সংসদীয় কমিটির উদ্যোগ যথার্থ

দুদকের জবাবদিহি

দীর্ঘকাল পরে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) জবাবদিহির বিষয়ে সঠিক প্রশ্ন তুলেছে এবং পদক্ষেপ নিয়েছে। দুদক প্রতিনিধিকে এই সংসদীয় কমিটিতে তলব করার বিষয়টি পুরোপুরি গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মতো বেশ কিছু বিষয়ে দুদকের কার্যক্রমে জনমনে বিরাট সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। বেসিক ব্যাংকের প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে যে উপায়ে দুদক দায়মুক্তি দিয়েছে, তা সাধারণ বিবেচনায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংসদীয় কমিটির কার্যবিবরণী অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকটির সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। এ ঘটনায় দুদক কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করলেও ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি দিয়েছে। দুদক একটি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা সাংবিধানিক মর্যাদাসম্পন্ন সংস্থা হলেও সেটি জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। উপরন্তু কোনো কোনো বিতর্কিত বিষয়ে দুদক ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার গরজ অনুভব করেনি। তারা তাই অনেক সময় অতীতের দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মতো পক্ষপাতমূলক মনোভাব দেখিয়েছে, যা জনগণকে পীড়িত করেছে।
দুদককে ধরবে কেবিভিন্ন সময়ে আমরা যেমন দুদকের এখতিয়ার এবং ক্ষমতা খর্ব করতে নির্বাহী বিভাগ ও আইন সভাকে খড়্গহস্ত দেখেছি, তেমনি দুদককে ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালীদের সন্দেহভাজন অংশের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত, এমনকি পরিকল্পিতভাবে বিরত বা উদাসীন থাকতেও দেখেছি। সাধারণভাবে এটা বলা যায় যে দুদককে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা তারা জনস্বার্থে বিশ্বস্ততার সঙ্গে প্রয়োগ করেনি বলেই প্রতীয়মান হয়।
বিলম্বে হলেও দুদকের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটির উদ্যোগ গ্রহণকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমরা অবশ্যই আশা করব যে সংসদীয় কমিটির এই উদ্যোগের একমাত্র লক্ষ্য হবে দুদকের স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতাকে আরও গতিশীল ও অর্থবহ করতে সহায়তা দেওয়া। নখ-দন্তহীন দুদককে আরও কাবু করা নয়।