সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

বিদ্যুৎহীন চিকিৎসাসেবা

দিরাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক

হাওর এলাকায় অপ্রতুল চিকিৎসাসেবার বিষয়টি কারও অজানা নয়। সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে সেখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে। অনেক জায়গায় অল্প শয্যার কিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ২০ শয্যার হাসপাতাল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে নানা জটিলতার মধ্যে আছে সেটি। এর মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বকেয়া বিলের জন্য বিদ্যুৎ–সংযোগ কেটে দেওয়া। তিন দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে এ হাসপাতাল। এতে বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তি বেড়েছে রোগী ও স্বজনদের।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, জগদল হাসপাতালের এক বছরে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার বিল পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে দাবি করেছে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ। ফলে গত রোববার দুপুরে হাসপাতালের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন করার আগে তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।

প্রত্যন্ত এলাকায় ২০০৬ সালে জগদল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হলেও সেটির উদ্বোধন হতে লেগে যায় সাত বছর। এরপর সেটি চালু হতে লেগে যায় আরও সাত বছর। এক বছর আগে কার্যক্রম শুরু হওয়া হাসপাতালটি পুরোপুরিভাবে সক্ষমতা অর্জন করেনি। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে চিকিৎসকেরা সেখানে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হলে কিছু বিল পরিশোধও করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ–সংযোগ কেটে দেওয়ার আগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উচিত ছিল নোটিশ দেওয়া। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী তারা যদি তা না করে থাকে, তবে কাজটি দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়েছে। বিদ্যুৎ–সংযোগ কেটে দেওয়ার আগে তাদের ভাবা উচিত ছিল বিদ্যুৎ ছাড়া হাসপাতালটির কার্যক্রম কীভাবে চলবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, প্রায় এক লাখ টাকা বিল বকেয়া ছিল। ইতিমধ্যে ৩১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে বকেয়া বিল দেওয়া হবে। সরকারের এক দপ্তরের টাকা আরেক দপ্তরে যাবে। এটা তো তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়। কিন্তু একটি হাসপাতালের বিদ্যুৎ-সংযোগ এভাবে বিচ্ছিন্ন করাটা দুঃখজনক।

দিরাই উপজেলা থেকে জগদল ইউনিয়নে যাতায়াতের জন্য বর্ষায় নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে হাঁটাই ভরসা। সেখানকার ৩৭টি গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য বড় অবলম্বন এ হাসপাতাল। সরকারি দুটি দপ্তরের মধ্যে এমন জটিলতা তৈরি হওয়ায় ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টির দ্রুত সুরাহা করুক।