহ, রাসুল ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস। ইসলাম হলো বিশ্বাসের সঙ্গে নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজ পালন করা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল; নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা ও রমজান মাসে রোজা পালন করা।’ (বুখারি: ৭)। ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জবান ও হাতের অনিষ্ট থেকে অন্য সব মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি: ৯)
নবীজি (সা.) বলেন, ‘ইমান হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস, পরকালে আল্লাহর সাক্ষাতে বিশ্বাস, আল্লাহর রাসুলের প্রতি বিশ্বাস ও কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থানে বিশ্বাস করা। ইসলাম হলো আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে শরিক না করা, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা ও রমজান মাসে রোজা পালন করা।’ (বুখারি: ৪৮)
নবীজি আরও বলেন, ‘যারা সাক্ষ্য দেবে যে “আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই” এবং আমাদের কিবলা মানবে, নামাজ আদায় করবে ও আমাদের জবাই করা প্রাণী আহার করবে, তারা মুসলিম। তাদের প্রতি মুসলিমদের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তাদের জানমাল আমাদের কাছে সুরক্ষিত। তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে।’ (বুখারি: ৩৮৫)
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।’ সে বলল, ‘আমার ওপর এ ছাড়া আরও নামাজ আছে?’ তিনি বললেন, ‘না, তবে নফল আদায় করতে পারো।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আর রমজানের রোজা।’ সে বলল, ‘আমার ওপর এ ছাড়া আরও রোজা আছে?’ তিনি বললেন, ‘না, তবে নফল আদায় করতে পারো।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কাছে জাকাতের কথা বললেন। সে বলল, ‘আমার ওপর এ ছাড়া আরও প্রদেয় আছে?’ তিনি বললেন, ‘না, তবে নফল দান করতে পারো।’
তখন সে ব্যক্তি এই বলে চলে গেল, ‘আল্লাহর কসম! আমি এর চেয়ে বেশিও করব না এবং কমও করব না।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘সে সফলকাম হবে, যদি সত্য বলে থাকে।’ (বুখারি: ৪৪)
ইমান ও ইসলামের বিপরীত হলো কুফর, শিরক ও অনৈক্য। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-ভূখণ্ড করেছে এবং দলে-উপদলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদে উৎফুল্ল।’ (সুরা-৩০ রুম, আয়াত: ৩১-৩২)
বিভক্তির অশুভ পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বনি ইসরাইল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। এদের সবাই জাহান্নামে যাবে, একটি দল ছাড়া।’ জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল কোনটি?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘যারা আমার এবং আমার সাহাবিদের পথ অনুসরণ করবে।’ (আবুদাউদ: ৪৫৯৭; তিরমিজি: ২৬৪১; ইবনু মাজাহ্: ৩৯৯১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ইহুদিরা ৭১ দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের একটি দল জান্নাতি; খ্রিষ্টানরা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের একটি দল জান্নাতি; আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, তাদের একটি দল জান্নাতি হবে।’ (ইবনু মাজাহ, পৃষ্ঠা: ২৯৬)
সব মানুষ আখেরি নবীর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে একটি দল সরাসরি জান্নাতে যাবে। এরা সব দলের মধ্য থেকে বাছাই করা সেসব মানুষ, যারা ইমান, আমল ও ইখলাসের অধিকারী। অন্য মুমিনরা পাপের শাস্তি পেয়ে, সুপারিশের মাধ্যমে অথবা আল্লাহর রহমতে ক্ষমা পেয়ে পর্যায়ক্রমে জান্নাতে যাবে। কাফের ও মুশরিক ছাড়া কেউ জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে না। মুমিনদের যেসব অপরাধের বিষয়ে চিরকাল জাহান্নামে থাকার কথা বলা হয়েছে, এর অর্থ হলো দীর্ঘ সময় জাহান্নামে থাকা। (সুরা আন-নিসা, ৪: ৯৩; তাফসিরে কাশশাফ; তাফসিরে বায়জাভি)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যেকোনো বান্দা আন্তরিকতার সঙ্গে এই সাক্ষ্য দেবে যে “আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল”, তার জন্য আল্লাহ–তাআলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম, মুত্তাফাকুন আলাইহি: ১৩০/১২৮)
● অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম
smusmangonee@gmail.com