
বেলুচিস্তান নিয়ে রাজনৈতিক সহিংসতার খবর আসছে প্রতিদিন। সেখানে কী ঘটছে, কেন ঘটছে সেসব নিয়ে দুই পর্বে লিখেছেন আলতাফ পারভেজ। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব।
ঢাকা থেকে বেলুচিস্তানের প্রধান শহর কোয়েটার দূরত্ব প্রায় দেড় হাজার মাইল। ১৯৫৪ সালে ঢাকা থেকে প্রথম যখন বিরতিহীন বিমান যোগাযোগ গড়ে ওঠে, তখনই কেবল করাচি হয়ে কোয়েটা যাওয়া সহজ হয় এ অঞ্চলের মানুষের জন্য। অল্প কিছু বাংলাভাষী আছেন এই শহরে এখনো।
শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে হুদ্দা নামে একটি এলাকা আছে। বড় কারাগার, বড় কবরস্থান এবং পাশের বড় এক ক্যান্টনমেন্টের জন্য পরিচিত। প্রদেশের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা কারাগারটি রয়েছে এখানে।
এখানেই ২০ বর্গমিটারের একটি সেলে আছেন খ্যাতনামা রাজবন্দী মাহরাং বালুচ। শুধু উনি নন, বহু বালুচ তরুণ-তরুণী বন্দী এখানে। গুরুত্বপূর্ণ রাজবন্দীদের নির্জন সেলে রাখা হয়। মাহরাংও সে রকম এক সেলে আছেন।
হুদ্দা পাকিস্তানের এক মহাসংকটের প্রতীক। এখানে রাজনৈতিক বন্দীরা যত বেশি দিন থাকেন, বালুচ সমাজে তত বেশি ভালোবাসার পাত্র হয়ে যান তাঁরা। তাঁদের প্রতি ভক্তি-ভালোবাসায় আরও তরুণ-তরুণী তাঁদেরই পথে পা বাড়ায়। এভাবেই পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতিপক্ষ তৈরি করছে। তবে এটা শাসকগোষ্ঠীর বাঁচারও শর্ত। ক্রমাগত সামরিকায়নের ভেতরই তাদের প্রাণভোমরা বাঁচে। কখনো অন্য দেশের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য, কখনো কখনো নিজ জনগণের বিরুদ্ধে নামার জন্য।
অনেক দিন এ রকম চলতে চলতে বেলুচিস্তান এখন বিস্ফোরক এক মুহূর্তে এসে হাজির হয়েছে। দূর বাংলাদেশের মানুষেরও কৌতূহল বাড়ছে মাহরাংদের নিয়ে। তারা অবশ্য আল্লাহ নজর বা বশির জায়েবদের কথা কম জানে। তাঁরা থাকেন পাহাড়িদের এলাকাগুলোতে। তাঁদের সংগ্রামের ধরন মাহরাংয়ের মতো নয়। তবে একই স্বপ্নে বাঁচেন ও মরেন তাঁরা।
১৯৪৭–এর আগস্টের আগে পাকিস্তান বলে কোনো দেশ ছিল না। কিন্তু কালাত বলে বালুচদের একটা রাজ্য ছিল। লর্ড লিটনের আমলে আগ্রাসনের পর ১৮৭৬ থেকে ব্রিটিশদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সীমিত স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত তারা। তখন নাম হলো ‘ব্রিটিশ বেলুচিস্তান’। কিছু বেলুচ জনপদ এর মাঝে ইরানের সীমান্তেও চলে গেল। যার নাম এখন সিস্তান-বেলুচিস্তান।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে ঔপনিবেশিক শক্তি বিদায়ের মুহূর্তে ‘সরদারি সামন্ততন্ত্র’ থেকে মুক্তির প্রস্তুতিতে নেমেছিল বালুচরা। একটা সংবিধানও লিখে ফেলেছিল। ১৯৪৭–এর ১১ আগস্ট কালাত স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কয়েক দিন পরই জিন্নাহর গভর্নরশিপে কালাতের পাশে জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানের। ইতিমধ্যে কালাতের ছোট ছোট কিছু ট্রাইবের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে পাকিস্তান সরকার। তাদের পাকিস্তানভুক্তিতে রাজি করানো হয়। সেই সম্মতিকে সনদ হিসেবে দেখিয়ে ১৯৪৮–এর মার্চে পাকিস্তান আর্মি ঢুকে পড়ে কালাতে। কালাত পাকিস্তানভুক্ত হলো। সাধারণ বালুচদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশার বিপরীতেই এটা হলো।
এরপর বালুচ ভিন্নমতাবলম্বীদের জেলে ভরা শুরু। প্রথম দিকে বিদ্রোহ করেন স্বাধীনচেতা ‘সরদার’রা। স্বাধিকার ফিরে পাওয়ার সেই সংগ্রাম নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে এখন ফুটন্ত তেলের উত্তপ্ত এক কড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। এর মাঝে সংগ্রামের নেতৃত্ব চলে গেছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণ-তরুণীদের হাতে।
বেলুচিস্তানের মানবিক সম্ভ্রম এবং অর্থনৈতিক সম্পদ হারানোর বিস্তারিত বিবরণের বড় সূত্র বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠকদের অনেকে ইতিমধ্যে নিহত বা গুম হয়ে গেছেন। বিশ্বে গত কয়েক দশকে যত গুম হয়েছে তার বড় অংশ হয়েছে বেলুচিস্তানে। মূলত গুমের বিরোধিতা থেকে বালুচদের চলমান গণ–আন্দোলনের শুরু এবং সেটা এখন উপনিবেশ–বিরোধী সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
আগে বালুচ সমাজকে নেতৃত্ব দিয়েছে সরদাররা। তাদের সাহসী অংশ ইতিমধ্যে মারা পড়েছে। আপসকামী অংশ গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। পাকিস্তানের অধীন প্রদেশ হিসেবে বেলুচিস্তানে যখনই মোটামুটি সুষ্ঠু কোনো নির্বাচন হয়েছে, তখনই সেখানে স্থানীয় দলগুলো জিতেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তাদের স্বচ্ছন্দে কাজ করতে দেয়নি। ফলে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি বালুচদের এখন আর কোনো আস্থা নেই।
কোয়েটায় সরিয়াব রোডে ইউনিভার্সিটি অব বেলুচিস্তানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে দেখা যায় তাঁদের প্রিয় পাঠ্য মাও, হো চি মিন, চে, ফ্রানৎস ফানোঁ প্রমুখ। ফানোঁ উর্দু অনুবাদ উফতাদগান-ই-খাক (দ্য রেচেড অব দ্য আর্থ) জনপ্রিয় এখানে। যেখানে ফানোঁ উপনিবেশিত হওয়া মানুষের বিমানবিকীকরণের মনোবিশ্লেষণ করেছিলেন। মাহরাং সমাবেশগুলোতে ফানোঁর বই থেকে লাইন পড়ে শোনাতেন।
বালুচদের এ রকম পছন্দ বুঝিয়ে দেয় তাদের মনোজগতে কী চলছে। যদিও এখনো সশস্ত্র-নিরস্ত্র উভয় ধারাই সক্রিয়, কিন্তু অহিংস সংগ্রামের সুযোগ কমছে প্রতিদিন। মাহরাংয়ের জেলজীবন সেই কথাই জানায়। ফলে আন্দোলনের মূল ধরন হয়ে যাচ্ছে ক্রমে সশস্ত্র। বালুচ তরুণদের ভাষায় ‘এটাই জীবনের দাবি এখানে’। পাকিস্তান বাহিনী সব মানদণ্ডে অনেক শক্তিশালী হয়েও সশস্ত্রতা বন্ধ করতে পারছে না। বালুচদের পক্ষেও লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ নয়—প্রতিপক্ষ তাদের কেবল ইসলামাবাদ নয়।
পাকিস্তানের বড় প্রদেশ হলেও বেলুচিস্তানের লোকসংখ্যা কম। দেড় কোটির মতো। ভূমি হিস্যায় ৪৪ শতাংশ হলেও লোকের হিস্যায় এই প্রদেশ মাত্র ৬ শতাংশ। বালুচদের পাশাপাশি পশতু, ব্রাহুইসহ আরও অনেক জাতির মানুষ আছে এখানে।
জনসংখ্যায় বালুচ হিস্যা কমাতে ১৯৪৮ থেকে এই প্রদেশে অন্য জাতির মানুষদের বসতি স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। চীন এখানে যে অর্থনৈতিক করিডর করেছে, তাতে বাইরের শ্রমিক-কর্মচারী নিয়ে আসা হচ্ছে অনেক। জনমিতিক এই প্রকৌশলবিদ্যাও বালুচদের ক্ষোভের সর্বশেষ কারণ।
প্রদেশটির একজন পরিচিত রাজনীতিবিদ জেহানজেব জামালদিনের মতে, গত কয়েক দশকে পাকিস্তান ৪০ লাখ লোককে এই প্রদেশে পুনর্বাসন করিয়েছে। এর বড় অংশই আফগান ‘শরণার্থী’।
১৯৫১ সালে এখানে লোক ছিল ১১ লাখ। ভুট্টোর আমলে সামরিক অভিযান এবং ১৯৭৮ সালে আফগান যুদ্ধ শুরুর পর মাত্র ৩০ বছরে জনসংখ্যা ৪৩ লাখে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সেটেলার নিয়ে আসা বাড়ে। ফলে ২০১৭ সালে লোকসংখ্যা হয় ১ কোটি ২৩ লাখ এবং ২০২৩–এ প্রায় দেড় কোটি। সর্বশেষ হিসাবে পাকিস্তানজুড়ে মানুষ বাড়ার হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ, বেলুচিস্তানে সেটা ৩ দশমিক ২ শতাংশ।
বাড়তি জনসংখ্যা কর্মসংস্থানের সংকট বাড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের জীবনযুদ্ধ তীব্র করেছে। আবার যেহেতু জনসংখ্যার বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে পশতুনদের—ফলে সেটা বালুচদের সংখ্যালঘু হয়ে পড়ার ভীতি তৈরি করছে। পশতুনরা ইতিমধ্যে প্রদেশে ৪৩ শতাংশ হয়ে গেছে। তবে পাকিস্তান আমলের শুরুতে ন্যাপের পশতুন নেতারাই বেলুচিস্তানকে ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত করার সংগ্রামে প্রথম সারিতে ছিলেন।
বেলুচিস্তানে পশতুনদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রকল্প ইসলামাবাদের জন্য আরেক আত্মঘাতী অবস্থা তৈরি করছে। আফগান তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের সম্পর্ক যত খারাপ হচ্ছে, কোয়েটাসহ পশতুনপ্রধান জেলাগুলোতে টিটিপির উপস্থিতি তত বাড়ছে। ফলে বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি আর্মি প্রকৃতপক্ষে দুই ধরনের গেরিলাযুদ্ধের মুখে আছে।
বালুচদের সংগ্রামের একটা ট্রাইবাল প্রকৃতি আছে। বুগতি, মারি, মেঙ্গল, দাস্তি—অনেক গোত্র এই সমাজে।
সংগ্রামী ঐতিহ্যে বুগতিরা এগিয়ে। তাদের সরদার আকবর বুগতিকে জেনারেল পারভেজ মোশাররফের আমলে পাকিস্তান বাহিনী ২০০৬ সালের আগস্টে কহলু জেলায় হত্যা করে। বুগতিদের কেন্দ্রভূমি ডেরা-বুগতিতে যে গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, সেটাই পাকিস্তানের গ্যাস চাহিদার বড় একাংশ পূরণ করে। এই সম্পদের হিস্যা নিয়ে বুগতিদের অনেক ক্ষোভ।
মারিরাও আরেক বড় বিদ্রোহী গোত্র। কহলুকেন্দ্রিক এই গোত্রের প্রয়াত মুরব্বি খায়ের বক্স মারিকে বালুচ বিদ্রোহের অন্যতম জনক বিবেচনা করা হয়। বুগতিদের তুলনায় মারিরা বামপন্থী মনোভাবাপন্ন। খায়ের বক্সের ছেলে বালাচ মারিকে বিএলএর (বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি) অন্যতম সংগঠক মনে করা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো ফোর্স বালাচকে আফগানিস্তানে হত্যা করে ২০০৭ সালে।
আকবর বুগতি, খায়ের বক্সের পাশাপাশি আতাউল্লাহ মেঙ্গল তৃতীয় প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। মাওলানা ভাসানীদের ন্যাপ ধারার রাজনীতিবিদ তিনি। ২০২১ সালে মারা যান।
আতাউল্লাহর পুত্র আখতার মেঙ্গল নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন এখন। মেঙ্গলরা মুখ্যত ব্রাহুই। তবে বালুচ হিসেবেই পরিচিত।
পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এখনকার সমস্যা হলো ট্রাইবাল নেতাদের প্রতি নজর রাখলে এখন আর চলছে না। সংগ্রামের লাগাম চলে গেছে ছাত্র-তরুণদের হাতে। ভিন্নমতাবলম্বী তৈরি হচ্ছে মূলত ক্যাম্পাসে-ক্যাম্পাসে। পরে তাদের কেউ কেউ পাহাড়মুখী হচ্ছে। সেখানে তারা যুক্ত হয় প্রধানত বিএলএ এবং বিএলএফে।
বিএলএতে সক্রিয় ক্যাডারের সংখ্যা ২-৩ হাজার হবে। বিএলএফ তুলনামূলকভাবে ছোট সংগঠন। এরা ইরান–সংলগ্ন মাকরানের দিকে সক্রিয়। এই গ্রুপ গড়ে তোলেন ওয়াহিদ কামবার। কামবার আটক হওয়ার পর ড. আল্লাহ নজর এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এরা গত জুনে খুজদার জেলার নাল তহশিলে সমন্বিত এক হামলায় পাকিস্তান বাহিনীর প্রায় ২০ সেনাকে হত্যা করে। পুরো শহর এ সময় তারা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে এটাই ছিল ভয়াবহ। একই দিন গদার বন্দরের পুলিশ ফাঁড়িতেও আক্রমণ হয়। এ বছর ২১ জুন পর্যন্ত কেবল বিএলএফ বেলুচিস্তানে ৫৯টি হামলা চালিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
অন্যদিকে গত বছর মার্চে দুনিয়া কাঁপানো ট্রেন হাইজ্যাকের সংগঠক ছিল বিএলএর ‘জিয়ান্দ উপদল’। কোয়েটা থেকে পেশোয়ারমুখী ট্রেনকে তারা বোলান পাসে থামিয়ে সব যাত্রী জিম্মি করে—যে যাত্রীদের বড় অংশ ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীগুলোর জওয়ান। এই দলের নেতা বশির জায়েব—প্রয়াত আসলাম বালুচের ভাই। আসলামকে ২০১৮ সালে কান্দাহারে হত্যা করা হয়। আত্মঘাতী দল মজিদ ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। তাঁর আত্মঘাতী দলে নিজ পুত্র রেহান বালুচও ছিল। এ থেকে বোঝা যায়, সশস্ত্রতায় তারা কত বেপরোয়া। বিএলএর আরেকটা উপদল হলো আজাদ গ্রুপ।
বশির জায়েব, ওয়াহিদ কামবার, আল্লাহ নজররাই এখনকার বালুচ সশস্ত্রতার মূল নেতা। এদের সহযোদ্ধার জোগান আসছে বালুচ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন (বিএসও)সহ ক্যাম্পাসভিত্তিক সংগঠনগুলো থেকে। প্রতি সপ্তাহে এদের হামলা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সেসব সংবাদ পাকিস্তানে পুরো প্রকাশিত হয় না বিভিন্ন এজেন্সির ভয়ভীতির কারণে। সেই নীরবতার চাদর ভেদ করে বিশেষভাবে বিশ্ব সংবাদ হয়ে উঠেছে মাহরাং বালুচের সংগ্রাম ও বন্দিত্ব।
২০২৫–এর মার্চ থেকে কারাগারে বন্দী তিনি। কিছু কাল বিনা বিচারে আটক ছিলেন। গত জুন থেকে সাজা নিয়ে কারাজীবন কাটাচ্ছেন। কারাগারের ভেতরই তাঁর ও সহযোগীদের বিচার হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘উত্তেজক বক্তব্যে’র মাধ্যমে ২০২৪ সালে ‘একজন নিরাপত্তারক্ষী’র মৃত্যুর বাস্তবতা তৈরির অভিযোগ ছিল।
মাহরাংরা বালুচ ‘ইয়াকজাতি কাউন্সিলে’র সঙ্গে কাজ করেন। এই আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় সংগঠকেরা সবাই নারী। হত্যা, গুম, পুলিশি অত্যাচার ইত্যাদির বিরুদ্ধে রাস্তাঘাটে মিছিল সমাবেশ করে এই সংগঠন। তাদের দাবি কেবল ২০২৫ সালে বেলুচিস্তানে ১ হাজার ২০০ গুমের ঘটনা ঘটেছে (গার্ডিয়ান, ১ এপ্রিল ২০২৬)। পাকিস্তান সরকার মনে করে মাহরাংরা আসলে বিএলএফ, বিএলএ ইত্যাদি সংগঠনের ‘প্রক্সি’। এই সংগঠনের মিছিল সমাবেশে বিপুল নারীর উপস্থিতি সামাজিকভাবে বিস্ময়কর এক ঘটনা।
ঐতিহাসিকভাবে বালুচ সমাজ খুব পুরুষতান্ত্রিক। সরদারি ব্যবস্থায় নারীর নেতৃত্বদায়ী ভূমিকার অবকাশ ছিল না। সে রকম একটা সমাজে নারীদের আহ্বানে জনসভায় আসে হাজার হাজার পুরুষও। তবে এক্স হ্যান্ডলসহ নানা মাধ্যমে বালুচ নারীদের এমন ছবিও দুর্লভ নয়, যেখানে তাদের রাইফেলসহ দেখা যায় এখন। মুক্তির আকুলতা নিয়ে নারীদের এভাবে গণহারে রাজনৈতিক সংগ্রামে নামার নজির দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে খুব বেশি নেই।
এ বাস্তবতা তৈরি করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী। ডেথ স্কোয়াডের টহলের মুখে বালুচ পুরুষদের আত্মগোপন বেড়ে যাওয়ার পর এই আন্দোলনে এগিয়ে আসে নারীরা। প্রশ্ন হলো কেন বালুচরা এত বেপরোয়া? এবং এর ফল কী দাঁড়াচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজব পরবর্তী লেখায়।
আলতাফ পারভেজ দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ে গবেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব