
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে অ্যাম্বুলেন্স অপরিহার্য। সরকার এলাকায় এলাকায় যথাসাধ্য অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেও দিচ্ছে। যদিও সেগুলোর ব্যবহার ও পরিচালনা নিয়ে নানা অনিয়ম ও অবহেলার খবর আমরা শুনে থাকি। দ্বীপাঞ্চল, পার্বত্য লেক ও উপকূলীয় এলাকায় যুক্ত হওয়া নৌ অ্যাম্বুলেন্সগুলো নিয়েও একই অভিযোগ। যেমনটা খুলনার দাকোপ উপজেলায় আমরা দেখতে পেলাম। সেখানকার উপকূলীয় দুর্গত এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়েছিল একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু সেটি সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। বরং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের বিনোদন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রটোকল দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, দাকোপের সড়কব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে রোগী পরিবহনে সমস্যা হয়। কিছু কিছু ইউনিয়ন থেকে সদর উপজেলায় আসার প্রধান মাধ্যম নদীপথ। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে নৌ অ্যাম্বুলেন্স দাবি করে আসছিলেন দাকোপবাসী। ২০২০ সালের নভেম্বরে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্সও পান তাঁরা। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পর্কে জানেনই না তাঁরা। ফলে সেটির সেবা থেকেও বঞ্চিত মানুষ। এক বছরে মাত্র ১৫ জনের মতো রোগী বহন করেছে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি। বাকি সময় পড়ে থাকে, নয়তো সরকারি কর্মকর্তাদের ঘোরাঘুরির কাজে ব্যবহার করা হয়। সেখানকার রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলে তার দায়ভার কি সরকারি কর্মকর্তারা নেবেন?
সুতারখালী গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, এলাকার জন্য নৌ অ্যাম্বুলেন্স খুবই দরকার। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রোগী নিয়ে চলাচলে খুবই কষ্ট হয়। অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, তা কেউ জানেন না। সেখানকার সুতারখালী ইউপির চেয়ারম্যানও জানেন না এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সের কথা। তাঁর ভাষ্য, প্রচারণা না থাকলে সাধারণ মানুষ সেটি জানবে কী করে? নৌ অ্যাম্বুলেন্সটির স্থায়ী কোনো চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অজুহাত তুলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। অস্থায়ী চালকের মাধ্যমে সেটি কোনোমতে সচল রাখা হয়েছে। সেটি নিয়েই যে ঘুরে বেড়ানো হয় বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। কথা হচ্ছে ঘোরাঘুরি করা গেলে এক বছরেও কেন স্থায়ী একজন চালক নিয়োগ দেওয়া গেল না। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কেমন বিবেচনাবোধ, নৌ অ্যাম্বুলেন্সকে তাঁদের প্রটোকলে নিতে হবে! জনগণের টাকায় কেনা নৌ অ্যাম্বুলেন্স থেকে জনগণকেই বঞ্চিত করার কোনো মানে হয় না। দেশের বাকি নৌ অ্যাম্বুলেন্স নিয়েও আমরা সন্দিহান।