স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে এসটিএস

সিটি করপোরেশনের এ কেমন সিদ্ধান্ত

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা ও জনমত যাচাই ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভবত আর কোনো দেশে হয় না। এ দেশে সবই সম্ভব। এসব ক্ষেত্রে বরাদ্দ পেতেও কেন জানি ঝামেলা হয় না। অনেক সময় জনকল্যাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও সেটিই হয়ে ওঠে বড় জনদুর্ভোগের কারণ। তেমনটিই আমরা হতে দেখছি ডেমরার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) নির্মাণ ঘিরে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুরোধ এবং আদালতের নির্দেশনার পরেও জবরদস্তিমূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আঙিনায় এসটিএস নির্মাণ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, দুস্থ ও অসহায় মানুষের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডেমরার এক বাসিন্দা সরকারকে নিজের জমি দান করেছিলেন। সেই জমিতেই ১৯৭৭ সালে মাতুয়াইল স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করে সরকার। যদিও জলাবদ্ধতার কারণে কেন্দ্রটি কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এরপর ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ সেখানে ময়লার ভাগাড় নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। অথচ কেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তেজগাঁও থানা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে লিখিতভাবে মেয়রকে জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আবেদন ও আদালতের নির্দেশনা তো ছিলই।

ডিএসসিসির দাবি, জনকল্যাণে ওয়ার্ডভিত্তিক এসটিএস নির্মাণ করা হচ্ছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেশন যথার্থ মনে করেছে বলেই সেখানে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা কীভাবে জনকল্যাণ হয়? এমন কর্মকাণ্ডকে কী করে ‘যথার্থ’ বলে মনে করে ডিএসসিসি? সরকারকে দেওয়া জমির দানপত্রে জমির মালিক উল্লেখ করেছিলেন, যে উদ্দেশ্যে জমি দান করা হয়েছে, সরকার যদি সেভাবে ব্যবহার না করে, তাহলে তাঁর উত্তরসূরিরা জমির মালিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। ডিএসসিসির অবিবেচক কর্মকাণ্ডের কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কি এখন জমিজমা নিয়ে জটিলতায় পড়তে যাচ্ছে না? ডিএসসিসির নির্মাণাধীন আবর্জনা কেন্দ্রটিও তো একই সমস্যায় পড়ার কথা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির এক পাশে এসটিএসের মেঝে নির্মাণের কাজ শেষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একই এলাকায় অন্তত ৬২টি স্থানে খাসজমি আছে। এসব জমির মধ্যে কিছু দখল হয়েছে। কিছু পরিত্যক্ত। সেগুলো উদ্ধার করে এসটিএস নির্মাণ না করে হাসপাতালের আঙিনায় করার কোনো যুক্তি নেই। আমরাও তেমনটি মনে করি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সামনে এসটিএসের নির্মাণকাজ এখনই বন্ধ করা হোক এবং সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হোক।