কোনো শর্ত রাখা যাবে না

মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ হতে হবে

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স সম্পর্কে সাম্প্রতিক বিতর্কের আসল বিষয়টিই এড়িয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে চায় না। এটা তো নতুন কথা নয়। আসল কথা হলো বিয়ের ন্যূনতম বয়সের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত থাকবে কি না। কারণ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশ বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। তিনি মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই বিতর্কিত বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী কিছু না বলায় সংশয় থেকেই গেল।
সরকার ১৮ বছরের নিচে শিশুর বিয়ে চায় নাখসড়া আইনটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গত ১৮ ডিসেম্বর এক অনুশাসন দিয়ে বলেছেন, বিয়ের বয়স ১৮, তবে পিতা–মাতা বা আদালতের সম্মতিতে ১৬ বছর হলে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং সামাজিক সমস্যা কম হবে। এখানেই সবার আপত্তি। কারণ, এখন ১৮ বছরই অনেকে মানতে চায় না। যদি সেখানে শর্তাধীনে বয়সের সীমা দুই বছর কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে রোধ করা আরও কঠিন হবে। শিশুদের জোর করে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাবে।
চিকিৎসাবিদেরা বলেন, ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে ও সন্তান ধারণ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে মৃত্যুঝুঁকি থাকে। বেঁচে থাকলেও তাদের অনেককে সারা জীবন জটিল স্ত্রীরোগে ভুগতে হয়। এটা সমাজ বা পরিবারের জন্য বিরাট ক্ষতি। তাই প্রচলিত ১৮ বছরের আইনের কোনো পরিবর্তন করা উচিত হবে না। শিশু আইন, শিশুনীতি এবং জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদসহ বিভিন্ন সনদে ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সুতরাং বিয়ের ক্ষেত্রে শর্তাধীনে বয়স কমানোর কোনো বিধান রাখলে অনুমোদিত ওই সব সনদের সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক হবে।
খসড়া আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন আছে। আমরা চাই বিয়ের বয়স ১৮-ই থাকুক। কোনো শর্ত রাখা চলবে না।