বাংলাদেশের আদালতে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা যুক্তরাজ্যে একটি বড় খবর ছিল।
বাংলাদেশের আদালতে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা যুক্তরাজ্যে একটি বড় খবর ছিল।

মতামত

টিউলিপের বিচারপ্রক্রিয়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শিতা

বাংলাদেশের আদালতে গত সোমবার (১ ডিসেম্বর ২০২৫) ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা যুক্তরাজ্যে একটি বড় খবর ছিল।

বেলা একটায় বিবিসি রেডিও ৪-এর প্রধান সংবাদ বুলেটিনে এটি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ হিসেবে প্রচার করা হয়। অন্য গণমাধ্যমেও বিষয়টি বড় খবর হিসেবে উঠে আসে।

এর আগের সপ্তাহে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠি লিখেছিলেন যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, চিঠিটিতে মূলত আইনি ‘ডিউ প্রসেস’ বা ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিউ প্রসেস বলতে কোনো মামলা যে আইনিকাঠামো ও নিয়মের মধ্যে পরিচালিত হয় এবং বিচার হয়, সেই প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

এটি মামলার মূল যুক্তি বা প্রমাণের বিষয় নয়; বরং কোন নিয়মে সেই বিচার হচ্ছে, সেটিই এর প্রধান বিষয়।

যথাযথ আইনজীবীর সহায়তা পাওয়া বা না পাওয়া, এটিও ডিউ প্রসেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশে অনেক বিশ্লেষক ও মন্তব্যকারী টিউলিপ সিদ্দিক আদৌ ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু এখানে আমি সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি না।

আদালতে কে কী যুক্তি দিয়েছেন বা কোন পক্ষের যুক্তি কতটা শক্ত, সেটিও আমি বিবেচনায় আনছি না। তার বদলে আমি এমন একটি দিকের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি, যেটি খুব কম আলোচিত হয়েছে।

সেটি হলো যুক্তরাজ্যের জনপরিসর ও গণমাধ্যমে আলোচিত এ বিষয়কে বাংলাদেশ সরকার যেভাবে সামলেছে, তাকে আসলে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনার বড় বিপর্যয় বলা যেতে পারে।

এ ছাড়া পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব কী হতে পারে, সেটিও আমি বিবেচনা করছি।

বাংলাদেশের বাইরে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে থাকা যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পদ উদ্ধার করার যে প্রচেষ্টা বাংলাদেশ করছে, এ ঘটনা সেই প্রচেষ্টার ওপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও আমি বিবেচনা করছি।

গত সোমবার ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো পর্যালোচনা করে স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো শক্ত পাল্টা বর্ণনা বা ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর ফলে টিউলিপ সিদ্দিক ও তাঁর জনসংযোগ বা মিডিয়া টিমের জন্য মাঠটা পুরো খালি হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার আদৌ কোনো পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস অফিসের কাজের ধরন সম্ভবত বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই করে সাজানো। কিন্তু যুক্তরাজ্যে সেই পদ্ধতি ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

শুরুতেই বলা যায়, তাদের প্রেস অফিস মূলত প্রতিক্রিয়াশীল, অর্থাৎ আগে থেকে বিপদের আঁচ পেলেও সাধারণত উদ্যোগ নিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা তারা করে না।

ঝুঁকি অনেক আগেই বোঝা যায়, তবু তারা নড়েচড়ে বসে না। কোনো বিতর্ক তৈরি হলে তখনো তারা বারবার হিমশিম খেয়েছে, ঠিকমতো জবাব দিতে পারেনি।

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, টিউলিপের আইনজীবীদের চিঠিটিতে মূলত আইনি ‘ডিউ প্রসেস’ বা ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আরেকটি দিক লক্ষ করার মতো। সেটি হলো, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে প্রায়ই একধরনের ক্ষোভ ও বিরক্তির সুর দেখা যায়।

তাঁরা যেন মনে করেন, তাঁদের অপমান করা হচ্ছে বা দেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। এ সুর বাংলাদেশের বা ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের মারাত্মক ভুল উপস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছুটা কাজ করতে পারে।

কিন্তু যুক্তরাজ্যের মতো জায়গায় এ ধরনের ক্ষোভভরা ভাষা পুরোপুরি উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। সেখানে এটি কাজ তো করবেই না; বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে।

টিউলিপ সিদ্দিকের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর প্রকাশের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম অন্য খবরের দিকে চলে যায়।

কারণ, তখন দেশটির বাজেট ও অর্থমন্ত্রীর বিষয়ে বড় বড় খবর চলছিল। ফলে বিষয়টি দ্রুতই আড়ালে চলে যায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং নতুন কোনো বড় তথ্য সামনে না এলে যুক্তরাজ্যে এমপি হিসেবে টিউলিপের অবস্থান এখন আগের চেয়ে বেশি শক্ত।

বাংলাদেশে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকায় তিনি হয়তো আর কখনো বাংলাদেশে আসবেন না। তবে যদি এই ব্রিটিশ নাগরিক ও এমপি আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকারের সামনের সারির আসনে (ফ্রন্ট বেঞ্চে) ফিরে আসেন, তাহলে আমি একেবারেই অবাক হব না।

টিউলিপ যে ভাষ্যটি সামনে এনেছেন, তার কোনো তাৎক্ষণিক পাল্টা বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের আইনজীবীদের স্বাক্ষরিত চিঠির কোনো জবাবও দেওয়া হয়নি।

ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, তাঁর মা শেখ রেহানা এবং শেখ রেহানার বোন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত রায় ঘোষণার পর সরকারি কৌঁসুলি খান মঈনুল হাসান গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

এটা খেয়াল রাখা প্রয়োজন যে এই চিঠি যুক্তরাজ্যে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চলমান কোনো মামলায় আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য দেওয়া হয়নি এবং এটি বাংলাদেশের কোনো আদালতেও দাখিল করা হয়নি।

তা ছাড়া এই চিঠি কোনো ‘লেটার বিফোর অ্যাকশন’ অর্থাৎ আইনি নোটিশ নয় কিংবা কোনো পক্ষকে নির্দিষ্ট কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তাও ছিল না।

তবে আদালতের বাইরে জনপরিসরে এ ধরনের চিঠি অস্বাভাবিক কিছু নয়।

পাঠকদের একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিই। ওই চিঠিটি এসেছিল আদালতের রায়ের পুরো এক সপ্তাহ আগে।

এর অর্থ হলো, রায় ঘোষণার পর ঠিক কী ধরনের বিষয় সামনে আসতে পারে, সে বিষয়ে আইজি (অন্তর্বর্তী সরকার) এক সপ্তাহ আগেই ধারণা পেয়েছিল। অর্থাৎ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সরকার পুরো এক সপ্তাহ সময় পেয়েছিল।

এই এক সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ হয়নি, অর্থাৎ ব্যাখ্যা করে বলা হয়নি, ব্রিটেনের আইনজীবীরা ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নেই’ বলে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা অমুক অমুক কারণে ভিত্তিহীন।

সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের মতো যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমও দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের খবরকে প্রাধান্য দেয়।

অন্তর্বর্তী সরকার যদি আইনজীবীদের অভিযোগের শক্ত কোনো জবাব দিত, তাহলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সেটি গুরুত্ব দিয়েই প্রচার করত।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কি ওই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের চিঠির কোনো জবাব দিয়েছিল বা তাঁদের ‘যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব’-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর উত্তর দিয়েছিল?

এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাজ্যে কোনো পাবলিক রিলেশনস (পিআর) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছিল বা ব্রিটিশ মিডিয়া ও আইনব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছিল।

যদি তারা তা করত, তবে তাদের ওই পিআর প্রতিষ্ঠান বা আইনজ্ঞের পক্ষ থেকে আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়া হতো যে, এখানে এই রায় নিয়ে যত খবর ছাপা হবে, তার প্রতিটি শিরোনামে না হলেও অন্তত ভেতরে ‘অনুপস্থিতিতে বিচার’ (ট্রায়াল ইন অ্যাবসেনশিয়া) কথাটি থাকবেই।

তাদের আরও জানিয়ে দেওয়া হতো যে, অন্তর্বর্তী সরকার আগেভাগে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দিলে বা অবস্থান না জানালে যুক্তরাজ্যে এবং অন্য দেশেও এই শব্দগুলোকে ঠিক বা ভুল যেভাবেই হোক, সুষ্ঠু বিচারপ্রক্রিয়ার অভাবের সমার্থক হিসেবে দেখা হবে।

তা ছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারকে এটাও জানিয়ে দেওয়া হতো, বাংলাদেশের আদালত রায় ঘোষণার আগেই টিউলিপ সিদ্দিক বিষয়টিকে পুরোপুরি ‘ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া’ সংক্রান্ত একটি সমস্যা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা হলো বাংলাদেশ মৌলিক আইন ও শাসনের নীতিকে গুরুত্ব দেয় না। হয়তো এ ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়।

ভেবে দেখুন, যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব কম জানেন এবং বাংলাদেশের ব্যাপারে তেমন আগ্রহও রাখেন না। এ অবস্থায় তাঁরা কীভাবে বুঝবেন, এই এমপি বাংলাদেশে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, কিন্তু এখনো যুক্তরাজ্যের এমপি রয়ে গেছেন? তাই তাঁরা সহজেই ধরে নেবেন, বাংলাদেশের আদালত হয়তো ভুয়া বা সাজানো ক্যাঙারু কোর্টের মতো ছিল।

তবে যখন টিউলিপের জনসংযোগ দল তাদের প্রচার শুরু করেছে, তখন বাংলাদেশ সরকার এ ভুল ধারণা বন্ধ করতে বা পাল্টা কিছু বলতেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ভেবে দেখুন, যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব কম জানেন এবং বাংলাদেশের ব্যাপারে তেমন আগ্রহও রাখেন না।

এ অবস্থায় তাঁরা কীভাবে বুঝবেন, এই এমপি বাংলাদেশে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, কিন্তু এখনো যুক্তরাজ্যের এমপি রয়ে গেছেন?

তাই তাঁরা সহজেই ধরে নেবেন, বাংলাদেশের আদালত হয়তো ভুয়া বা সাজানো ক্যাঙারু কোর্টের মতো ছিল। এই ধারণার অনেক বড় প্রভাব আছে।

এতে বাংলাদেশের বাইরে (যেমন যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর বা অন্য দেশে) যেসব সম্পদ উদ্ধার করার প্রচেষ্টা চলছে বা ভবিষ্যতে চলবে, তা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

কারণ, সরকার আগে থেকেই এই পরিকল্পনা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে যাঁরা সরকারের নিশানায় আছেন, তাঁরা আগেই সতর্ক হয়ে গেছেন এবং কয়েক দিন বা ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের সম্পদ বা মালিকানা বদলে ফেলেছেন। তাই এগুলো উদ্ধার করা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।

টিউলিপ-কাণ্ডে এ সমস্যা আরও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারে শুধু বিচার বা পুলিশি সাহায্য নয়, স্থানীয় প্রশাসনের সমর্থনও প্রয়োজন হয়।

গণতান্ত্রিক নেতারা যদিও বলে থাকেন, সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি রাজনীতির বাইরের বিষয়; কিন্তু বাস্তবতা হলো বিদেশি রাজনৈতিক ইচ্ছা ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে সম্পদ ফিরিয়ে আনা খুবই কঠিন। যাঁরা সম্পদ পুনরুদ্ধারে যুক্ত হয়েছেন, তাঁরা এটি ভালো করে জানেন।

তাঁরা জানেন, এ সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া থেকে যুক্তরাজ্য কোনো লাভ পাচ্ছে না; ফলে তাদের এ বিষয়ে সহায়তা করার সম্ভাবনা কম। তবে রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা সুনাম হারানোর ভয় থাকলে তারা সাহায্য করতে পারে।

ঠিক হোক বা ভুল হোক, টিউলিপ-কাণ্ডের কারণে এখন ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকদের চোখে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যেখানে ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া ঠিকমতো মানা হয় না।

এর ফলে ‘সম্পদ পুনরুদ্ধার’-এর নামে বাংলাদেশের সরকার যেসব দাবি করে বা করবে, সেগুলো এখন সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

এসব কিছু হয়েছে, কারণ অন্তর্বর্তী সরকার আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়নি এবং ঠিক সময়ে ঠিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বা জবাব দেয়নি।

যদি তারা ঠিক পদক্ষেপ নিত, তাহলে অন্যরা সহজেই বুঝতে পারত, কী ধরনের সমস্যা হতে পারে এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত ছিল।

ইংরেজি বাগধারায় এই অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি ‘লেম-ডাক’ সরকার বা ‘নিধিরাম সর্দার’ সরকার বলা যেতে পারে। কারণ, এটি এমন এক সরকার, যে কিনা নিজের মেয়াদের শেষ দিকে এসে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

তাদের কার্যকারিতা ও ভুলের সমালোচনা হয়তো বর্তমান সরকারের কোনো কাজে আসবে না; কিন্তু এই পুরো ঘটনা পরবর্তী সরকারের জন্য শিক্ষা ও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

  • জিয়া হায়দার রহমান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক

(নোট: এই লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর লেখক কিছু সংশোধনী এনেছেন। সংশোধিত লেখাটি এখন সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে পুনরায় প্রকাশ করা হলো।)

*মতামত লেখকের নিজস্ব