সর্বনাশা চায়না দুয়ারি জাল

জলাশয়গুলো মাছশূন্য হওয়া থেকে বাঁচান

মাছ চাষে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয় বলা যায়। আবার এর উল্টো পিঠে আছে হতাশাও। কারণ, দেশি মাছের জাত দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। চাষ করা ছাড়া জলাশয়গুলোতে মাছের সুদিন অনেকটা ফিকে হয়ে আসছে। জলাশয়দূষণ, রাসায়নিক বর্জ্য, কীটনাশক ছাড়াও কতিপয় মৎস্যজীবীর লোভের ফলে দুর্দিন নেমে এসেছে দেশি মাছের জন্য। চায়না দুয়ারি নামের একটি ফাঁদ দিয়ে মাছ ধরার কারণে খাল-বিল ও জলাশয়ে কোনো মাছ থাকছে না। অত্যন্ত মিহি ছিদ্রযুক্ত বিশেষ ধরনের এ ফাঁদে আটকে পড়ে সবচেয়ে ছোট মাছ, বাদ যায় না মাছের ডিমও। ফলে মাছের বংশবৃদ্ধিও কমে যায়। নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর এ জালের কারণে শুধু মাছই নয়, হুমকির মুখে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য। মাছের বাস্তুসংস্থান নষ্ট করে দেওয়া এ জাল ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। গত বছর আমরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি সম্পাদকীয় লিখি। কিন্তু চায়না দুয়ারি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।   

এবার আমরা দেখছি, ঢাকার অদূরে গাজীপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে চায়না দুয়ারি। এ ফাঁদের কারণে শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নে জলাশয়গুলো দিন দিন মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। কয়েক বছর আগেও দেশি মাছের বড় ভান্ডার হিসেবে উপজেলায় পরিচিত ছিল ধীরেন বাবুর বিলের। দুই বছর ধরে এ বিলে আর আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার ছোট-বড় ৩০০ বিলের মধ্যে অন্তত ৮০টির অবস্থা এখন এ বিলের মতো। খাল ও নদীগুলোর চিত্র অনেকটা একই রকম। 

জলাশয় মাছশূন্য হয়ে পড়ায় সাধারণ মৎস্যজীবীদের উপার্জনেও টান পড়ছে। অনেকের দৈনিক আয় হাজার থেকে দুই শ টাকায় নেমে গেছে। প্রভাবশালী ও অসাধু মৎস্যজীবীদের দৌরাত্ম্যের কাছে তাঁরা অসহায়। শ্রীপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন বিল, নদী ও নালায় প্রায়ই অভিযান চালাই। এই অবৈধ ফাঁদ জব্দ করি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করার ব্যবস্থা নেব।’ তবে সাধারণ মৎস্যজীবীরা বলছেন, চায়না দুয়ারির উৎপাদনকারীদের শাস্তির আওতায় না আনলে কোনো লাভ হবে না। নামে চায়না দুয়ারি হলেও এ ফাঁদ চীন থেকে আসে না। দেশের মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন কারখানায় এসব ফাঁদ উৎপাদন হয়। সেসব কারখানা বন্ধ করতে হবে। 

নিষিদ্ধ পলিথিনের কারখানা বন্ধ না করে পলিথিন বিক্রির দোকানে অভিযান চালানো হয়। এতে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার রোধ কোনোভাবেই ঠেকানো যায়নি। এখন চায়না দুয়ারি বন্ধ করতে হলে আগে হানা দিতে হবে উৎপাদনের কারখানাতেই। দেশের জলাশয়গুলো দেশি মাছশূন্য হওয়ার আগেই তৎপর হোন।