
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গ্যারেজ না থাকায় আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) সুবিধাসংবলিত তিনটি অ্যাম্বুলেন্স খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় সেগুলো বেশির ভাগ সময়ই অব্যবহৃত থাকছে। এ কারণে সংকটাপন্ন রোগীরা স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিল। পরে গত বছরের ৫ অক্টোবর ভারতের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে আরও দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের প্রবেশপথের এক পাশে খোলা আকাশের নিচেই রাখা হয়েছে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সগুলো। ভারত থেকে দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স দুটি এখনো ব্যবহার করা হয়নি। তবে মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটিতে সিলেট থেকে ঢাকায় দুই দফা রোগী পরিবহন করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো স্থাপনা নির্মাণের বরাদ্দ কিংবা নিয়ম তাদের থাকে না। নির্মাণকাজ কিংবা বরাদ্দ আসে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে। এ ব্যাপারে তারা অধিদপ্তরকে কয়েক দফা জানিয়েছে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা চিকিৎসক ও নার্স রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন রক্ষার জন্য আইসিইউ-সুবিধাসংবলিত অ্যাম্বুলেন্স অতীব জরুরি। এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের প্রয়োজন হয়। করোনা মহামারিকালে আমরা দেখেছি, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য না নিতে পারায় অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেশে ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের পক্ষে এতটা ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য। বেসরকারি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে সিলেট থেকে ঢাকায় রোগী নিয়ে যেতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়া লাগে। সেখানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে এ খরচ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
এর আগে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশ্ন হলো, মানুষের জীবন রক্ষার কাজেই যদি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা না যায়, তাহলে সেগুলো কেন বরাদ্দ দেওয়া হলো? আবার সেগুলো রোদ-বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে রেখে দেওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ার ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়েছে। ‘ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া’ প্রবাদের এটি একটি দৃষ্টান্ত।
আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সগুলো রাখার জন্য দ্রুত গ্যারেজ নির্মাণে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগকে সেগুলো পরিচালনার জন্য চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিতে হবে।